কেমন আছ?
---
সেই কবে থেকে অস্তিত্বহীন হয়ে গেছি!
নির্বিকার,আর অপ্রকাশে লুকিয়েছি নিজেকে
ঠিক মনে নেই।
যা কিছু করার আমার সবই করেছি,
চেতনা যদিও বিলোপ করেছি সযতনে।
মাকড়শার বড় বড় ঝুল, ঘরের কোণে পিঁপড়ার সারি
মেঝেতে ধুলোর ছাপ,
তোমার আস্তিনের গাঢ় কালো বিচ্ছিরী দাগ
তরকারির নুন পরখ,সবটাতেই ছিল অখণ্ড মনোযোগ।
ছুটেছি বিরামহীন সাথে নিয়ে সংসার নামের জড়বস্তু,
জড়বস্তু কখনও একলা ছাড়েনি আমাকে,
পায়ে পায়ে বেঁধেছে শিকল।
তবুও নির্বিকার আমি দিয়েছি আমিত্ব বিসর্জন।
সব কিছু চোখে,মনে, মননে গেঁথেছি
দিয়েছি অখণ্ড নিজস্ব সময়।
নিজেকে দেয়ার সময়ই শুধু ছিলনা আমার।
নিজেকে ঠকিয়েছি,নিজেকে বঞ্চিত করেছি
আর ঊষর মরুতে ফুটাতে চেয়েছি ফুল।
অতঃপর আমি নিজেকে বিচ্ছিন্ন করেছি,
নির্বিকার গড়েছি নিজস্ব বলয়।
একান্ত নিজস্ব বলয়ে তোমার প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ।
আমি শুধু করণীয় করি,যা কিছু করেছি আজীবন,
কিন্তু এখন আমার আছে নিজস্ব বলয়।
নিজেকে কত আর ঠকাবো বল?
কখনও এনে কি দিয়েছ একটি সাদা ঘাসফুল?
কখনও খুঁজেছ আমার চোখের নিচে তীব্র কালো দাগ?
যদি কখনও কোন জোছনায় যুগল বন্দী হত চাঁদ
কিংবা সুরের সাথে মেলাতে সুর?
কি এমন ক্ষতিটা হত?
কখনও ভেবেছ কিসে আমি হই খুশি?
আমার যা কিছু ভেবেই নিয়েছ সব তোমার একান্ত দখলে।
মন সে তো চঞ্চল পাখি,বন্দীত্ব মেনে নেবে!
কি করে ভাবো?
আপাত বন্দী অবয়ব ঘুরে বেড়ায় সমস্ত পৃথিবী ব্যপী।
এখন আমাকে দেখে অবাক তুমি!
সুখে,শোকে,রাগে অনুরাগে একটি কথাই তো শুনতে চেয়েছি বার বার।
তুমি কেমন আছ?
কেমন আছ তুমি?
---- ২২/৯/২০১৮