ধরিত্রীর চক্ষুনীর মুঞ্চনের ছলে,
কংসারির শঙ্খরব সংসারের তলে ৷
                         —রবীন্দ্রনাথ  ঠাকুর


---------------------*****----------------
ছন্দালোচনায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই উদাহরণ দিয়ে যা বুঝাতে চেয়েছেন আশা করি ছান্দসিক মাত্র জানেন এবং পড়েছেন ৷ এই ভাবে অসংখ্য উদাহরণ বাংলা সাহিত্যের ছান্দসিকগণের লিখিত ছন্দশাস্ত্রের বই থেকে প্রমাণ দেয়া যাবে ৷ কিন্তু বোকার স্বর্গে বসবাসকারীদের সুবোধ হবে না৷ যা অতীতে ছিলো তা গোপন করার চেষ্টা করলে সময়ের-তরবারী অবশ্যই কর্তন করবে ৷


অর্থাৎ:— প্রাস্বরিক রীতি, যে রীতিতে মুক্তদল, রুদ্ধদল, যুক্তাক্ষর নির্দিষ্ট ছকবিন্যাসে প্রত্যেক চরণে বা প্রত্যেক দুই চরণে বা প্রত্যেক স্তবকে সমান ভাবে বিন্যস্ত ৷  এই রীতিকে ত্রিমাত্রিকও বলা হয় ৷


ছান্দসিক আব্দুল কাদির তাঁর ছন্দবিষয়ক বইয়ে এ নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং এই রীতিতে যুক্তাক্ষর ব্যবহারের অপ্রতুলতা রয়েছে তাও বলেছেন ৷ কাজেই হালকালে যদি কেউ মাত্রার হেরফের, কাঠামোর ভিন্নতা, যুক্তাক্ষরের ব্যবহার এদিক-সেদিক করে নিজেকে —এর আবিষ্কারক বা জনক বলে দাবি করে তবে বিষয়টি চরম হাস্যকর বটে!


রজনীগন্ধা বাস বিলালো ,
সজনি, সন্ধ্যা, আসবি নালো ?
বঁধুর চিত্তে দোলা রে ছন্দ ,
মধুর নৃত্যে ভোলা রে বন্ধ ৷
                  — যতীন্দ্রমোহন,


----------------********---------------
র জ নী গন/ধা          বাস বি লা লো,
স জ নী সন/ধ্যা       আস বি না লো?


বঁ ধুর চিত/তে        দো লে রে ছন/দ,
ম ধুর নৃত/তে        ভো লা রে বন/ধ৷


কবি যতীন্দ্রমোহ —এর এই স্তবকে প্রথম ও দ্বিতীয় চরণে এবং তৃতীয় ও চতুর্থ চরণে মুক্তদল, বদ্ধদল, যুক্তাক্ষর একই ছক বিন্যাসে রয়েছে৷ এই স্তবকটি প্রাস্বরিক রীতি৷ যাকে ত্রিমাত্রিকও বলা হয়৷


যুগ যুগ পূর্ব হতেই প্রাস্বরীক রীতি বাংলা সাহিত্যের কাব্যশাখায় চলে আসছে৷ কাজেই যারা এগুলোকে নূতন নাম দিয়ে নিজেদের আবৃষ্কারক বা জনক বলছে তা বড়ই হাস্যকর৷


—আশরাফুল ইসলাম