মাঘের শীতে যে পাখি ঘর ছাড়ে; সে জানে না তার গন্তব্য
অথচ একটু উষ্ণতার জন্য উড়ে চলে পাখি পৃথিবীর পথে
যে পাখি নিজ ঘর ছাড়ে, তার কী আর ঘরের অভাব?


অতঃপর আমিও অতিথি পাখি হতে চেয়েছিলাম;
সকল দুঃখ-কষ্টকে জলাঞ্জলি দিয়ে নেমেছিলাম পথে
ছিল না কোনো মায়ার বাঁধন, ছিল নাকো কোনো পিছুটান
তবুও সন্ন্যাসী হতে পারিনি; দিন শেষে ফিরেছি নীড়ে।


হে প্রিয়তমা আমার, তুমি হীন একলা এই আমি সহস্র রাত
ভাঙা ঘরে চাঁদের আলোয় এবং অমাবস্যার অন্ধকারে
বিরামহীন নক্ষত্র গুনি সোবহে সাদিক পর্যন্ত
দুচোখে বাসা বাঁধতে পারেনি প্রিয়সখী ঘুমপাখি।
তোমার যে সুপ্ত ভালোবাসার একবিন্দুও পাইনি কখনো
আমি বারবার হেরে যাই সেই ভালোবাসার কাছে।


হে প্রিয়তম বন্ধু, জানো পৃথিবীতে ভালোবাসা বলতে কিছু নেই
আমি তবুও ভালোবাসার অপরাধে নতজানু হয়ে বসি
বিবেকের আদালতে; করজোড়ে অনুরোধ করি, "হে ধর্মাবতার,
আমাকে মৃত্যুদণ্ড নয়; এরও বেশি যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দিন
আর যেন কেউ পা না বাড়ায়, এই অলিক ভালোবাসার রথে।"


বিজ্ঞ বিচারক আমার রায় দেন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
তোমরাই বল হে বন্ধুরা, এ কেমন বিচার?
তিলেতিলে কষ্টের চেয়ে আমি একবারই মরতে চেয়ে
বারবার মরি ভীরু-কাপুরুষদের মতো এই স্বার্থান্ধ ধরায়
হে ঈশ্বর, এ থেকে আমাকে মুক্তি দাও; আমি মুক্তি চাই।