হে দুরন্ত ফণী!
অন্যপথে ফেরানোর শক্তি নেই আমাদের;
অমোঘ শক্তিতে বলিয়ান তুমি।
তীব্র বিষের মরণ কামড় বসাবে কি এবার,
সাজানো গোছানো আমাদের পার্থিব সংসারে?


দেবতা-দানবে যুদ্ধ হতো কোন এক পুরাকালে;
পরাজিত হয়েছে তখন দেবতারাই বারবার,
দেবতারই বরে বলিয়ান, সেই দানবের কাছে।
শক্তির উৎস সে সকল দেবতারা
মানুষের মতো লোভ-লালসায়, হিংসা-প্রেমময় ছিলো;
তাহাদেরও ছিলো নারীসঙ্গের অনন্ত তীব্র কামনা।
মেনকা-রম্ভা-উর্বসী- স্বর্গের অপ্সরী,
সে সকল দেবতাদেরও বিনোদিনী ছিলো।


আদিকাল থেকে মানুষেরা দানবের প্রতিপক্ষ;
অবক্ষয়ের অভ্যন্তরে সৃষ্টি করে শুদ্ধতার বীজমন্ত্র;
সেই মানুষেরা আজ পরাভূত, পরাজিত
অশুদ্ধ চেতনে পরস্পর যুদ্ধরত অজাচার মোহের কারণে।
শত্রুর শত্রু যেমন বন্ধু হয়ে যায়
যুদ্ধের ময়দানে; তেমনি কৌশলিক অনন্য বিশ্বাসে
দেবতারা নেমে আসে মানুষের পাশে।
কিন্তু, মানুষেরা এখনো বিশ্বাস করে,
দেবতারা প্রাণময়, বলিয়ান অনন্ত শক্তিতে।
সে শক্তি ও তেজঃ তোমাতে হয়েছে রোপিত
প্রকৃতির অমোঘতা নিয়ে, ওগো, দুরন্তর ফণী।
ভুল করে ভুল পথে এবার না হয় চলে যাও তুমি,
বিষাক্ত ছোবলে জর্জরিত করিও না আর;
বারবার উঠে এসো, কতো ছলে, কতো নামে-
আইলা, সিডর, মহাসেন, নার্গিস, নিলুফার।


আমরা যে এখনো দুর্বল প্রকৃতির কাছে;
যদিওবা এগিয়েছি বহুদূর; দূর পথে
তুড়িতে উড়িয়া চলি পুষ্পক রথে,
মরু সাগরে পর্বতে আর গ্রহান্তরে;
তবুও, অসহায় অমোঘ শক্তির কাছে।
এ প্রার্থনা করে যাই আজ-
চলে যাও তুমি ভুল করে ভুল পথে
অন্য কোন মনুষ্যবিহীন লোকে;
অথবা, নারীর মতো স্নিগ্ধ হয়ে যাও,
দাবদাহ পোড়া দেহে প্রিয়তির মতো আদর বুলাও।


০২/০৫/২০১৯
মিরপুর, ঢাকা।