পর্বালোচনা:-
আশরাফুল ইসলাম


এক নিঃশ্বাসে বা এক ঝোঁকে চরণের বা পংক্তির যতটুকু অংশ উচ্চারণ করা যায় তার নাম পর্ব(Measure বা Bar)৷


অথবা, এক হ্রস্ব যতি হতে অন্য হ্রস্ব যতি পর্যন্ত দূরত্বকে পর্ব বলে৷


পর্ব প্রথমত ২ প্রকার, ১/ পূর্ণপর্ব ২/ অপূর্ণ
পর্ব৷


অপূর্ণ পর্ব আবার দুই প্রকার-
১/ উপপর্ব ২/ অতিপর্ব৷

মূলপর্ব বা পূর্ণপর্বের পূর্বে যে অপূর্ণ পর্ব থাকে, তাকে উপপর্ব বলে৷ পূর্ণপর্বের শেষে যে অপূর্ণ পর্ব থাকে, তাকে অতিপর্ব বলে৷ উপপর্ব  অতিপর্ব থেকে ছোট হওয়া স্বাভাবিক নিয়ম, তবে অনেকেই উপপর্বকে অতিপর্ব থেকে বড় নিয়ে থাকেন, সমান হলেও চলবে৷ উদাহরণ:-


(/) চিহ্ন দিয়ে আমরা পর্ব আলাদা করবো৷


আমি/২ ভালোবাসি ফুল/৬ আর পাখি/৪
তুমি/২   রেগে গিয়ে তাই/৬ দাও ফাঁকি/৪


আমি, তুমি/ উপপর্ব৷


ভালোবাসি ফুল, রাগ করে তাই/ পূর্ণপর্ব বা মূলপর্ব৷


আর পাখি, দাও ফাঁকি/ অতিপর্ব৷


(অক্ষরবৃত্তে ও মাত্রাবৃত্তে সমান মাত্রা এই দু'লাইনে, অর্থাৎ ২+৬+৪ মাত্রা)


অতিপূর্ণ পর্ব:- কেউ কেউ চরণের শেষ পর্বটি অন্যপর্বের চেয়ে বড় হলে সেটাকে অতিপূর্ণ পর্ব বলেন৷

যেমন:- ৬+৬+৮ এখানে ৮ মাত্রার পর্বটি অতিপূর্ণ পর্ব৷


একটি কবিতাতে তিন প্রকারের পর্বই নেয়া যায়,
অর্থাৎ- (উপপর্ব+পূর্ণপর্ব/মূলপর্ব+অতিপর্ব),


একটি কবিতার চরণে(উপপর্ব+পূর্ণপর্ব বা মূলপর্ব) নেয়া যায়,


একটি কবিতার চরণে (পূর্ণপর্ব+ অতিপর্ব) নেয়া যায়,


একটি কবিতার চরণে শুধু মূলপর্ব বা পূর্ণপর্ব নেয়া যায়,


কবিতার প্রত্যেক চরণে একের অধিক পূর্ণপর্ব নেয়া যায়৷


কেউ কেউ পর্বকে তিন প্রকার বলে নাম দিয়েছেন-
১/ উপপর্ব ২/ পূর্ণপর্ব বা মূলপর্ব ৩/ অতিপর্ব৷


কেউ কেউ পর্বকে ৪ প্রকারে ভাগ করেছেন-


১/ অপূর্ণ পর্ব: চরণ বা পংক্তির শেষ পর্ব অন্যান্য পর্বের চেয়ে কম মাত্রার হয় তখন তাকে অপূর্ণ পর্ব বলে৷
২/ অতিপর্ব: অনেক সময় পংক্তির শুরুতে অতিরিক্ত একটি ছোট পর্ব থাকে যার সঙ্গে অন্য পর্বের সমতা থাকে না৷
৩/ অতিপূর্ণ পর্ব: সমপার্বিক ছন্দে পংক্তি বা চরণের শেষের পর্বটি অন্য পর্বের চেয়ে বড় হলে অতিপূর্ণ পর্ব বলে৷
৪/ পূর্ণপর্ব: চরণ বা পংক্তির মূল পর্বকে পূর্ণপর্ব বলা হয়৷


আগে পর্বকে পদ বলা হতো, এখনও অনেকে বলেন৷