ময়না কাটার বুকে চর
জামাল উদ্দিন জীবন


তুহিনের কাছ হতে ওর জন্য কিছু আদায় করে দিতে হবে সেটা নিয়ে ভাবছে। করিমন কোথায় হারিয়ে গেছে কেউ কোন খবর জানে না। পনেরো বছর পেরিয়ে গেছে তার কোন খবর নেই। সকলে মনে করেছে সে মারা গেছে। ছেলেকে হারিয়ে সেই যে বাড়ি ছাড়া ফিরে দেখেনি পাঁচ্চর। লালু অনেক কাজ করে ফেলেছে এরি মাঝে। ডাকাত সর্দার আকবরের সব খবর জানে তাকে চিনতে পেরেছে। ভূমি দস্যুর সাথে তার বাহিনী জড়িত গ্রামে ডাকাতি কমেছে। আজকে একটা দল যাবে জমীর ব্যাপারীর বাড়িতে সেই খবর পেয়ে। হন্যে হয়ে কদমতলীর হাট হতে নলগোড়া ফিরেছে। সংগঠনের অফিসে গিয়ে যুবকদের দেখতে পায়। বিমল ও রাজন তাকে দেখে ইশারা করে পরে বাকি দের সাথে মিলিত হয়ে। আজ রাতেই ওদের ধরার একটা বড় সর পরি কল্পনা করে ফেলে। কহের ও জরিনা সাথে রুস্তম ডালীকে নিয়ে থানায় যায় লালু। সোবাহান সাহেব তার কিছু লোক দেন সাথে সকলের দায়িত্ব বন্টন করা শেষে ওরা আসে মাঝির হাটে। হেদায়েত কিছু লোক নিয়ে শরিফাদের বাড়ির পাশেই বাগানে তাস খেলে। ওদের দেখে কেউ যেন সন্দেহ না করে। মধ্যরাতে ডাকাত দলের আগমন ঘটে সেটা টের পেয়ে ওড়াও প্রস্তুত হয়ে যায়। তুহিন সহ দুজনে দরজায় আঘাত করতেই অন্যরা আশে পাশে দেখতে থাকে। শরিফা প্রকৃতির ডাকে সারা দিতে উঠে শুনতে পায় দরজায় কারা আওয়াজ করছে। পরে মা বাবাকে ডাকে ও জানতে চায় কে তত খনে ওরা দরজা ভেঙ্গে ফেলেছে। শরিফা চিৎকার দিলে হেদায়েতরা ওদের পিছনে ঘরে ঢুকে ওদের আটক করে। সাত আট জনের ডাকাত দলটি ধরা পরে যায় ওদের হাতে। সকলে মিলে কিছু উত্তম মাধ্যম দেয়। সবাইকে নিয়ে থানায় আসা হয় সাথে জমির ব্যাপারী আসে। তিনি তার বাসায় ডাকাতির মামলা রুজু করেন। সকালে অনেকে আসে খবর পেয়ে কি ভাবে কি করেছে থানায় ভীড় জমে গেছে। আকবর তার বাকি সদস্যদের নিয়ে অন্য জায়গায় থাকাতে এ যাত্রায় রক্ষা পায়। সকালে হনুফা নলগোড়া উদ্দেশ্যে রহমত গঞ্জ হতে এসেছে। মনির খাঁর সাথে অনেক লোক জন সে কিছু কথা বলার জন্য বসে আসে। লালু বাহির হতে এসে দেখে তার মা বসে আছে জানতে চায় আসার কারণ। হাফিজের কাছে জানতে চায় তুহিন কোথায় বলে সেতো বাহিরে গেছে কালকে বলেছে ফিরতে দেরি হবে। বাতেন আসে বাজারে মাজাহারুলের কাছে গোকুল খবর দিয়েছে আসার জন্য। পরাণ এক হাড়ি মিষ্টি নিয়ে মাজাহারুলের দোকানে এসে হাজির। সালাম দিয়ে বলে ভাই জান ভালো আছেন। বাতনে ভাই কেমন আছেন অনেক দিন পরে দেখা। আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। মানিককে বলে গোকুল ও বাতেনকে নিয়ে সমিতির ঘরে বসতে আমি আসছি। পরাণকে বিদায় দিয়ে বাতেন ও গোকুলের সাথে কাজ শেষে বাজার করে বাড়ি ফিরছে। শামীম বেশ ভালো আছে আগের থেকে ছেলের জন্য মেয়ে দেখছে। ব্যাবসা ভালো চলছে সুখেই আছে। সামনেই পরীক্ষা সকলের মাঝে ব্যস্ততা আছে অদিতি ভেবেছে অনীক অন্তত একবার দেখা করবে সেটা করেনি। পরীক্ষার পরেও দেখো হয়নি