================================


আমি কি ক্রমশ একজন প্রতিবন্ধী হয়ে যাচ্ছি,
মূক, বধির, দৃষ্টি কিংবা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী।
আমি তো হাটতে পারি, গাইতে পারি
চশমা ছাড়া দেখতে পারি,
বৃষ্টির দিনে তরতরিয়ে কদম ফুল ছিঁড়তে পারি,
তবুও কেন মনে হচ্ছে,
আমি ক্রমান্বয়ে একজন প্রতিবন্ধী হয়ে যাচ্ছি।


একটা সময় ছিল,
মিছিলে যাওয়ার জন্য কি উদগ্র অপেক্ষা,
রক্তে টগবগে প্রতিবাদের অন্তহীন উত্তেজনা,
বন্দুকের উদ্ধত নলের সম্মুখে,
নিজেকে বিলিয়ে দেয়ার কি উন্মত্ত চাওয়া, প্রতিজ্ঞা
কি বলিষ্ঠতা কণ্ঠে,
অবাধ্য তারুণ্যের অহংকার,
সব কিছু ছিঁড়ে খুঁড়ে চুরমার করে,
ছিনিয়ে নিতে হবে নাম মাত্র মানুষের প্রাপ্য অধিকার।


আর এখন, কিছুতেই মিছিলে যেতে ইচ্ছে করে না,
সহস্র কণ্ঠের বজ্র নিনাদ হুঙ্কার,
এখন আর আমাকে উদ্বেলিত করে না।
রাত জেগে দেয়ালে দেয়ালে
আগুন ঝরা স্লোগান লিখাকে এখন বাহুল্য মনে হয়।
নাবালিকা ধর্ষিতার বুকফাটা কান্না,
আর ছেলেহারা মায়ের আর্ত চিৎকার,
আমি এখন শুনতে পাই না।
দেশ বিক্রি হয়ে গেলেও
এখন আমার আর কিছু যায় আসে না।
আমার প্রতিবাদী কণ্ঠ এখন রুদ্ধ,
আমার বলিষ্ঠ হাত এখন পক্ষাঘাত গ্রস্ত।
আমার কলম থেকে এখন আর রক্ত ঝড়ে না,
বুকে জ্বালা ধরায় না দ্রোহী কবিতা।
আমার সব কথা, সব ভাষা, চেতনা
কেমন গুটিয়ে গেছে অন্ধকারে, অক্ষমতায়, অচেনা।


হয়তো এজন্যই মনে হচ্ছে,
ক্রমশ একজন প্রতিবন্ধী হয়ে যাচ্ছি আমি,
একজন শক্ত সামর্থ্য বলিষ্ঠ কর্মঠ প্রতিবন্ধী।
হয়তো প্রতিবন্ধী থাকাটাই এখন বেশি নিরাপদ,
তাই হয়ে যাচ্ছি প্রতিবন্ধী।


==============================================