بسم الله الرحمن الرحیم


*স্বরবৃত্তের আলোচনা*
   আশরাফুল ইসলাম


স্বরবৃত্ত হলো দ্রুতলয় ছন্দ, এ ছন্দে পূর্ণপর্ব ৪ মাত্রা,
অপূর্ণ পর্ব ৩/২/১ মাত্রা৷ স্বরবৃত্তকে দলবৃত্ত, ছড়ার ছন্দও বলা হয়৷ স্বরবৃত্তে ঘনঘন যতি পড়ে এবং একে শ্বাসাঘাত প্রধান ছন্দও বলা হয়৷


স্বরাঘাত বা শ্বাসাঘাত বা প্রস্বর(Accent বা Stress):


কবিতা আবৃত্তি কালে পর্বের প্রথমে যে বিশেষ জোর বা ঝোঁক পড়ে তাকেই স্বরাঘাত বা শ্বাসাঘাত বা প্রস্বর বলা হয়৷ কারও কারও মতে এটা "বল"৷
সাধারনত স্বরবৃত্ত ছন্দে প্রস্বরের প্রভাব বেশি পরিলক্ষিত হয়৷ প্রত্যেক চরণের প্রত্যেক পর্বের শুরুতে প্রস্বর করা হয়৷ প্রস্বর- এর জন্য পর্বের শুরুতে বদ্ধস্বর ব্যবহার করা উত্তম৷


স্বরবৃত্তে মুক্তাক্ষর বা মুক্তস্বর এক মাত্রা,
বদ্ধাক্ষর বা বদ্ধস্বরও এক মাত্রা৷


স্বরবৃত্তে সহজ-সাবলীল শব্দ ব্যবহার করতে হয়,
কঠিন ও লম্বা শব্দ ব্যবহারে তাল, লয় নষ্ট হয়ে যায়৷


স্বরবৃত্তের মাত্রা নির্ণয়:-


আমার আমিন ভর্তি হলো
ইফতাতে আজ ভাই
দু'বছর পর মুফতি হবে
মনে শান্তি তাই৷


ভদ্র অতি, দেখতে দারুণ
কাব্য লিখে বেশ,
বিয়ের কাজটা সেরে নেবে
ইফতা হলে শেষ৷


আমার= আ১+মার১=২, আ মুক্তাক্ষর তাই একমাত্রা, মার বদ্ধাক্ষর তাই ১ মাত্রা,


মুক্তাক্ষরকে মুক্তস্বর আর বদ্ধাক্ষরকে বদ্ধস্বরও বলা হয়৷ স্বরবৃত্তে বদ্ধস্বর ও মুক্তস্বর ব্যবহার করা ভালো৷


আমিন= আ১+মিন১,(আ- মুক্তস্বর, মিন- বদ্ধস্বর৷
ভর্তি= ভর১+তি১,(ভর- বদ্ধস্বর, তি- মুক্তস্বর)৷


এবার পর্বে আসি:- প্রত্যেক লাইনে এক যতি থেকে অন্য যতি পর্যন্ত ব্যবধানকে পর্ব বলে


পর্বকে আমরা / চিহ্ন দিয়ে আলাদা করবো৷


আমার আমিন/৪ ভর্তি হলো/৪
ইফতাতে আজ/৪ ভাই১    
দু'বছর পর/৪ মুফতি হবে/৪
মনে শান্তি/৪ তাই৷১


ভদ্র অতি,/৪ দেখতে দারুণ/৪
কাব্য লিখে/৪ বেশ,১
বিয়ের কাজটা/৪ সেরে নেবে/৪
ইফতা হলে/৪ শেষ৷১


এখানে পূর্ণপর্ব ৪ মাত্রা অপূর্ণ পর্ব ১ মাত্রা৷
মাত্রা বিন্যাস:- ৪+৪+৪+১ বা ৪+৪/৪+১ মাত্রা৷


স্বরবৃত্তে প্রত্যেক পূর্ণপর্বে একটি বদ্ধস্বর থাকতে হয় আর সেটা পর্বের প্রারম্ভে হলে খুব ভালো হয়৷ তবে রাখতেই হবে এমন নয়৷


আমার এই কবিতায় একটা পূর্ণপর্ব বদ্ধস্বর বিহীন আছে যথা— (সেরে নেবে)=৪ কিন্তু কোনো বদ্ধস্বর না হওয়াতে এ পর্বটি আদর্শ স্বরবৃত্তের পর্ব হয়নি৷ (সে১- মুক্তস্বর, রে১- মুক্তস্বর,
নে১- মুক্তস্বর, বে১- মুক্তস্বর)৷


স্বরবৃত্তের ব্যতিক্রম এবং বিশেষ নিয়ম-


১/ ৩ মাত্রার পূর্ণপর্ব৷
২/পাঁচ মাত্রার পূর্ণপর্ব৷
৩/ পরপর ৩ বন্ধস্বর ৪ মাত্রা ধরা৷
৪/ পরপর ২ বদ্ধস্বর ৩ মাত্রা ধরা৷
৫/ পরপর ৫ মুক্তস্বর ৪ মাত্রা ধরা৷
৬/ পরপর ৩ মুক্তস্বর ৪ মাত্রা ধরা৷
৭/ নিরুপায় হয়ে অথবা ব্যাপৃত বা সংকোচিত উচ্চারণে মাত্রা সমতা দেয়া৷


তবে এই নিয়মগুলো চর্চার উপর এবং দক্ষতার উপর নিতে হবে যেনো তাল-লয় না কাটে এবং মুখে না আটকে৷


বিঃদ্রঃ ব্যতিক্রম ও বিশেষ নিয়ম কেউ না মানলে সেটা তার ইচ্ছা৷ ব্যতিক্রম ও বিশেষ নিয়ম এড়িয়ে লেখাই ভালো৷ তবে বাংলা সাহিত্যে ছন্দশাস্ত্রে ব্যতিক্রম ও বিশেষ নিয়ম অবশ্যই রয়েছে৷