চার দিন পার হয়েছে কি হলো বুঝতে পারছে না। শরিফা হেদায়েত কে নিজের বাসায় দুপুরে খাবারের জন্য বলেছে। সখিনা তাকে বেশ পছন্দ করে দুপুরে সকলে মিলে খেতে বসে। দুজনে তাকে তাদের ও মেয়ের খুশির কথা চিন্তা করে প্রস্তাব রাখে। হেদায়েত বলে দেখন আমার মা বাবা নেই তার সাথে ওয়াদা বদ্ধ। শরিফার একটা মতামত আছে বাবার খুনিকে না পেলে বিয়ে করতে পারছি না। শরিফা বলে আমিতো ভুলেই গেছি মেম্বর তুহিন ও আকবর ডাকাত সর্দার। তারাই খুন করেছে তোমার বাবাকে। আরো একটা খবর আছে ওদের একটা গোপন আস্তানার খবর দিতেছি ওখানে কাউকে পাবে। ঠিক আছে তোমার সাথে কিন্তু পাকা কথা হয়ে গেলো বাবা। পরে আর কোন কথা চলবে না। হেদায়েত উঠতে যাবে বলে একটু বসো। সখিনা মেয়ের হাতে একটা চেন দিয়ে বলে এটা ওকে পরিয়ে দাও। হেদায়েত কেমন যেন হয়ে যায় তার নয়ন হতে জ্বল গড়িয়ে পরে। মা বাবার মুখটা বেশ মনে পরছে। নিজেকে সংযত করে তাদের সালাম করে চলে আসে। দোকানে বসা ছিলো আইন উদ্দিন হঠাৎ করে তিনি অসুস্থ বোধ করায়। তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় ডাক্তার বলেছে। শারীরিক অবস্থা বেশ খারাপ পরিবারের লোক লাগবে। মানিক কাজে গিয়েছে ফেরার পথে খবরটা শুনতে পায়। তার মনে পরে যায় পুরনো দিনের কথা। বিপদে সাহায্য করা দরকার। তাকে দেখতে যায় কর্মচারী রাশু বলে। আমি বাড়ি চিনি না কি করে খবর দেই। মাজাহারুলের কাছেও খবর চলে আসে। অনীক পরীক্ষা শেষে দোকানের দিকে আসছে তখন মানিক তাকে সব বলে। বলে চলো আমিও যাব ওদের বাড়ি বাড়িতে এসে খবর দেয় ও একটা ভ্যান ঠিক করে। দ্রুত সকলে মিলে হাসপাতালে আসে। তাদের পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে তাকে ঢাকায় নিতে বলেছে। অদিতি ও রাশিদা কান্না করছে অনীক ওদের শান্তনা দেয়। হালিমা বেগম এর সাথে কথা বলে তাকে দ্রুত ঢাকায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। একজন পুরুষ মানুষ সাথে দরকার। তখন বলে ভাবি সাহেব আমাদের আমার সাথে লাগলে বলেন। ভাইরে মহা বিপদ মেয়েরা একা বাড়িতে থাকবে তার সাথেও লোক লাগবে। জহের খবর শুনতে পেয়ে স্বপরিবারে আসে। কোন চিন্তার কারণ নেই আমি চাচার সাথে ঢাকা যাব আমার বোনেরা আমাদের বাড়িতে থকেবে। রাশুকে আপতত বাড়িতে থাক দোকান বন্ধ থাকবে। হেদায়েত ও শরিফা বিকেলে ঘুরতে বেড়িয়েছে নৌকায় করে সোনাতলীর বিলে আসে। প্রকৃতির অপরূপ দৃশ্য মন প্রাণ ভরে যায়। তুমি সব মনে করে রাখলে কেন ভুলে যেতে পারতে। তোমার কি ধারণা আমার ভালোবাসা এতোটাই ডুঙ্ক। সেটা না আরো ভালো পরিবার পেতে। যাকে নিয়ে সারা জীবন পথ চলার স্বপ্ন দেখেছি তাকে ছেড়ে বেঁচে থাকা কষ্টের। ছোট বেলার কত কথা কত স্মৃতি আমাদের তুমি সব ভুলে থাকতে চাও। নাগো কি করে থাকি বলো মন প্রাণ জুড়ে তোমার অস্তিত্ব। সেখানে অন্য জনার বসবাস হবে না। তবে কেন বললে এ কথা সব কেমন স্বপ্নেরমত ঘটে গেলো বুঝতেই পারিনি। তোমাকে একটা কথা বলতে চাই তুমি আমাদের বাড়িতে এসে থাক। ঘর জামাই থাকতে বলছো ওভাবে কেন দেখছ। বাবা মা দুজনেই চায় তুমি আমি ছাড়া তাদের কেউ নেই। কথাটা অন্য ভাবে নিয়ো না তুমি।