======================


কিছু বলছি না দেখে ভেবো না,
বলতে পারি না।
প্রতিবাদ করছি না দেখে ভেবো না,
মেরুদন্ডহীন ভীরু কাপুরুষ আমি,
কৃশকায়, শীর্ণ, মূক, বধির, বোবা।
ভেবো না,
তোমার ভয়ে দুমড়ে মুঁচড়ে কুঁকড়ে,
শামুকের খোলসে গুটিয়ে যাবো,
চিরকাল সব মুখ বুঁজে সইবো,
গরম সীসা ঢেলে চোখ অন্ধ করে দেবো,
দেখবো না কিছুতেই ,
মেনে নেবো সব নির্দ্বিধায়,
গোলকধাঁধায় শুধু ঘুরতেই থাকবো, ঘুরতেই থাকবো
অসহায়, অনুপায়।
ভেবো না,
শুধু কুর্নিশ করার জন্যই জন্মেছি আমি,
খণ্ড জীবনের অখণ্ড আবর্তে, হাত করজোড়ে
শুধু বেত্রাঘাতই পিঠে সইবো।
ভেবো না,
শুধু রক্ত দিয়েই যাবো।


একদিন,
সবকিছুর হিসেব নেবো,
যত অপমান, ঘৃণা, দ্রোহ, রক্ত চক্ষু, অশ্রু
যা জমছে প্রতিদিন,
একটু একটু করে,
তুষের আগুন, যা বাড়ছে প্রতিদিন।


একদিন,
সব উগড়ে দেবো।
সহস্র ব্যাঘ্রের গর্জনে,
অযুত বজ্রের সুতীক্ষ্ণ ফলায়,
তোমার তথাকথিত সুরক্ষিত অভেদ্য বর্ম,
এফোঁড় ওফোঁড় করে দেবো।
বাঁধ ভাঙা প্রমত্তা সুনামির তোড়ে,
সবকিছু ভাসিয়ে নিয়ে যাবো,
খড়কুটোর  মতো,
যেমন ভেসে গিয়েছিলো,
ব্রিটিশ, পাক, স্বৈরাচার, হানাদার  
পালানোর পথ থাকবে না তোমার।
যখন বলবো, যখন সিঙ্গা বাজাবো
কিছুতেই থামবো না আর,  
ভেঙে চুরে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে সব ছারখার দেবো,
নিশ্চির্ণ করে দেবো, তোমাকে ।


নিশ্চিত জেনো,
যতদিন তুমি থাকবে,  
তত দিনই আমি থাকবো।
বার বার বিস্ফোরিত হবো,
তারপর, আবার জন্মাবো
আবার বিস্ফোরিত হবো,
অবিনাশী তারুণ্যের এ ঝংকার চলতেই থাকবে,
যতদিন তুমি বা তোমারা আছো।


==================================