পায়ে চলা পথের মানুষেরা
--
পিচ ঢালা পথটা যেখানে শেষ হয়েছিল
ওখানেই শুরু হয়েছিল
আরেকটি পথের।
পিচ ঢালা পথের শেষে ছিল কেবলই কঙ্কর,
ছিল বালুময় ধুলো
আদতে ওই অবধি তাদের কেউ পৌঁছাত না।
পথ শেষ হবার আগেই ফুরতো গন্তব্য তাদের
যাদের ছিল বিলাসী শকট আর সুরম্য অট্টালিকা,
নতুন করে শুরু হওয়া পথটি কেবলই ছিল
পায়ে চলা পথ।
পায়ে চলা পথে যারা পথ ধরে যেত
তাদের সাথে আকাশটা হাঁটতো,কখনও চাঁদ
উত্তপ্ত সূর্য তাদের কপোলে ঝরাতো স্বেদ বিন্দু।
তবু তারা ক্লান্ত হতো না,
পথের দুইপাশে ছিল গভীর খাদ,
খাদের দুইপাশে সবুজ ফসলের জমিন।
ওদের মাঝে কতেক ছিল যারা শষ্যের ঘ্রাণ নিত,
কেউ ঘুটে কুড়াতো,কেউ বাজাতো বাঁশের বাঁশি
তাদের চারপাশে ছিল জীবনদায়িনী সতেজ বাতাস।
দিনশেষে পায়ে চলা পথটি মুখর হতো
যাপিত দিনের হিসেব মেলানো, কত দেনা-পাওনার
তবু ওখানে ছিলো না সংশয়,কেবলই ঘরে ফেরার তাড়া।
পিচ ঢালা পথের দু'পাশে সুরম্য অট্রালিকায় বন্দী কিছু মানুষ,
বাতাস বন্দী,বন্দী জীবনের উত্তাপ
ওখানে তৈরি করা কিছু সুখ থাকে।
পায়ে চলা পথের শেষে থাকে প্রতীক্ষারা,
থাকে অকৃত্রিম ভালোবাসার আচ্ছাদনে প্রিয় মুখ,
অনেক ঐশ্বর্ষ ওখানে বসবাস করে।
পায়ে চলা পথ কেবলই মাটির মানুষের জন্য,
যারা জানে জীবন আসলে কি!
জীবন মানে নয় আবদ্ধ বাতাস,জীবন মানে নয় বন্দীত্ব
নিজেকে কেটে ছেটে ছোট করে মলাট বন্দী হওয়া।
জীবনটাকে হতে হয় সমুদ্রের মত,জীবন হতে হয় আকাশের মত,
জীবনটাকে হতে হয় উন্মুক্ত উদার,
জীবনের ঐশ্বর্য লুকিয়ে থাকে বিশালতায়।
মাটির পথে চলা মানুষগুলো,
মাটির সাথে বসবাস করা মানুষগুলো প্রকৃতই বাস করে বিশালতায়,
জীবনের অলিগলি চষে ফিরে তারা,
তাই তারা জানে জীবনটা আসলেই কি।
পিচ ঢালা পথে চাকা হেঁকে চলা মানুষগুলো
যারা বাস করে সুরম্য খাঁচায়
কেবলই ভোগে অপ্রাপ্তির খিদেয়,
ভোগে হীনমন্যতায়,তুলনা কেবলই ঝঞ্ঝাট,
কেবলই নিজেকে গোপন করা,কেবলই অভিনয় ছল-চাতুরীর,
ওখানে জীবনের প্রকৃত ঐশ্বর্য নেই।
--১৯/০৭/২০১৯