স্মৃতিময় শৈশব
--
আকাবাঁকা মেঠো পথে আমার সোনালী শৈশব হাসে,
চুপিসারে কথা কয়,
একটি দোয়েলের বাসা খুঁজে ফেরার কথা।
বেতবনে বসে থাকা চিল ডানা ঝাপটায় আনমনে
আমার ফিরিয়ে দেয় বর্ণিল শৈশব
রূপকথার রাজপুরী যেন হাতছানি দেয়।
সোনালী ধানের শীষে আমার দুরন্ত ছেলেবেলা হাসে
মাঠের পর মাঠ পেরিয়ে যেখানে
আকাশ ছুঁয়েছে মাটি।
বাঁশবনে বাতাস ছুঁয়ে দেয় আমার পূর্বপুরষেরা যেখানে শায়িত অন্তিম শয়নে
নির্ভার নিশ্চুপ, ওখানে এখন কেবলই স্মৃতির ঘ্রাণ।
চুপিসারে কাছে আসে অজস্র কথার মালা অবিরাম,
এই আমি মাটির গন্ধে থেকেছি বিভোর
কাঁদামাটি মেখে মাটির মানুষের সাথে।
আমাদের খেলাঘরে ছিল কত না হরেক খেলনাপাতি,
ছিল বাঁশি,পাতার পাখি, কচুরীপানার হাঁস
ছিল মাঠে গোল্লাছুটের হৈচৈ রব।
ধানের গন্ধে উন্মাতাল দিন,প্রাচীন মানুষের প্রাচীন গন্ধ
মায়াময় বন্ধনে ছেয়ে থাকা আপ্লুত প্রতিটি ক্ষণ,
ছায়াঢাকা বনতল শুধু চোখ মেলে দেখা।
আজন্ম আমার লালিত স্মৃতি পড়ে থাকে ওখানে,
ওই মাটিতে,উঠোনে,খড়ের গাদায়
শুকিয়ে আসা মরা খালের জলে।
রক্তলাল জবার সাথে মিশে থাকা ফেলে আসা দিন
শান বাঁধানো ঘাটে আজও আমায় খুঁজে ফেরে আর
আমার কবিতায় আমার শৈশব সাজে।
ঘাসের ডগায় আমার বর্ণমালা অপরূপ সাজে,
একটি একটি কবিতা হয়ে সাজে,
আমি কবিতায় সাজাই  শৈশব যা খুঁজে ফিরি নিয়তই।
--১৪/০৯/২০১৯