যে ছিল এতদিন সবার কাছে সত্যবাদী-বিশ্বস্ত
এরপর সেই হলো কোরাইশদের শত্রু এক মস্ত।
এক আল্লাহর ঘোষণা দেয় যখন পবিত্র কাবা ঘরে
কোরাইশগন তাঁকে একযোগে সশস্ত্র আক্রমন করে।


আবু হালাহর পুত্র আল হারিত এলে তাঁর রক্ষায়
কোরাইশদের হাতে শহীদ হয় প্রথম আল্লাহর রাস্তায়।
বয়ে দেবে তারা রক্তের বন্যা মক্কার পথে পথে
সরবে না তবু পিতৃ পুরুষের ধর্ম ও কাবা হতে।


সশস্ত্র-সন্ত্রাসী আক্রমন চলে মোহাম্মদের উপর
বন্ধ হয় তার তরে উপাসনালয় কাবার ঘর।
হট্টগোল করে সব মোহাম্মদ করলে উপাসনা
পথে তাঁর কাঁটা দেয়, গায়ে যত নোংরা আবর্জনা।


পথশিশু তাড়া করে তাঁরে যেন এক বদ্ধ উন্মাদ
চিৎকার, হাত তালি, গান বাজনায় উচ্চ নিনাদ।
জীবনকে করে তোলে যেমন নরকময় তাঁরই
তেমনই অত্যাচারিত তাঁরা যাঁরা তাঁর অনুসারী।


তপ্ত মরুর ফুটন্ত বালুর উপর চিত করে শুয়ে
যন্ত্রনায় কষ্ট দিত বুকের উপর ভারী পাথর থুয়ে।
অত্যাচারে জর্জরিত বিশ্বাসী এক - নাম ইয়াসির
প্রতিবাদের শাস্তি ছিল ইয়াসমিন নামে তার স্ত্রীর।


দুই পা তার শক্ত করে বাঁধা হলো দুইখানা উটে
উটের পিঠে চাবুকাঘাত, যেন যায় দুইদিকে ছুটে।
স্ত্রী ইয়াসমিনের নরম নারী দেহ হলো দ্বিখন্ডিত
পিশাচেরা নাচে উল্লাসে যত হয় বালু রক্তে রঞ্জিত।


শাস্তি যতই কঠিন হয়, বুকের পাথর হয় ভারী
বিশ্বাসে ততই অটল মোহাম্মদ ও তাঁর অনুসারী।
আল্লাহর আদেশ তবু তাঁরা নিঃশর্ত মানে -
এ পথের ডাকে যেন কারো দেহে বেদনা না আনে।


কেন এতো শাস্তি? কেন এতো অসহ্য যন্ত্রনা?
ধার্মিক যেন না করে এক আল্লাহর উপাসনা।
নিরুপায় ধার্মিক ছাড়ে দেশ ছাড়ে নিজ ঘর
তবু মনে বেড়ে যায় বিশ্বাস এক আল্লাহর উপর।
(চলবে...)
------------------------------
** 'ঐশী আলোর ছটা' কাব্যগ্রন্থের জন্যে