এটা নিয়ে পরে কথা হবে চলো ফেরা যাক। ঠাকুরেরা পাগল শিরাজের আস্তানার খোঁজ পায় সেখানে অনেক ভক্ত বৃন্দ আছে। সকল তার কাছে আসে বিভিন্ন সমস্যায় পড়ে। তার ইচ্ছে হলে মানুষের উপকার করে নয়তো না কারো ক্ষতি করে না। লালুর মায়ের প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে আজ বসা হয়েছে। সকলে এটা জানতে পারে তুহিন ডাকাত দলের সাথে জড়িত বলেই ফিরছে না। লালু ও হনুফা সে না আসা পর্যন্ত তারা তুহিনের বাড়িতে থাকবে। তার স্বামীর খুনের দায় তাদের উপরে বর্তায় এর ক্ষতিপূরণ করতে হবে। পনেরো দিন হাসপাতালে থাকার পরে আইন উদ্দিন বাড়িতে ফিরে আসে। খবর পেয়ে সকলে তাকে দেখতে আসে। অনেক দিন পরে অনিতাদের পরিবার বেড়াতে আসে মিন্টুদের বাড়িতে। মিন্টু আগেই বলেছে তারা আসবে। দরজা খুলে দেখে অনিতা হাসিনা বলে। মা দেখ মোমেনা চাচির পরিবার এসেছে। নাছিমা বের হয়ে এসে বলে আস বুবু। কত দিন পরে আসলে বলতে পারো। তাহের আলী ও মিন্টিু বাজারে গিয়েছিলো। ব্যবসার জন্য দোকান দেখে বাজার নিয়ে ফিরে আসে। ওরা কথা বলছে আবার কে আসলো গেট খুলে দেয় হাসিনা। শোন তোমার জন্য একটা খবর আছে কি? তোমার বউ এসেছে বাড়িতে। কি বলিস আমিতো জানি না সেকি। তোদের সাথে যুক্তি করে একাই চলে এলো। ধর এগুলি ভিতরে যাই। অনিতাকে বাসায় দেখে সেতো অবাক সকলের সামনে কিছু বলেনি। ইশারায় তার রুমে যেতে বলেছে। তাহের ভিতরে এসে মোমেনাকে দেখতে পেয়ে সালাম দিয়ে পারিবারিক খবর জানতে চায়। অনেক কথা গল্প হয় দুপুরে খাবারের পর সকলে বসে। তখন সকলে মিলে তাহেরকে ধরে বলে। ভাইরে অনেক দিনতো বাহিরে ছিলে এবার দেশেই কিছু করো। সকলের আবদারের কাছে সে বলে ঠিক আছে। হাসিনা তার মাকেমনে করিয়ে দেয় অনিতাকে বাড়ির বউ করে আনার কথা। পরে জানতে চায় কেন বলে ওরা দুজনে দুজনকে ভালোবাসে। তুমি কি মা হয়ে বুঝতে পারো না ছেলে মেয়ের খুশি কোথায়। কেন তোমার অসুস্থতার মাঝে এসে অনিতা আপু তোমার সেবা যত্ন করে কিছু বুঝ না। এটা নিয়ে আমরা পরে আলোচনা করবো এখন বেশি কথা বলা ঠিক হবে না। অনীক তার পরিবার সহ অদিতি দের বাসায় যায় আইন উদ্দিন মাতবরকে দেখতে। তাদের পেয়ে তারা বেশ খুশি হয়ে যায়। ডাক্তার কি পরামর্শ দিয়েছে সব কিছু শুনে রাশিদা তাদের মাঝে কিছু খাবার বিতরণ করে। অদিতির রুমে যায় অনীক বই খাতা দেখে কিছু লেখা পড়ে। সব কিছুতে বেশ সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে তাকে। সময় মত ঔষধ পত্র খেতে বলেছে কোন বিষয়ে চিন্তা করা বরণ। সব শুনে বলে চিন্তার কোন কারণ নেই সব ঠিক হয়ে যাবে। ওদের বিদায় দিতে এসে অদিতির চোখের কোণে পানি দেখতে পায় সবিতা বেগম। ওদের মধ্যে একটা সম্পর্ক রয়েছে ওকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়াতে সেটা বুঝেছেন। যাক এটা নিয়ে বাড়িতে গিয়ে কথা বললেই ভালো হবে।