(গতকাল ২৯ শে জুলাই ছিলো পন্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রয়াণদিবস l এই রচনায় তাঁকে অন্তরের শ্রদ্ধা জানাই)


পুরুষসিংহ :  যাদব চৌধুরী


সিংহ তুমি বনে থাকো জানি সেটা জানি
বনের রাজা তুমি বটে সেটাও সবাই মানি |
পুরুষ সিংহ থাকেন ঘরে সেটাও নাও শুনে
বীরসিংহ গ্রামে জন্ম ইংরাজি ১৮২০ সনে |
ঈশ্বরচন্দ্র নাম তাঁর তখন হুগলি জেলায়
এখন পশ্চিম মেদিনীপুর প্রশাসনিক খেলায় |
পড়াশোনায় বেজায় তুখোড় বিদ্যাসাগর নামে
পরিচিত হলেন তিনি এই ধরাধামে |
তার সঙ্গে সংস্কারে দিলেন তিনি মন
ভাষা সমাজ নারীকল্যানে আত্মসমর্পন l
নারীশিক্ষার প্রসার শুরু তাঁর হাত ধরে
বাল্যবিবাহ বহুবিবাহ কুপ্রথা গেলো সরে l
বিধবা বিবাহ আইন পাশে সফলতা পেলেন
সমাজে তার রূপায়ণে অনেকদূর গেলেন l
আত্মশক্তি মাতৃভক্তি দেশের দশের জন্য  
সদাই ছিলেন ন্যস্ত তিনি ধন্য তিনি ধন্য |


অনেক অনেক গল্পকথা আছে তাঁকে ঘিরে
প্রতিটি গল্প তুলে ধরে সোনা নন তিনি হীরে |
সাঁতরে হলেন দামোদর পার মা'কে ভালোবেসে
টেবিলের ওপর জুতো ওঠে উচিত শিক্ষা বেশে |
সাগরের নোনা জল শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণকে অর্পণ
'কুলি' 'কুলি' গল্পে পাই শ্রমের মর্যাদার দর্শন |
আ-কার যখন অতিরিক্ত আসে ব্রাহ্মণের কথায়
অশিক্ষা তাঁর টের পান অতি গভীর ব্যথায় l
মাইকেলকে টাকা পাঠান দয়ার সাগর তিনি
কতো কতো লোকের মুক্তি তাঁর অর্থে জানি |
জুতো ছুঁড়ে মেরেছিলেন গিরিশের অভিনয়ে
কোমল হৃদয় ভেতরে তাঁর তার পরিচয়ে |
গোটা গ্রামে চাদর বিলি শীতের আগমনে
মায়ের ইচ্ছা করেন পূরণ সাবাস সে সন্তানে |
কলকাতা যাবার সময় পদব্রজে তিনি
ইংরাজি সংখ্যা সব নেন এক দিনে চিনি |
পড়ায় এমন মনোযোগী বিয়ের বাজনা গেলে
কিছুই টের পান না তিনি পড়া পাগল ছেলে |
ল্যাম্পপোষ্টের আলোয় পড়েন বেঁধে টিকি চুলে
ক্লান্তির ঘোরে পাছে না তিনি পড়েন ঘুমে ঢলে |
বাংলা গদ্য মুক্তি পেলো তাঁরই হাত ধরে
'বর্ণপরিচয়' আজও অমর বাংলার সব ঘরে  |
'ব্যাকরণ কৌমুদী' পড়ি ইস্কুলে সবাই
এ এক অমোঘ পুস্তক ভাষাখানি শেখায়  |
আর তাঁর সিংহ সত্তা সব বিষয়ে প্রবল
রবীন্দ্রনাথ স্বীকার করেন এই বাংলায় বিরল |


শেষ জীবনে অতি কষ্টে স্বজন বিহীন হয়ে
দিনগুলি কেটেছে তাঁর খেয়ে এবং না খেয়ে |
তবু কোনোদিন কারো কাছে করেন নি মাথা নত
নীতি আদর্শ শপথ সংকল্প তাঁর চির সমুন্নত |


বজ্রের মতো কঠোর তিনি কোমল কুসুম সমান
নারীর কাছে ঈশ্বর তিনি পুরুষের কাছে ইমান |