কি জানি
----
কি জানি কি দায় পড়েছিল তোমার!
যখন আমি লুকিয়ে ছিলাম ঝাউবনে,
যাত্রা পথে অনেক পথিকের ভীড়ে,
কিংবা লুকনো  ছিলাম মেঘের আলো আঁধারীতে
অথবা চঞ্চল ঝর্ণাধারার কলতানের তীব্র নিনাদে।
তুমি আমায় অনেক খুঁজেছ,
খুঁজেছ তারাদের ভীড়ে,ছায়াপথে অথবা রামধনু সাতরঙে,
খুঁজেছ নদীর জলে,সাগরের গভীর অতলে আর আকাশের নীলিমায়,
কি এক দূরন্ত নেশায় পেয়েছিল তোমায়।
ভেবেছিলে কাজল নয়না, লতানো গড়ন আর ইলোরা অজন্তার ঊর্বশী কেউ,
পাতাল কন্যা আমি,লুকনো পাতালে।
লুকিয়ে থাকি মুখোশের আড়ালে, দেই আমিত্ব বিসর্জন অনায়াসে,
অবশেষে গুগলে সার্চ দিয়ে পেয়ে গেলে তুমি।
সেল ফোন নং, ঠিকানা সব।
শিহরিত আমি! কি অদ্ভূত আর বিস্ময়কর বালক তুমি?
আমি তো অবাক! পড়ন্ত বিকেলে ভোরের নরম রোদে অবারিত স্নান করে,
কুসুম কুসুম উষ্ণতা মুগ্ধ করে রাখে আমার পৃথিবী।
অবশেষে নদী ক্রমশ ভরাট হয় জোয়ারের তলানীতে,
ক্রমশ নদী শান্ত হয়,পলিমাটি ভরিয়ে দেয় কল কল নদীর ধারা,
শুকনো নদী তটে চলে ফসল বোনার পালা,
আবিষ্কারের নেশা থিতু হয়ে আসে।
তুমি চলে যাও নতুন বন্দরে,
কত কিছু বাকী রয়ে গেছে জীবনে তোমার,
জীবনানন্দের বনলতা সেন পড়ে থাকে কাব্য লেখায়।
সুরঞ্জনারা ক্রমশ ভীড় জমায়,
আর আমি! আবার লুকিয়ে যাই আমাতে,
ঝিনুকের খোলসে,
আভ্যন্তরীণ আমিত্ব বড়ই জটিল,
যেমন জটিল মনস্তত্ব।
জীবনের গভীর গহবরে হাবডুবু খেয়ে কোনমতে বেঁচে থাকি শেষ দীর্ঘ শ্বাসের অপেক্ষায়।
১৫/৪/২০১৮