বর্তমানে কেউ কেউ বলেন, কবিতা লিখতে ছন্দের প্রয়োজন নেই। কিন্তু, আমি বলি, কবিকে অবশ্যই ছন্দ জানতে হয়। কবিতার সাথে ছন্দের সম্পর্ক, সোনায় সোহাগার মতো।


যদি ধারণা করি, কবিতা একটি অলংকারস্বরূপ; তাহলে, যা তৈরী করতে গেলে (রূপকের আশ্রয় নিয়ে বলছি)-  সোনার মতো শব্দসমূহকে, ভাবনার চিত্রকল্পের আগুনে পুড়িয়ে, উপলব্ধি ও চিন্তার শিল্পসম্মত নক্সায়, সোহাগার মাত্রা নির্ধারণপূর্বক, ছন্দের ছাঁচে ঢেলে দিয়ে, কবিতার মতো একটি সুন্দর অলংকার সৃষ্টি করা সম্ভব। আর, এর সাথে যদি উপমা-উৎপ্রেক্ষার মণিকাঞ্চনের সংযোগ ঘটে, তবে অলংকারটি হয়ে উঠে দৃষ্টিনন্দন ও মাধুর্যপূর্ণ।


অপরদিকে কবিতা হলো, সুমধুর শ্রুতিযোগ্যতাময় একটি সাহিত্যিক নির্মাণ। যুগে যুগে কবিরা কবিতার বৈশিষ্ট্য ও কাঠামোতে পরিবর্তন এনে, কবিতাকে নান্দনিক শব্দের শিল্পীত ভাবনার মহত্তম শাখা হিসেবে তুলে ধরেছেন।


যারা কবিতায় ছন্দের আবেদনে বিশ্বাস করেন এবং ছন্দ বোঝেন; শুধুমাত্র তারাই মন্তব্যের ঘরে ৪ থেকে ১০ (সর্বোচ্চ) চরণের যে কোন বিষয়ের উপর ''স্বরবৃত্ত ছন্দ'' ব্যবহার করে একটি কবিতা বা ছড়া লিখুন। ধন্যবাদ।


০৪/০৪/২০২০
মিরপুর, ঢাকা।
=============================
ছন্দ-সন্দেশ
- কবীর হুমায়ূন


ছন্দ নিয়ে দ্বন্দ্ব কথা চলছে ভীষণ ভারী,
সহজ করে ছন্দকথা বলতে কি আর পারি?
ছন্দ হলো, কাব্যকথায় অক্ষরের এক মেলা,
মুক্তাক্ষর, যুক্তাক্ষর মিষ্টি রসের খেলা।
তিন প্রকারের ছন্দ আছে বাংলা কবিতাতে,
খেলা করে রঙ্গরসে কবির ভাবের সাথে।
স্বরবৃত্ত, মাত্রাবৃত্ত, অক্ষরবৃত্ত শুনি,
সোজাসাপ্টা এই কথাটি মানেন সকল গুণী।
ছন্দ কিন্তু বেজে উঠে কানের ভেতর ভাই,
এখন বলি, আসল কথা মাত্রা হিসাবটাই-
সকল ছন্দে এক মাত্রা মুক্তাক্ষর জানি,
যুক্তাক্ষর সব ঝামেলার এই কথাটি মানি।
স্বরবৃত্তে সকল সময় একমাত্রা হয়,
আগেপিছে যেখানেতেই যুক্তাক্ষর রয়।
স্মরণ রাখি দুই মাত্রা, মাত্রাবৃত্তে ভাই,
যেখানেতে হোক না কেন তার ব্যতিক্রম নাই।
অক্ষরবৃত্তে যুক্তাক্ষর ভীষণ জটিলতা!
প্রথম এবং মাঝখানে এক; শেষে হয় দুই তা'।
এই হলো ভাই ছন্দখেলা, নিয়ম মেনে চলি,
ছন্দের এই কথাগুলো ছড়ার ছন্দে বলি'।
স্বরবৃত্তে পরপর দুই যুক্তাক্ষর হলে,
একমাত্রা যাবে বেড়ে ছন্দেরই কৌশলে।
ছন্দখেলা মজার খেলা যদি মানেন কবি,
কাব্যকথায় উঠবে ফুটে লালিত্যময় ছবি।