ওকে শান্তনা দিয়ে বাড়ির পথে রওনা হয় অনীকরা। থানায় আজকে আবার জমির ব্যাপরীকে ডেকেছে হেদায়েত ও লালু সাথে আছে। ডাকাত দের কাছ হতে বেশ কিছু তথ্য পেয়েছে তারা তুহিন তাদের সাথে জড়িত সেটাও বলেছে। এদেরকে কোটে চালান করা হবে বাকি দের ধরার নতুন পরিকল্পনা করা হচ্ছে। হেদায়েতের মনে পরে শরিফার বলা কথা গুলি। বলে সব দেখছি আমি আমাদের সাথে আপনারা থাকবেন। জরিনা কহের সহ সকলে আসে সাজনার বিলে। সেখান হতে লিয়াকত ও নজরুলের কাছে অনেক কথা জানতে পারে ওরা। সব দিক হতে খবর নিয়ে জেনেছে ডাকাতরা দল বল সহ আমিন খাঁ ও মমিন খাঁ দের সাথে আছে। বাবনা তলা ও নতুন একটা আশ্রয় স্থল করেছে। রাতে তাহেরের সাথে নাছিমা কথা বলে শোন তোমাকে একটা কথা বলবো বলবো ভাবছি। বলে ফেল তাহলেই হয়। অনিতাকে তোমার কেমন লাগে মানে মেয়ে হিসাবে। কেন বলতো হঠাৎ এই কথা। তুমি বাহিরে ছিলে মিন্টু লেখা পড়া করেছে আমার অসুখ বিসুখ হলে ওইতো দেখা শুনা করেছে। আমাদের রান্না বাড়া সহ সবি করেছে ওরা এক সাথে লেখা পড়া করে। এটা বুঝতে পারছি ওদের মনে হয় দুজনকে দুজনার পছন্দ। তোমার ছেলে কিছু বলেছে নাতা বলেনি। তোমার কাছে জানতে চাইলাম মেয়েকে দেখেছো তুমি। সকালে হাসিনা বাবা মার সাথে খেতে বসে বলছে না এই বাড়িটা ফাঁকা ফাঁকা লাগছে। ও বাবা আমাকে একটা ভাবি এনে দাও না। মেয়ের কথায় দুজনে মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে।তাহের বলে কেনরে মা তোর কি আমাদের পছন্দ হয় না। আমি সেটা বলিনি ভাইয়ের বিয়ের কথা বলেছি সেতো বুঝলাম কাকে পছন্দ করা আছে। শোন আমার ভাবি হিসাবে অনিতা আপুকে পছন্দ বুঝলা। আচ্ছা দেখি চিন্তা করে কি করা যায়। একটু পরেই মিন্টু ও অনীক আসে বলে মা এই তোমার গুণধর ছেলে। তোমাদের দেখতে আসছে কি কথাও বলবে। আন্টি কেমন আছেন জি ভালো বলো কি কারণে আগমন।একটা বিষয় নিয়ে কথা বলতে চাই সে অনিতা ও মিন্টিুর বিষয়ে সব খুলে বলে। নাছিমা বলে যা বলে সত্যি হুম তোমার  কাছে মিথ্যা বলবো না ওকে আমার পছন্দ। সপ্তাহ খানেক পরে মিন্টিুর পরিবার আসে অনিতাদের বাড়িতে। মোমেনা খাতুন বসে আছেন অনিতা টেবিলে বসে বসে কি যেন ভাবছে। দরজায় নক করে বলে আসতে পারি কে দরজা মেলে দেখে বলে চাচিমা তোমরা। ওমা কোথায় গেলা দেখ কে আসছে কিছু ফল ও মিষ্টি এগুলো ভিতরে নিয়ে যাও। এসবের কি দরকার ছিলো। লিয়াকত বাজার নিয়ে ফিরছে তাদের সালাম দিয়ে প্রবেশ করে। অনেক কথা হয় নাস্তা করে পুনরায় বাজারে গিয়ে মাছ মাংস আনে। দুপুরে খাবার শেষ করে আর দোকানে যায়নি ওরা। হাসিনাকে বার বার বলে কেন আসছে কিছু জানিস তুই না বলবো না। নজরুলকে বলে ভাই সাহেব আমরা একটা প্রস্তাব নিয়ে এসেছি আপনাদের কাছে। সংকোচ না করে বলে ফেলেন কোন সমস্যা নেই নিজেরাই সবাই। নাছিমা তখন মিন্টুর সাথে তাদের বিয়ের কথা বলে। হাসিনা উঠে গিয়ে তাদের চুপিসারে কথাটি বলে