পাখি হতাম যদি
-----
যদি পাখি হতাম,
রোজ ভোরে তোমার ঘুম ভাঙাতাম
ডেকে ডেকে অবিশ্রান্ত,
ক্লান্ত দুপুরে আমি আয়েশ করে
মগডালে বসে বাতাসের শব্দ শুনতাম।
কখনও ডানা মেলে দিতাম অসীম আকাশে,
বিশাল জলধি পাড়ি দিয়ে যেতাম অচিন কোনো দ্বীপে।
আমি তো পাখি নই,নিরেট মানবী
আমার কণ্ঠে যত সুধা আছে,
সব ঢেলে দেই যদিও
তুমি শোন ভয়ংকর গর্জন এক,
অথবা তোমার কাছে মনে হয় একঘেয়ে
কোনো কামার হাতুরী পিটায় সশব্দে।
আমি নির্জলা মেঘ নই,
রিমঝিম সুর ছড়িয়ে বৃষ্টিসম ঝরাবো নিজেকে,
আমি নই ফুল কোনো,ছড়াবো সুবাস কাননে।
আমি নই মিঠেল রোদ,উষ্ণতায় ভরে দেবো তোমায়,
নই রাখালিয়া বাঁশি,সুরের মুগ্ধতায় ছুঁয়ে যাবো মন।
আমি রক্ত মাংসে গড়া মানবী,
মানুষ হতে চেয়েছি প্রতিনিয়তই।
তাই বঞ্চনায় আমি আর্ত চিৎকার করি,
অবশেষে তীব্র প্রতিবাদে ঝলসে দেই চারপাশ।
আমার নয় পোষা পাখির মন,
কি করে মানাবে পোষ বল?
আমি কর্কশ স্বরে তীব্র প্রতিবাদ করি
প্রতিধ্বনি ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র।
পাহাড়,সমুদ্র আকাশ ছুঁয়ে অবশেষে
নিষ্ফল প্রতিধ্বনি ফিরে আসে
অসহায় আমারই কাছে।
আমি শক্তি যাচি,শক্তি প্রার্থনা করি,
শক্তি সঞ্চয়ে ব্রতী হই।
নিরাপদ আশ্রয় চাই বিধাতার কাছে,
আর ভাসি নিজের অশ্রুজলে।
----৯/১০/২০১৮