আমরা জানি, একটি বাড়ি নির্মাণের জন্য কেবল নির্মাণসামগ্রীই যথেষ্ট নয়- প্রয়োজন বাড়িটির একটি নকশা। নিখুঁত নকশা এবং নির্ভেজাল নির্মাণসামগ্রীর সমন্বয়ে তৈরি হয় একটি আদর্শ বাড়ি; যা দেখতে সুন্দর এবং টেকসই হয়। তেমনি চমৎকার বিষয়-বক্তব্য এবং ভাবের গভীরতা থাকা সত্ত্বেও একটি কবিতার অকালমুত্যু হতে পারে দুর্বল গাঁথুনী এবং কাঠামোর জন্য। এভাবে কত শত কবিতার যে প্রতিনিয়ত অকালমুত্যু হচ্ছে, তার খোঁজ কী আমরা রাখি না রাখার চেষ্টা করি।


এবার আসল কথায় আসি- সচেতন কবিমাত্রই স্বীকার করবেন, সমিল (অন্ত্যমিল) কবিতার ক্ষেত্রে যেকোনো একটি মূল ছন্দ (স্বরবৃত্ত, অক্ষরবৃত্ত, মাত্রাবৃত্ত) বজায় রাখা অত্যাবশ্যক। ছন্দহীন সমিল কবিতা বড়ই খাপছাড়া লাগে। তবে যে কোনো ছন্দে কবিতা রচনার ক্ষেত্রে মিল জরুরি নয়। মিলহীন কবিতাও ছন্দোবদ্ধ হতে পারে। ছন্দোবদ্ধ কবিতায় নির্দিষ্ট মাত্রার একটি মূলপর্ব থাকে; যা পুরো কবিতায় রক্ষিত থাকে। যেমন-


গোলাপ ফুলের / চারাটিতে    ৪+৪
দু-দিন ধরে / জল পড়েনি,    ৪+৪
কাঠফাটা এই / তপ্ত দুপুর-    ৪+৪
পত্রগুলো / ঝিমায় রোদে।     ৪+৪


(একটি গোলাপ চারা)    


কবিতাটি স্বরবৃত্তে রচিত। এর মূলপর্ব চার মাত্রার।
মূলপর্ব ছাড়াও কবিতায় অপূর্ণ পর্ব এবং অতিপর্ব থাকতে পারে। যেমন-


আজ / তোমার চোখে / আছি ভালো        ১+৪+৪
কাল / চাঁদের আলোয় / চোখ ধাঁধালো     ১+৪+৪
আমি হলেম / পর;                            ৪+১
ভাঙলে রঙিন / স্বপন দিয়ে                   ৪+৪
বাঁধা সুখের / ঘর।                             ৪+১


(চোখের আলো)


স্বরবৃত্তে রচিত এই কবিতায় চার মাত্রার মূলপর্ব ছাড়াও ১ম এবং ২য় চরণে এক মাত্রার অতিপর্ব যথাক্রমে ‘আজ’ এবং ‘কাল’। ৩য় এবং ৫ম চরণে এক মাত্রার অপূর্ণ পর্ব যথাক্রমে ‘পর’ এবং ‘ঘর’। প্রথম কবিতাটি ছিল স্বরবৃত্তে রচিত অমিল (অন্ত্যমিল নেই), দ্বিতীয় কবিতাটিও স্বরবৃত্তে রচিত কিন্তু সমিল (অন্ত্যমিল আছে)। আবার, সমিলযুক্ত মুক্তছন্দ বা গদ্যছন্দের ক্ষেত্রেও একটি মূলপর্ব রক্ষা করে চলতে হয়।