তাঁর কোন দোষ নেই, নেই কোন অপরাধ-
এই জগতে যেজন যুদ্ধশিশু।
তাই, দৃপ্তকণ্ঠে উচ্চারণ করে-
কুসিকাঁটায় বোনানো গর্ভধারিনীর বেদনার কথা,
বেদনাহত কর্কশ পূর্ণিমায় নিরুপায় হয়ে অসহায়ত্বের কথা;
ক্ষোভহীন, অভিযোগহীন গভীর শ্রদ্ধায় সম্মানের সাথে।
যুদ্ধশিশু-
বুকভরা তাঁর কষ্টের আকর,
রক্তের বন্ধন ছিন্নতার, অনাকাঙ্খিত আগমনের কষ্ট,
পরিচিতহীন জন্মদাতা, তার লাম্পট্যের কষ্ট,
মায়ের বুকের ওম ছাড়া বেড়ে উঠা জীবনের কষ্ট,
জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার না পাওয়ার কষ্ট।
কষ্টের ফেরিওয়ালার লাল-নীল-হলুদ কষ্টের ধারা নয়;
এতো রঙহীন, অব্যক্ত; অথচ নিত্য-উৎসারিত মিহিন কষ্ট!


সূর্যের কতোটা তেজঃ আছে, এ কষ্ট পুড়িয়ে দেবে?
সমুদ্রের বুকে কতোটুকু জল আছে, এ কষ্ট ডুবিয়ে দেবে?
কষ্ট হয়ে যায় বিন্দু এক লহমায় জলেভরা প্রসারিত মহাসিন্ধু,
যুদ্ধশিশুর বুকের আগুন মাটিচাপা দেবে,
এমন পাহাড় পাবে নাকো আর!


অবিদিত ইতিহাস সাক্ষী-
বাংলাদেশের একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে
যে সকল মায়েদের ত্যাগে প্রজ্জ্বলিত
স্বাধীনতা স্তম্ভস্থলে শিখাচিরন্তনী! বহ্নিশিখার মতোন।
অথচ, কী নিদারুণ সত্য!
যুদ্ধশিশুর জন্মদাত্রীকে আলোতে আনার সাহস নেই আমাদের,
যুদ্ধশিশু বেড়ে উঠার দায়িত্ব বহনের সক্ষমতা নেই;
তাঁরা বেড়ে উঠে পরাশ্রয়ী স্বর্ণলতার মতোন।


যে সকল একাত্তরের যুদ্ধশিশুরা শিকড়-সন্ধানে
বারেবার ফিরে আসে, এ বাংলাদেশের কাদাজলে;
তাঁদের বুকের কষ্টগুলো কলমের মুখে-।
আমি আজ অভিশাপ দেই বাংলাদেশের প্রতিটি ভোরে-
ধ্বংস হোক তাদের প্রজন্ম, ধ্বংস হোক তারা,
এ সকল যুদ্ধশিশুর লম্পট-জন্মদাতা যারা।


২৫/১২/২০১৭
মিরপুর, ঢাকা।