===========================


অজস্র বিনিদ্র রজনী শেষে, অবশেষে
কবি একটি কবিতা লিখতে পারলেন।
কবিতা হলো, কি হলো না
তাতে কবির কিছু যায় আসে না ।
অনেক দিনের জমে থাকা নপুংসক পঙক্তিমালা
মাত্রাহীন ছন্দ, এলোমেলো ভাবনা
সবকিছু এক সাথে উগরে দিতে পেরে
কবি ভীষণ আনন্দিত।
কবির চোখে মুখে যুদ্ধ জয়ের উল্লাস
মাথার ভিতর পুরো একটা মুক্ত নীল আকাশ
কবি আজ শৃঙ্খল মুক্ত।


কবি ভাবলেন, অনেক তো  কবিতা হলো
এবার কিছুটা সময় থাক, নিজের মতো
কবি আনমনে হাটতে শুরু করলেন।
রাতের জমে থাকা শিশির কবির পা ধুয়ে দিলো
মুক্ত বাতাস কবির চুলে বিলি কাটলো
কাশফুল ঝাউবন অভিবাদনে নত হলো
কবি হাটতে হাটতে পেরিয়ে গেলেন
জনপথ, প্রান্তর, শহর, দেশ-দেশান্তর কত  
সবুজ মাঠ, পাহাড়, জলপ্রপাত, মহা সমুদ্র শত।


কবি দেখলেন,
ছিন্ন বসনে শ্রান্ত কৃষকের মুখে অনাবিল হাসি
বহুদূর গন্তব্যে মাঝির কণ্ঠে উদার ভাটিয়ালি
দুরন্ত কিশোরের হাতে নাটাই ঘুড়ি
বেণী দুলিয়ে নৃত্যরত চঞ্চলা কিশোরী ।


আরও  দেখলেন,
অভুক্ত মানুষের ক্ষুদার্থ চোখ
উচ্ছিষ্ট নিয়ে কাড়াকাড়ি  
ধর্ম আর বর্ণের রক্তের হোলি খেলা
ঘৃণা, বিদ্বেষ, সংঘাত আর লাশ সারি সারি।  


কবি শুনলেন,
ধর্ষিতার বোবা কান্না,
আধিপত্য আর সাম্রাজ্যবাদের বোমার আঘাতে
ছিন্ন বিচ্ছিন্ন মায়ের লাশের পাশে
রক্তাক্ত সেই শিশুর স্রষ্টার কাছে অশ্রুসজল আহাজারি।  


এভাবেই, হাটতে হাটতে
কবির মন কখনো আনন্দে আপ্লুত হলো।
আবার কখনো বা
গভীর বেদনায়  অশ্রুসজল হলো ।
তবে কবি আশাহত হলেন না,
মানুষ আর মুখোশের এ প্রানান্ত টনাপড়েন
কবিকে বিচলিত করলো না ।
কারণ, কবি যে জানেন
আগ্নেয়গিরির প্রচন্ডতায় আছে সুপ্ত তারুণ্য
জীবন যাদের কাছে নস্যি, অতি নগণ্য  
যখন প্রয়োজন, হবে বিস্ফোরণ
প্লাকার্ডে, স্লোগানে, মিছিলে ছেঁয়ে যাবে রাজপথ
প্রতিবাদে মুষ্টিবদ্ধ হাত, দৃপ্ত শপথ
অবিরাম বয়ে যাবে রক্তের স্রোত  
তাজা রক্তে শোধ হবে আজন্ম ঋণ
পবিত্র হবে মাটি
নতুন সম্ভাবনায় উঁকি দেবে নতুন একটি দিন।


আসলে, স্বপ্নরা কখনো শেষ হয় না
যেমন শেষ হয় না কবিতা লিখা
কবিরা স্বপ্নদ্রষ্টা, স্বপ্নের ফেরিওয়ালা  
কবির কলম চলতেই থাকে।


কবি, স্মিত হেসে,
টেনে নিলেন আবার
কলম আর কবিতার খাতা ।
===============================
  

(জুলাই, 20১৯ এ "একজন ব্যর্থ কবির কথা" নামে একটা কবিতা লিখেছিলাম। প্রায় একবছর পরে সেই ব্যর্থ কবির পরবর্তী  ভাবনা )