অনিশ্চিত যাত্রা
--
আমি ধাই অনিশ্চিত গন্তব্যে,
তুমি থাকো সম্মুখ সমরে,
দেখা হবে কোন একদিন,
কোন এক জোয়ারের কালে
দ্বিতীয়ার চাঁদ উঁকি দেবে যখন
প্রচ্ছন্ন কোন এক মেঘের বেলা।
সচরাচর এ চরাচরে পড়ে কি চরণ তোমার!
দ্বিধাগ্রস্ত উত্তরে বিক্ষিপ্ত আমার বাক্যবিন্যাস
তবু থাকো তুমি নিরুত্তর সমুজ্জল
যেমন নিরব থাকে দীপ্ত প্রত্যুষের কালে,
গিরিধারী গিরিগুহায় আপন পৃষ্ঠ লুকায়ে আর কতকাল!
কতকাল বিষন্ন মেঘ ভাসে আকাশে!
ক্রমশ ঘন কালো সঞ্চিত বেদনার ভারে লুটায়
তৃণশয্যায়,আনমনে একাকী বেজে যায়
কৃষ্ণের বাঁশি,
উপেক্ষিত আহ্বান উদ্বেল অতনুর অতন্দ্র প্রহর
বিনা কারণে।
সবকিছু পড়ে থাকে শূন্যতায়,
সবকিছু মুখর নিরব বিলাপে,
আর সমস্ত মায়াজাল ছিন্ন
যখন যাবতীয় সুন্দর পরিত্যক্ত দ্বীপান্তরে,
বিড়ম্বিত স্মৃতির দুঃসহ ভার কিছুটা তার সাথে
আমি চলি মহাকালের নিশ্চিত যাত্রী হতে,
থাক পড়ে থাক যা কিছু ছিল বাকি অঘটন ঘটনার যত।
কিছু বাকি থাকে গোলাপের হাসি,
কিছু পড়ে থাকে কন্টক সাথে,
কিছু তার উদাসীন প্রহর প্রতীক্ষা ব্যকুল,
ক্ষুধার্ত শকুনের নির্ভয় বিচরণ,
এখন তার সুসময় ভারি,
সবকিছু দেখে শুনে বিশুদ্ধ প্রলাপ ঝরে,
চোখ বুজে মুখ বুজে সুখ খোঁজ তুমি,
চরণ তোমার এ চরাচরে নিঃশঙ্ক চিত্তে
খুঁজে বেড়ায় চরণামৃত,
হতাশে অর্গল খুলে দেই,
অবরুদ্ধ বাতাসে তিয়াস মেটে না,
অবশেষে আমি অনায়াসে ত্যাগ করে যাই
চেনা-অচেনার রহস্যময় গোলকধাঁধার একটি পৃথিবী,
আমি এখন অনিশ্চিত পথের নিশ্চিত যাত্রী,
বরাবর স্থির আপন কেন্দ্রবিন্দুতে।
--২০/০৮/২০১৯