আসে। কিছু সময় পরে ওদের ডাকা হয় তাদের মতামত জানতে চাওয়া হয়। দুজনে বলে তোমরা আমাদের মুরব্বি তোমরা তোমাদের সন্তানের মঙ্গল চাইবে। তোমরা যেটা ভালো মনে করবে সেটাই করবে। তোমাদের কথার উপর কথা বলার শিক্ষাতো দাওনি আমাদের। দুজনে এ কথা বলে চলে যায়। বাজার হতে একটা আংটি কিনে আনে মিন্টু সেটা অনিতার হাতে পরিয়ে দেয়। অনিতার গলার চেইন ছিলো সেটা যাবার সময় ওকে পরিয়ে দেয়। ওদের পরীক্ষার ফলা ফল হলে তখন শুভ দিন দেখে বিবাহের কাজ সম্পন্ন করা হবে। তিন দিন পরে বাবনা তলা হতে শামীম ও গ্রামবাসির সহযোগিতায়। আমিন খাঁ  মমিন খাঁ ও তুহিন সহ একটা দলকে আটক করে কহের লালু ও পুলিশ মিলে। তাদের কথার ভিত্তিতে আরো দুদিন পরে হেদায়েত জরিনা ও পুলিশ গিয়ে। আকবর ও ভূমি দস্যুর কাজে ভারা টিয়া হিসাবে যারা কাজ করতো তাদের ধরে নিয়ে আসে। এই খবর ছড়িয়ে গেলে হাজারো লোকের ভিড় জমে জায় তাদের বিচারের জন্য রাতেই শহরে নিয়ে আসা হয়। আসার পথে তুহিন ও আকবর নদীতে ঝাপ দেয় ওরা গুলি করে সেই হতে ওদেরকে গ্রামবাসী কখনও দেখেনি চির পলাতক থাকে। বন্ধুরা সকলে পাশ করেছে সেই আনন্দে তারা নদীতে ঘুরতে যায়। হালকা বৃষ্টি সাথে বাতাস বইছে বন্ধন দ্বীপ সেখান হতে মোহনিয়ার চর হয়ে সোনাই মুড়ির বিলে। সারা দিন ঘুরা ফিরা করে বিকেলে বাড়ি ফিরে। জরিনা একাকী ফিরছে মীরের চর হতে কিছু লোক তার পিছু নেয়। লিয়াকত বেশ সময় ধরে দেখছে বিষয়টি কিছু বলেনি। জরিনা যখনি এদিকে কাজে আসে তখনি এই দোকানে আসে। কেনা কাটা করে ওদের একটা বন্ধুত্ব হয়। নজরুল দোকানে আসলে তাকে সব কথা বলে সে ওদের পিছু নেয়। ওরা ওকে তুলে নিতে চাইলে ওকে উদ্ধার করে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে আসে। সব কথা শুনে তার পরিবারে কে কে আছ জানতে চায়। বলে  ছোট বেলায় বাবাকে হারিয়েছি মা মারা যাবার সময় এই কবজটা দেয়। এটাতেই নাকি আমার পরিচয় মিলবে। মোমেনা কবজটা দেখে পুরানো ট্রাঙ্ক হতে তার কবজটি বের করে। তখন দেখে এটা তার বোনের কবজ তারা দুই জন জমজ ছিলো।উতরাইল তাদের বাড়ি ছিলো নদীতে ভেঙ্গে নেয়। রাতে নজরুল আসলে সব কথা খুলে বলে ঠিক আছে সকালে সব ব্যবস্থা করবো। পরিবার সহ হুজুরের বাড়িতে যায় সেখানেই তাদের বিবাহের কাজ সম্পন্ন হয়। অনীক সব কথা শুনে বেশ খুশি হয় যাক তোদের একটা সমাধান হয়েছে। আমেনা বেগম অনীকের ঘরে গিয়ে কাগজ পত্র সব দেখতে থাকে। বইয়ের মধ্যে অদিতির লেখা একটা চিঠি পায় জানতে পারে ওদের ভালোবাসার কথা। মানিক ও অনীক দুজনে দোকানের মালামাল কিনতে শহরে যায়। ফিরতে বেশ রাত হয়ে যায়। আইন উদ্দিন দোকানের কাজ শেষে গিয়ে ছিলো সদর পুর। সেখান হতে ফেরার পথে কিছু লোক তার পিছু নেয়। সে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে ঠাকুর বাজারে আসে। তখনি আরো দুটি লোক ওদের সাথে মিলে তাকে আক্রমণ করে বসে। মাটিতে পরে যায় মানিক ও অনীক বলে ওখানে কিসের চিৎকার। শুনতে