(১)
অনিন্দ্য না নিন্দনীয়
সে ফ্রেম-


সূর্যমুখীর জাফরানী ভোর
কৃষ্ণকলির ভ্রমর আলাপন


আমার পোখরাজ
তোমার অপরাজিত নীলায়


মরুঝড়ে
ওসিয়ানিয়ায়


সত্য
ত্রেতা
দ্বাপর
কলির মতো


আজ কাল পরশু হয়ে
বেবাক বদলে যায়।
(২)
বদলে যায় জীবন।


ক্যানভাসে পড়ে থাকে


প্রকান্ড আকবর
নয়তো অশোক-


ইতিহাস ছায়ানট তৈরি করে-


পড়ে থাকি আমি
পড়ে থাকো তুমি


গল্পের হরিনের মতো
গল্পের হরিণীর মতো।
(৩)
তবুও
গাছের মতো সংশ্লেষে
সবুজে


একফালি নষ্ট চাঁদের আলোয়
ফুসফুসে-মাইটোকনড্রিয়ায়


নদীর চোরাস্রোতে
সমুদ্রের গভীর গভীর হৃদয়ে


হোমারের ইলিয়াডে
ওডিসিতে


মিল্টনের যন্ত্রনায়


শব্দের পর শব্দ
ছবির পর ছবি
কথার পর কথা নিয়ে


অদ্ভুত অপেক্ষায়
জন্ম হয়
একেক শিল্পকণার
রেণুর
শিল্পমাটির।
(৪)
ফলত:
পৃথিবীর বুকে


স্বার্থপর দৈত্যের বাগানে


বরফকুচির শীত
অনেক নামার পরও


হিজল বসন্ত ফোটে
প্রজাপতি উড়ে যায়


আমিও তোমার মতো
ক্রিশ্চান হয়ে উঠি


আর বলমীক থেকে
নেমে আসে


অজস্র অজস্র ফুল
রামায়ণ হয়ে।
(৫)
তারপর আবার
দরকষাকষি শুরু হয়


নান্দনিকতার আসরে
পাশাখেলা চলে


কৃষ্ণও কুটিল হয়ে পড়ে


মিত্রাক্ষরে
অমিত্রাক্ষরে
সনাতনী খাতায়


জয় পরাজয়ের হিসেব লেখা হয়


জীবন মৃত্যুর ভাষান্তর ঘটে-
কোনো এক সঞ্জীবনী ছন্দে।
(৬)
সেই ছন্দের আলোয়
আমার আবার মনে আসে-


বকুল কুড়োনো সেই
দশ বছরের ছেলেটার কথা


গান-প্রার্থনা-হাসি-আনন্দের পর
রোজ বিকেলে যে
হা-হোসেন স্যারের কাছে
জানতে চাইতো-
"আপনার এত বড় টিনের বাক্সটাতে
কি আছে স্যার?"
স্যার স্মিত হেসে বলতেন-
"বড়ো হলে সব জানবে,
বড়ো হলে সব বুঝবে।"
(৭)
তারপর
সেই ছেলেটা অনেক বড়ো হয়ে গেছে।


আমিও বড়ো হয়ে গেছি।


আমরা দুজনেই আজ জেনে গেছি-
একরাশ সাদা ধবধবে পোশাক
একমুখ হাসি
একবুক ভালোবাসা


একটা টিনের বাক্স
একটু আতর
প্রায় নিঃশব্দ কিছু কোরাণিক উচ্চারণ


কিছু গান
প্রিয় কবিতা
বিকেলবেলা


এর সমস্তকিছু
কিভাবে তৈরি করে
এক একটা শিল্প-দিন


তৈরি হয় এক একটা শিল্প-মানুষ।
(৮)
তবুও জীবন
এখনও


তোমার-আমার
আমাদের সবার কাছে


কমা, কোলন,ফুলস্টপহীন
চিরস্নিগ্ধতায় ভরা


এক অনন্ত শিল্প নয়


বরং আশ্চর্য অনন্ত এক শিল্প-জিজ্ঞাসা।
(৯)
তাই
কে
কবে
কোথায়
অন্ধকারে
মধুকর ডিঙ্গা বায়
ছড়ায় আলো


পরশপাথর খোঁজে


সহস্রজন্মের পাপ
এক শব্দছন্দে
লাঘব লাঘব করার
প্রতিশ্রুতি আঁকড়ে ধরে


ছন্দহীন চলে যায়


কে তার খবর রাখে?
(১০)
শুধু
এইটুকু জানি
আমার মাটির বুকে
আমারই সৃষ্ট দীপকরাগে
যখন অস্তমিত সমস্ত সবুজ
স্তব্ধ বায়ু


প্রখর প্রখর তাপে
ধূ ধূ
ধূ ধূ প্রান্তর


প্রাণহীন হবার অন্ধকার অপেক্ষায়
তপস্যারত সমস্ত পৃথিবী


তখন যদি মেঘমল্লার হয়ে
দিতে পারো এনে
দু-চোখ ভরা বৃষ্টি


তবেই
তবেই মানি
'হে ঈশ্বরী'-


তুমি পৃথিবীর
সর্বোত্তম সৃষ্টি।
********