হে বাঙালি জাতির পিতা,
খুব মনে পড়ছে আজ আপনাকে-
মনে পড়ছে আপনার কথাগুলো।
আপনি বলেছিলেন-
এই দিনমজুর নাকি এদেশের চালিকা শক্তি।
ওসব কথা এখন থাক,পিতা।
কারণ,আপনার আদর্শগুলো এ জাতি-
গালভরা বক্তৃতার ভীড়ে হারিয়ে ফেলেছে।


আমি আমার কথাই বলি,
বর্তমানের কথা বলি।
আমি শুধু বাঁচতে চেয়েছিলাম,পিতা।দু'বেলা দু'মুঠো খেয়ে বাঁচতে চেয়েছিলাম।আমি আমার পরিবারকে বাঁচাতে চেয়েছিলাম।
আমার ছোট ছোট ক্ষুধার্ত সন্তানের মুখে আহার তুলে দিতে চেয়েছিলাম।
গত দু'দিন আমার ঘরে উনুন জ্বলেনি।আমি অনেকের কাছে-
করজোড়ে ঋন চেয়েছিলাম-
কিন্তু পাইনি।


সবাই নাকি সারা মাসের বাজার ঘরে কিনে রেখেছে,সবার নাকি হাত খালি।আমি আমার সন্তানের মুখের দিকে তাকাতে পারিনা-
আমার স্ত্রীর চোখে চোখ রাখার সাহস পাইনা।
পিতা,আপনি জানেন কি?
দেশে এখন নতুন ভাইরাসের রাজত্ব চলছে।
আমরা দিন মজুর এর যাঁতাকলে নিষ্পেষিত হচ্ছি।
ঘর থেকে বের হওয়া নিষেধ।
কাজ-কাম সব বন্ধ।
কাজ না করলে খাব কি পিতা?
কেউ তো আমাকে সামান্য খাবার দেইনি?
নিরুপায় হয়ে কাজের সন্ধানে বের হয়েছিলাম।
পিতা,স্বস্তি পাওয়ার কিছু নেই আপনার।আমি কাজ করতে পারিনি পিতা;
ওরা আমাকে কাজ করতে দেয়নি।তবে,আমাকে ওরা পুরস্কৃত করছে।
দেখো পিতা,ওরা আমার পিঠে কিভাবে পিটিয়েছে।
আমি ঘরে এসে স্ত্রী ছেলে-মেয়ের কষ্টের কথা ভেবে গায়ের জামাটা খুলিনি।পিতা,আরো একটা সম্মান ওরা করেছে আমায়।
আমার মেয়ের বয়সী একজন-
আমাকে কান ধরিয়ে দাড় করিয়ে রেখেছিল।
মেয়েটা কিসের জানি ক্যাডার;
অনেক বই পড়েছে নাকি।
পিতা বিশ্বাস করেন-
ও আমার মেয়ের বয়সী,
কিন্তু আমার মেয়ের মতো নয়।
আমার মেয়ে ওর মতো ক্যাডার নয়,পিতা।
এই বাংলায় কোন বাবার-
এমন মেয়ে থাকতে পারেনা,পিতা।ওহ,ভুলে গিয়েছি;
কান ধরা অবস্থায় আমার ছবিও তুলেছিল ওরা।
আমি আমার এই প্রাপ্তির গল্পটা ঘরের কাউকে বলতে পারিনি।
বাইরের কাউকে বলার সুযোগ ও নেই।সবাই ঘরে খায় - দায়,ঘুমায়।আমিই নির্ঘুম আর অনাহারী।
আচ্ছা পিতা,ওরা কি জানেনা,
কাজ ছাড়া আমাদের খাবারের কোন ব্যবস্থা নাই?
শুনেছি,ওরা নাকি ছুটিতে থেকেও বেতন-বোনাস পায়।
আমাদের কষ্ট ওরা কি বুঝবে?পিতা,আমার দেহে এই ভাইরাসের সংক্রমণ হলে-
চোদ্দ-পনেরো দিন পরে হয়তো আমি এবং আমার পরিবার মৃত্যুর দিকে ধাবিত হবো।
কিন্তু পেটের ভিতর ক্ষুধার ভাইরাসগুলো- যেভাবে মহামারি আকার ধারণ করেছে;
মৃত্যু হয়তো বেশি দূরে নয়।


পিতা,আমিতো করোনার সাথে লড়াই করে হলেও ১৫ টা দিন বেশি বাচতে চেয়েছিলাম।


আমার কি বাচার অধিকার নাই?
আমার কি অন্ন সংগ্রহের অধিকার নাই?
আমি কি তোমার সন্তান নই?
আমি কি এ দেশমাতৃকার সন্তান নই?


আপনি তো বলেছিলেন-
আমরা নাকি দেশের মালিক।
বড় অবাক লাগে,পিতা।এরা মালিকের গায়ে-
বিনা অপরাধে আঘাত করলো!
অপমান করে আবার ছবিও তুললো!
ওরা বড় অকৃজ্ঞ-
বড় বিবেকহীন,পিতা।
না হয়,ওরা আপনাকে এত তাড়াতাড়ি- আমাদের থেকে কেড়ে নিতে পারতোনা।


পিতা,শুনেছি-
ওরা নাকি ঘরে ঘরে খাবার পৌঁছে দিবে।সেটা দেখার সৌভাগ্য হয়তো আমার আর হবেনা।
অনেক কথা বলেছি,
হয়তো অনেক ভুলে ভরা আমার কথাগুলো।
কিন্তু আমি জানি-
আপনার সে উদার হৃদয়ের ভাষায় আপনি ঠিকই এর অর্থ বুঝে নিবেন।
তবু,ক্ষমা চাই,হে দিন মজুরের বন্ধু,বুকের বাঁ পাশে থাকা,বঙ্গবন্ধু।