পেলাম চলতো দেখে আসি। ওদের আসতে দেখে লোক গুলি পালিয়ে যায়। মানিককে বলে ভাই তুমি ওনার বাড়িতে একটা খবর দাও। আমি ওনাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই বেশি দেরি করা যাবে না। তাকে  হাসপাতালে নিলে ডাক্তার বলে প্রচুর রক্ত ঝরছে। এখনি রক্ত দিতে হবে নয়তো তাকে বাঁচান কঠিন হবে। অনীক বলে এখন কি করি পরে বলে আমার রক্ত পরীক্ষা করে দেখেন মিলে গেলে খুব ভালো হবে। তারা হাসপাতালে আসে ওদিকে কহেরও সাথে আসে। অদিতি ও রাশিদা এসে দেখে অনীক রক্ত দিচ্ছে। হালিমা বেগম বলে বাবা আল্লাহ তোমার ভালো করুন। ডাক্তার বলে এখন ভয়ের কোন কারণ নেই। এক জন থেকে বাকিরা বাড়িতে চলে যান। অনীক কিছু খাবার ও ফল কিনে দিয়ে আসে। বলে রাত্রে একা বাড়িতে যাওয়ার দর কার নেই। আন্টি যদি কিছু মনে না করেন তাহলে ওদের আমাদের বাড়িতে নিয়ে যাই। সেটা কেমন করে হয় বাবা লোকে খারাপ বলবে ওরা এখানেই থাক। পরাণ মাঝি ভ্যানে আসার সময় শুনতে পায় অনীক কাকে নিয়ে হাসপাতালে গেছে। সে বাড়িতে গিয়ে বলে চাচা বাড়ি আছেন। মাজাহারুল বলে কে? আমি পরাণ কি হয়েছে পরাণ। একটু বাহিরে আসেন কথা আছে। বলে অনীক কাকে নিয়ে হাসপাতালে গেছে দেখেন জলদি করে যান। মাজাহারুলকে আমেনা বেগম বলে আমার ভাই কই বাপরে জলদি চল। দুজনে পরাণ কে বলে আমাদের একটু হাসপাতালে নিয়ে চল বাপ। এমন করে কেন কন চাচা আপনারোইতো আমাগো আপদে বিপদে পাশে ছিলেন। চলেন জলদি চলেন তোমরা শুয়ে পরো আমরা আসছি। গিয়ে দেখে আইন উদ্দিন সাহেব শুয়ে আছে। বাবা দাদী তোমরা কার কাছে খবর পেলে। কথা বলে দুই বোনকে সহ অনীক মানিক বাড়িতে ফিরে। এখন ঘুমাবে সকালে জ্ঞান ফিরবে। সকলে বাড়িতে এসে শুয়ে পরে দাদীর কাছে অদিতি শুতে যায় রাশিদা আসে সবিতার কাছে। মানিক ও অনীক আজকে ফুফুর ঘরে গেছে। সারা রাত দাদী অদিতির সাথে গল্প করে বলে। তাইতো বলি ছোট সাহেব আমাকে দুরে রাখে কেন। তুমি সব কি করে যান দাদী তখন তার চিঠির কথা শুনায়। বলে চিন্তা করিসা বোন আমি সব ব্যবস্থা করে দিব এবার ঘুমিয়ে পর। আবার হাসপাতালে যায়। হালিমা সব কথা খুলে বলে দুদিন পরে বাসায় ফিরলে দাদী মাজাহারুল ও সবিতাকে ওদের বিষয়ে সব বলে।তারা অনীককে বলে তোমার দাদী মা যেটা বলেছে এটা সত্যি। অনীক চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে। পরে বলে হুম সত্যি বলেই সেখান হতে চলে যায়।  অনীক ও অদিতি নৌকা নিয়ে চলে যায় হরিনার বিলে। না এটা নিরাপদ নয় চলো হিজল দিঘীর গাঁ কইলার টেক। অনীকের বুকে মাথা রেখে অনেক কান্না করে অদিতি বলে মা বাবা সব জেনে গেছে এখন কি হবে কিছু বুঝতে পারছি না। বলে জীবনে মরণে তোমার থাকবো বিশ্বাস রাখো তুমি। দেখ সুন্দর ফুল ফুটেছে পাখিরা গান করছে পান কৌড়ি বালি হাস উড়ে যায়। সুন্দর প্রকৃতির সাথে নদীর ঢেউয়ে হারিয়ে যাই অজানায়। যেতে হবে চলো এবার। অনীকরা স্বপরিবারে আসে অদিতিদের বাড়িতে তাকে দেখতে। পরে দুজনে ও দাদী বলে দেখ বাবা ওরা ছোট মানুষ। ওদের পক্ষ হয়ে তোমাদের দুজনের কাছে। আমি একটা প্রস্তাব রাখছি তোমরা ওদের চার হাত এক করে দাও। ভাই ভাই সাহেবের পরিবারের কাছে আমি বিভিন্ন ভাবের ঋণী। আমিও বিষয়টি ভেবেছি এখন ছেলে মেয়ে দুই জনই আপনার যেটা ভালো হয় করেন। মাজাহারুল বলে সন্তানের খুশি আমাদের খুশি। পরাণ এসে খবর দেয় অদিতি এক্সসিডেন্ট করেছে সকলে দ্রুত হাসপাতালে আসে। দেখে অনীক অঝরে কাঁদছে ডাক্তার বলেছে রক্ত লাগবে রক্ত দেওয়া হয়। জ্ঞান ফেরার পর হতে শুধু অনীক অনীক করছে। ডাক্তার বলে উনাকে নিয়ে আসুন তানা হলে বিপদ হতে পারে। আমেনা বেগম অনীককে নিয়ে কেবিনে প্রবেশ করে। অনীক বলে অদি চোখ মলে তাকাও আমি আসছি দেখ। তাকাও একবার অদিতি তাকিয়ে তার বুকে নিজের ঠিকানা খুঁজে নেয়। সকল বন্ধুদের মাঝে খুশির জোয়ার বয়ে যায়। অগ্রাহায়ন মাসের ১০ তারিখে অদিতি ও অনিতার বিবাহ অনুষ্ঠান এক সাথে নলগোড়ায় হবে গ্রামবাসী সহ সকলেকে নিমন্ত্রণ করে। শরিফাদের বাড়িতেই হেদায়েত থাকে তারা ওকে নিজের ছেলের মত ভালোবাসে তারা ছাড়া জগতে কেউ রইলো না। মনির খাঁর ছেলের জন্য শামীমের শালির কথা হয়েছিলো।দুজনের মধ্যে আগে হতে জানা শুনা ছিলো।বিভিন্ন ঝামেলায় তাদের কিছু জানানো হয়নি। লিলিমাকে নিয়ে শামীম বাজারে এসে ছিলেন একটা কাজে। মনির খাঁ ও সানি দোকানে বসে লোক জন নিয়ে কথা বলছে। হাফিজ ও আরে দুজন মিলে মনির খাঁকে গুলি করতে যায়। নীলিমা সেটা দেখে সামনে এসে পরে তার হাতে গুলি লাগে। দ্রুত তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সানি সহ আরো অনেকে ওদের ধরার  চেষ্ট করে ব্যার্থ হয়। সুস্হ হলে সানির পরিবার আসে নীলিমাদের বাড়িতে সেদিনি তাকে পুত্র বধূ করে নল গোড়াতে নিয়ে আসে। তাদের আর্শিরবাদে বলে আমার হারানো মাকে ফিরে পেলাম। মায়ের মত  করেই ও আমার জীবন বাঁচিয়েছে। মানিক অনেক দিন পরে আসে রাশিদাদের বাড়িতে সকলে বসা। বলে চাচা জান আমার কিছু জিনিস ছিলো নিতে এসেছি। বাগান বাড়িতে একটা মাটির গর্ত হতে কিছু কাগজ ও একটা আংটি ও চেইন বের করে। এটা আমার বোনের চেইন আংটি ওর জামাইয়ের তুমি কে। রাশিদার ছোট বেলার একটি ছবি বলেছে তোর পুত্র বধূ হবে আমার পছন্দ। চিঠি পরে কান্নায় ভেঙ্গে পরেন তিনি সকালে তাকে ধরে ভিতরে নিয়ে আসেন। তার মায়ের কারণে এখনও তিনি বেঁচে আছেন। আয় বাবা বুকে আয় এত কাছে থেকেও বলিসনি কেন তুই আনা বিয়ার ছেলে। সেদিন বিকা লেই রাশিদা ও মানিকের বিবাহ সম্পন্ন হয় তার কাছেই রাখে মানিক ও রাশিদাকে। ঠাকুর লোক জন সাথে করে নদীর ঘাটে বসে আছে। বিভিন্ন গ্রামের ভিতর দিয়ে যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নত হয়েছে। এতে অনেক সময় কম লাগে। শিরাজ দল বল নিয়ে আস্তনা ছেড়ে আজই প্রথম এভাবে সমানে আসে। নদীর উত্তর পারে আগের মত করে সমস্যা হচ্ছে সেটা খুব কম। শুধু ঠাকুর ও পাগল নরেশের সাথে কথা বলে। পাগল ওর শরীরে কি পরে একটা রশি দিয়ে