ছেঁড়া কবিতা
--
হাওয়ায় হাওয়ায়
পাতাগুলো উড়ে যায়
কোথায় যে যায়, কোন অজানায়
টুকরো টুকরো কথাগুলো
ভিড়ে যায়, মিশে যায়
কোন অচেনা বন্দরে।
নোঙ্গর ছেড়ে,হাল ছুঁড়ে
মাঝি বসে চুপচাপ
আকাশে সমুদ্র খুঁজে-
জলের সমুদ্র।
যখন দুঃসহ হয়
ভারী জলকণার ভার,
কঠিন শিলার আস্তরে
রচিত হয় মেঘেদের লিপি,
পথঘাট ছেয়ে যায়
যেন সাদা বকের পালক।
ওখানে থাকে না লোনাজল,
তবু অনুপম! প্রগাঢ় মায়ায়
জড়িয়ে রাখে সবুজের আচ্ছাদন,
ওখানে থাকে অনুচ্চারিত সব
কথাদের লেনদেন।
সবকিছু লেখা থাকে কাগজে,
কাগজের ভাঁজে আটকে থাকে
অদৃশ্য লোনাজল,
পাংশুটে হয় বিবিধ কাব্য
পুরনো ধুলিকণায়।
ক্ষয়ের পালায় আসে বিসর্জনের কাল
আচমকাই নাটাই ছেড়ে সুতো উড়ে যায়
দূর হতে হতে ক্রমশ অদৃশ্য,
গাঢ় অন্ধকারে ছেয়ে যায়
সব আলো,আলো নিভে যায়।
ঘরছাড়া মাঝি দিশেহারা,
তরঙ্গ দোলে ত্রস্ত ত্রাসে,
কবিতার পাতা উড়ে যেতে থাকে,
টুকরো টুকরো পাতাগুলো,
বহু জনমের জমাকৃত সম্পদ
অকারণে বিরহকাতর।
টুকরো হওয়া প্রতিটি কাগজ
ঠিক যেন একটি কবিতা,
একটি কবিতা হয়ে যায় অগণিত,
ছড়িয়ে পড়ে আকাশ সাগর আর
শুষ্ক মরুর উদ্যানে।
ছেঁড়া কবিতা যখন উড়ে
তখন ওখানে থাকে না লোনাজল,
একদলা কষ্ট আটকে থাকে ভেতরে,
পায় না প্রকাশের অবকাশ।
ছেঁড়া কবিতা এভাবেই উধাও হয়ে যায়।


১৬/০৩/২০২০