বিবিধ
--
আনমনে এঁকে যায় কিছু রেখা,
ওখানে ছিল না তুলোট
ছিল না পত্র-পল্লব,
মনের তুলিতে
আঁকে ধুলোময় বেলাভূমিতে
কিছু রেখা,কিছু ছবি।
ওখানে কারও চোখ থাকে না,
যাকে বলে মৃগনয়না
কিংবা পাখিদের বাসা,
থাকে না কারও এলোকেশ,
থাকে না ফুল,প্রজাপতি-
থাকে না নদী,আকাশ,পাহাড় কিংবা ঢেউ।
বিস্মিত চোখে যা কিছু বিস্মিত ধরা পড়ে
অস্পষ্ট রেখায় ফুটে উঠে তারই চিত্রকল্প,
পটুয়া নিস্পৃহ ভঙ্গীতে আঁকে
চিন্তার গভীরে থাকা সুপ্ত প্রশ্নাবলী,
দৃষ্টির অগোচর থাকে,কেউ দেখে না,
যুগ যুগ ধরে অমিমাংসিত জিজ্ঞাস্য।
অপটু চিত্রকর আঁকে বেলাভূমির বুকে,
নিভৃতে,সংগোপন বিলাসে,
অকস্মাৎ বালুঝড় আসে,
কোথায় অজানায় উড়ে যায় সব
অঙ্কিত যাবতীয় পাতা,
নিশ্চিহ্ন করে মুহূর্তে।
অতঃপর চিত্রকর নিজেই ধূলিস্যাৎ হয়,
তারপরও রয়ে যায় সব সঞ্চিত পৃথিবীর  মুকুরে,
যুগ যুগ ধরে ফিরে ফিরে আসে চিত্রকর
আবার এঁকে যায়, বেলাভূমি সাজে
অজস্র অমিমাংসিত প্রশ্নাবলীর রেখায়।
নির্জন বালুচরে কেউ থাকে না,
অথবা সরব প্রাঙ্গণে  যারা থাকে
অদ্ভূত কারণে সবাই মুখে কুলুপ এঁটে রাখে,
পৃথিবীর ভারমুক্ত অবকাশ নেই,
অজস্র অব্যক্ত কষ্ট নিয়ে আজোবধি চলমান।
বিবিধ প্রশ্নের উত্তর নেই,
নিরপেক্ষ উত্তর নেই,
কোথাও নেই প্রশ্নহীন নির্মোহ মিল,
তারপরও অস্পষ্ট সব রেখায়
আবছা উঁকি দিয়ে পর সব
ধুলোতেই অস্তিত্ব প্রাপ্ত হয়।
০৭/০৩/২০২০