কখনো কখনো শব্দকে ভেঙে দুই ভাগে বিভক্ত করে পর্ব নির্ণয় করতে হয়, এই খণ্ডনকেই মধ্যখণ্ডন বলে৷ পর্ব মধ্যখণ্ডন অনেক লেখাতেই হয়, বিখ্যাতদের কাব্যেও মধ্যখণ্ডন রয়েছে৷ এটি একটি দোষ বটে৷ তবে কিছু মধ্যখণ্ডন সম্পুর্ণ নিষেধ৷ যেমন বন্ধাক্ষর—এর একমাত্রা একদিকে অন্যমাত্রা আরেক দিকে হলে৷


উদাহরণ—


তোমার মনে| আমার বস/ত হয়েছে যে|


'বসত' শব্দে দুইটি অক্ষর৷ ব—মুক্তাক্ষর, সত—বদ্ধাক্ষর, এই চরণে পর্বগুলো ৫ মাত্রার মাত্রাবৃত্ত ধরলে এই বসত—এর 'সত'কে ভাঙতে যাওয়াটা নিষিদ্ধ৷


যুক্তবর্ণ ভেঙে মধ্যখণ্ডনও ঠিক নয় তবে নিষিদ্ধ নয় ত্রুটি বটে৷


উদাহরণ—


আজকে সত্য প্রকাশাতি


এই পদে 'আজকে সত/তো প্রকাশিত'


৫ মাত্রার পর্ব ধরলে 'সত্য' শব্দের মধ্যে যে খণ্ডন হয় সেটা যুক্তবর্ণের দুই অংশ দুই দিকে নিতে হয় অর্থাৎ— সত/তো এখানে 'সত ' বদ্ধাক্ষরটি এক পর্বের সাথে আর 'তো' মুক্তাক্ষরটি অন্য পর্বের সাথে যাচ্ছে৷ এটা ত্রুটিযুক্ত মধ্যখণ্ডন নিষিদ্ধ নয়৷ (তবে যদি 'সত' অক্ষরকে ভেঙে একমাত্রা একপর্বে আর আরেক মাত্রা অন্যপর্বে নিতে হতো তবে নিষিদ্ধ মধ্যখণ্ডন৷ আসল কথা হলো এই জাতিয় পর্বখণ্ডন কখনো হয় না৷)


অন্ধ জাতির স্বভাবটা মন্দ ভাই,


অন্ধ জাতির|৬ স্বভাবটা মন/৬ দ ভাই,৩ (মাত্রাবৃত্ত)


সাধারণ মধ্যখণ্ডনের উদাহরণ—


আমার ভালো/৪বাসা হলো|৪ কাল১
তুমি বুঝি|৪ উড়াও সখী|৪ পাল১


স্বরবৃত্তে ৪+৪+১ মাত্রার দুইটি চরণ৷
এখানে ভালো/বাসা শব্দের মধ্যে পর্ব মধ্যখণ্ডন হয়েছে৷


মধ্যখণ্ডন এড়িয়ে লেখাই ভালো৷ তবে প্রথম উদাহরণ মতো খণ্ডন নিষিদ্ধ, দ্বিতীয়টা ত্রুটিযুক্ত, তৃতীয়টা সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত নয়৷