উৎসর্গঃ প্রিয়বন্ধু বকুলকে।


ভালবাসা যখনও বুঝে উঠিনি
একান্ত নিজের জন্যে।
কিন্তু কাহিনী চিত্রে
জেগে-জেগে দেখেছি সেই বাল্যরজনিকায়,
রাজ-শাবার অপূর্ব প্রণয় কথনিকায়
যা ক্ষণকাল ভাবের খোরাক জগিয়েছে।
যদিও নিজের জন্য তখনও ভাবতে শিখিনি,
ভালবাসা তার প্রতি জেগে উঠেনি,
কিন্তু এটা স্পষ্টতঃ
প্রথম ভাললাগা ছিল
তার কোমলাধর ভ্যাস্কানি।
ভাললাগে এটা ভালবাসার
বাহ‌্যিক উপকথা, কিন্তু ভালবাসা
সেটা ছিল একেবারেই রূপকথা।


কেননা, অকিঞ্চন আমি..!
এ' অধিকার এখনও পাইনি।
বিড়বিড় করে বেড়ে ওঠা তরুলতার
কচি পাতাগুলো যেমন ধরাসায়ী
চিহ্ন হয়ে দৃষ্টিগামী হয়,
স্পষ্টতঃ আমি এখনও বলতে পারি
তার আপাদমস্তক কোথায় কি কবে
হয়েছে প্রথম উদয়।
দিন-মাস-বৎসর অতিক্রান্তে,
আমা হতে এক ভিন্ন প্রান্তে;
হয়তবা সে প্রতীক্ষায় প্রহর গুণে
অন্যকারও কুশল জান্তে।
দমকা ঝরের আচমকা আঘাতে
ভেঙ্গে পরা বৃক্ষরাজি পূণরায়
বেঁচে উঠার তাগিদে যেমন
কুশ গজায় ভগ্নপ্রান্তে,
নিরাশার ক্রান্তিকালে
কিঞ্চিত সঞ্চিত আশার
প্রদীপ শিখা হাতে নিয়ে
আজও আমি পথ খুঁজে চলি
হয়তবা একটু সুখের দ্যাখা
পাবো বলে।


কিন্তু অকিঞ্চন আমি..!
যার জন্যে এ পিঞ্জরে আজও
ব্যথা অনুভূত হয়, সেতো আমার নয় ,
সেকি আমার কথা কখনও কয়..?
তার কথা ভাবলে এখনও
আমার বুকে হাড় ভাঙ্গার
শব্দ শোনা যায়।
দিবালোকে রৌদ্র রশ্মিকে
ঘোর ছায়া অনুভূত হয়।
সকল আনন্দ ঢলের মাঝেও
সে আমার বেদনার অশ্রুধারিকা,
সমস্ত কিছু পেয়েও তাকে হারিয়ে
আমি হারিয়েছি রাজটীকা।
হৃত এ প্রাণ,
আমার প্রথম মৃত্যুকামান
দ্বিতীয় মৃত্যুর সমান।
কেড়ে নিয়েছে আমার চঞ্চলতা,
জীবন্ত-প্রাণবন্ত-উচ্ছসিত জবান।


মনে বড় শখ ছিল-
তাকে বউ করে ঘরে আনবো,
সে শীতল কোলে মাথা রেখে
দিনে দিনে জমে ওঠা
অমীয় গল্প-কাব্য শোনাবো,
প্রাণহীণ রাতে অথবা প্রভাতে
উভয়েই ব্রীড়াহৃত হব একসাথে।
এমন সঞ্চিত ঈপ্সিত নানান স্বপ্ন
ঘিরে ছিল আমার যত জল্পনা-কল্পণা,
হায়, অকিঞ্চন অমি..!
আমার সঙ্গী এখন বোবা কান্না
চাপা কষ্ট আর নীরব যন্ত্রণা ।।