বর্ণে বর্ণে আমার প্রস্থান
--


আমি চন্দ্রবিন্দু হয়ে প্রস্থান করি,
তোমায় সদম্ভে প্র-প্রকৃষ্ট-রূপে পরিত্যাগ করি,
আবার বিন্দুহীন হয়ে শূন্যে মিলাই-
'খ' হয়ে যাই।
অধরা রহস্য থেকে আমি অ-অস্তিত্ব পেয়ে
সুর/স্বর সপ্তকে বিচরণ করি অবাধে আধার প্রাপ্ত হয়ে।
আমি বর্ণমালার বর্ণে বর্ণে করি বিচরণ।
স্বরবর্ণে - ই (সক্রিয়) হয়ে উ- সবকিছু পাল্টে দিই।
ঋ - ঘুর্ণিপাকে আবর্ত্তন আমার
এ- এর হাত ধরে পৌঁছে যাই 'ঔ' এর সীমানায়।
আমি চ- চয়নে, ক-করণে, গ- গমন করি, খুলে দিতে জ্ঞানের দ্বার
জ-জনন অবিরত ট- টঙ্কার তোলে সুরের সপ্তরাজ্যে।
ড-ডয়নে গড়ানে ঢেউ তুলি ত-তারণ তরতর তীর খুঁজে তরী।
দ-দান শেষে ধ- ধারণ করি, প- পালন শেষে ব- বয়ে বেড়াই আজীবন।
রহস্যময় ঙ ঞ ণ - দেয় না অবসর,
ন ম - আমাকে স্বস্তি দেয় কিছুটা প্রকাশের।
র- রক্ষণ নাকি ভক্ষণ এই দ্বিধা শেষে
ল- লালন কিংবা লীনে আমার দোটানা।
শ ষ স আমায় বিবিধ শক্তি যোগায়,
সবকিছু হ- হওয়নের পরে
আমি আবার যাত্রা করি বিন্দুতে।
বিন্দু থেকে আমি সুর তুলি,
অস্তিত্ব আবার ডুবে যায় ডুবে যায়
বিষাদের চন্দ্রবিন্দুতে।
অতএব প্রস্থান আমার নিশ্চিত।
আমার একটি জীবন জ্বলজ্বল করে
সুরের চাদরে,
আমার বর্ণমালায়।
স্বরের রাজ্যে কখনও অসুর,কখনও সুর বটে তুমি,
পুঁজিপতি হতে নীরোগ হতে চেয়ে গড়েছ গণরাজ্য,
গণ থেকে গান হয়ে আবার ছন্দপতন,
বর্ণে বর্ণে, অক্ষরের ইতিহাসে আছে সে কাব্য গুপ্ত।
আছে রংধনুর সাত রঙে( বর্ণে) সে ইতিহাস চিত্রিত,
তাই অকাতরে ক্ষয়ের পালা শেষে
নিশ্চিত আমার বিসর্জন,
প্রখর,নির্দিষ্ট কিংবা ক্ষীণ - সকল শক্তির পালা শেষে
আমি অবশেষে চন্দ্রবিন্দু হই তীব্র অহংকারে।
২০/০৩/২০২০