বেড়ি দিয়ে দেয়। ঠাকুর কানে কানে কি সব পরে কথা বলে ওরা তিন জনে উত্তর পাশে যায়। নরেশ পানিতে নামে তার সাথে সাথে বেশ কিছু ছোট বড় জিনিস যা সমস্যা করছে। তারাও চলে যেতে যেতে একটা সময় সকলে হারিয়ে যায়। ঠাকুর ও পাগলা নদীতে নামে তারাও হাঁটছে নদীর মাঝে তাদের মত করে কোথায় গেলো আর কখনও তাদের কেউ কোন গ্রামে দেখতে পায়নি। নদীর চারি ধার শুকিয়ে যায় ধীরে ধীরে। হুজুর বলে হারুন দেখতো গ্রাম বাসির কি অবস্থা। নদীতে কোন সমস্যা নেই তবে দিন দিন নদীর মধ্যে চর পরে যাচ্ছে চারি দিক শুকিয়ে আসছে। নদীর সাথে সাথে মানুষের জীবনেও পরিবর্তনের জোয়ার বইছে। সব এলাকাতেই রাস্তা ঘাট হচ্ছে স্কুল কলেজ মাদ্রাসা মসজিদ মন্দির বেশি হচ্ছে। বাজার ঘাট ফসলি জমি বাড়ছে জীবিকার প্রয়োজনে বাঁচার তাগিদে অনেকে পেশা বদল করছে। মাঝে মাঝে নিজের কাছে এই ময়নাকে বড় অচেনা লাগে আমার। এত শান্ত তাকে কখনও দেখেনি বন্ধুরা বলছে বলতে গেলে তারি নিজের অস্তিত্বের বলিদান দিয়েছে। গ্রাম বাসির মঙ্গল ও সুখের জন্য। উপকার হয়েছে সকলের চাষের জমি বেড়েছে সোনা ফসল পেয়েছে। জীবনের নিরাপত্তা ও মৃত্যুর আতঙ্ক হতে পেয়েছে মুক্তি। পেয়েছে গ্রামের সকলের মুখে সুখের হাসি ফুটে উঠেছে। সকলের সুখের জন্য নদী তাকে বিসর্জন দিয়েছে তার চারি ধারে গড়ে উঠেছে নতুন কত শত বসতি। নেই অপরূপ সৌন্দর্য হারিয়ে গেছে সকল বিল মাঝি দের আনা গুনা। নেই চর দখলদার রাজত্ব দস্যুতা গড়ে উঠেছে দালান কোঠা ময়না হয়েছে খাল। ভূমি দখল দারিত্ব ছিলো আছে থাকবে চির কাল। নদী ভরাট চলছে চলবে চলমান প্রকৃয়া এর শেষ কোথায়? কবে হবে জানিনা সবটাই অজানা। আগামী প্রজন্ম হয়তো কখনও তাদের চোখে নদী দেখবে কিনা সন্দিহান। ডিজিটাল যুগের সাথে তাল মিলিয়ে হচ্ছি আমরা বেসামাল। যে অপূরনীয় ক্ষতি দিন দিন সাধিত হচ্ছে তাকি কখনও পূরণ হবে না হবে না। হারিয়ে যাবে ময়নার মত কালের গর্ভে অসংখ্য নদী আর জানা অজানা কত ইতিহাসা ঐতিহ্য সময়ের পরিক্রমায়।


।।হায়রে আমার প্রিয় নদী ময়না কাটা
মরে গেছে চারি ধার উঠিল বুকে চর
পাবো কি ফিরে হারানো সোনা বাসর
মনে জমা ব্যথার পাহাড় কাঁদে অন্তর
কত স্মৃতি কত কথা নিদারুণ বুকের ব্যথা
তোর বিরহে কান্দের পরাণ সারা জনম ভর
খেলছি কত নাও দৌড়ানিরে কেটেছি সাঁতার
মাছ ধরি তোমার কুলে ঘুরছি কত বন বাদার
মধুর মায়ায় রাখছ বুকে দিয়ে পরম মমতা
কেমন করে ভুলে যাব সেই দিন গুলির কথা
মনে হলে পরাণ পুড়ে সকল স্মৃতি হৃদয় জুড়ে
বারে বারে আসবো ফিরে এই না জীবন ভর
ঝিকি মিকি রৌদ্র পরে তোমার সোনার গায়
লাল আভাতে শাড়ী পরে কত সুন্দর দেখ যায়
পান কৌড়ি বালি হাসে বকের দল নিত্য হাসে
ছুটে বেড়ায় মনের সুখে হেথা নেইকো কোন ভয়
সোনা ফসল রাশি রাশি দুকূলে দাঁড়িয়ে আছে ঠায়
কৃষকের মুখে মধুর হাসি চোখে দেখতে পাওয়া যায়
সুখের রাজ্য বিলিয়ে দিলে নিজেকে দিয়ে বলি দান
আমার সবাই গেয়ে যাই ঐতিহ্যে ভরা তার গুন গান।