বিতাড়িতের মুখে মুখে শোনে ইথিওপিয়ার রাজা
ইসলামী বিশ্বাসে ধার্মিকদের কেমন হয় সাজা।
সব শুনে নরম হয় বিচক্ষণ সে রাজার হৃদয়
কোরাইশ-অনুরোধ ফেলে তাদের দেয় আশ্রয়।


মোহাম্মদ ও সাথী যাঁরা তখনও ছিল মক্কায়
আরও অত্যাচার বাড়ে তাঁদের উপর এই ঘটনায়।
মক্কা-খ্যাত আল-আরকাম আল-মাখযুমির আলয়
অবশেষে হলো মোহাম্মদের অস্থায়ী আশ্রয়।


একদিন মোহাম্মদ বসেছিল সে ঘরের সমুখে
চাচা আবু জহল একা পেয়ে দাঁড়ালো যে রুখে।
নির্বাক মোহাম্মদ শোনে তার অপমান গালাগালি
প্রতিবেশী দাস, আব্দুল্লাহও নিশ্চুপ শুনেছিল খালি।


অতপর আবদুল্লাহ জানায় তা অন্য চাচা হামজাকে
বিক্ষুব্ধ হামজাহ আবু জহলকে ক্রোধভরে ডাকে।
দুই দলের খন্ডযুদ্ধে হামজাহ করে উচ্চ উচ্চারণ -
আজ থেকে মোহাম্মদের ধর্ম আমি করিলাম গ্রহণ।


এ জগতে সাধ্য কার বোঝে আল্লাহর রহস্য-খেলা -
যে ছিল মোহাম্মদ ও ইসলামের শত্রু সকাল-বেলা
সন্ধ্যায় সেই হলো নিবেদিত মুসলিম, ইসলাম-রক্ষক
বাতিলের পরাজয়ে প্রথম জয়ী আর শক্ত হলো হক।


এখন প্রকাশ্য উপাসনা, আলোচনা করে মুসলমান
ইসলামে দীক্ষিত ইতিমধ্যে ধনী ব্যাবসায়ী ওসমান।
মক্কাবাসী কোরাইশরা ধীরে ধীরে বুঝে নেয় বেশ
ইসলাম অপ্রতিরোধ্য, নাহলে স্বয়ং মোহাম্মদ শেষ।


আবু জহল করে তাই এক মহাপুরস্কার ঘোষণা -
একশত উট আর এক হাজার আউন্স সোনা
সেই পাবে, মোহাম্মদের মস্তক এনে দেবে যেজন -
পেতে তা লুব্ধ হলো তারই ভাগ্নী, ওমরের মন।


তেত্রিশ বছরের যোদ্ধা ওমর, হাতে খোলা তলোয়ার
ছুটে চলে মোহাম্মদের মাথা এনে পেতে পুরস্কার।
পথিমধ্যে দেখা হয় সদ্য মুসলিম, সাদের সাথে
জানলে তা ওমর, সাদও খুন হতো ওমরের হাতে।


তবুও সতর্কের বাণী দেয়, শোনায় ওমরকে সাদ -
করো না ওমর তুমি এহেন জঘন্য ঘৃণ্য অপরাধ।
খোঁজ নাও আগে তোমার নিজ ভগ্নী ও ভগ্নী-জামায়
ইসলামের ছায়াতলে আজ মোহাম্মদের কলেমায়।


এ খবরে ওমরের মগজে যেন জ্বলে ওঠে আগুন
তাই যদি সত্যি তবে ওরাই হবে সব আগে খুন।
তলোয়ার হাতে ছোটে ওমর ভগ্নী-ভগ্নীপতির ঘরে
যেয়ে শোনে খাবাব বসে কোরানের আবৃত্তি করে।


বোঝে ওমর, খাবাব কোরান শেখায় বোন আমিনাকে
ভগ্নীপতি সায়ীদও শিক্ষা নেয় কোরান, অনুসারি’ তাকে।
সায়ীদ ও ওমরের মধ্যে শুরু হয় ধাক্কা- হাতাহাতি  
ওমরের তলোয়ারে বিদীর্ণ হবে বুঝি সায়ীদের ছাতি।


স্বামীর প্রাণ রক্ষায় মাঝখানে তাদের, ভগ্নী ছুটে আসে
ওমরের প্রচন্ড চড়ে আমিনার গাল লাল রক্তে ভাসে।
প্রচন্ড ব্যথায় কেঁদে উঠে আমিনা, দেয় চিৎকার -
খাত্তাবের পুত্র! আমিও মুসলমান, করো যা ইচ্ছা তোমার।

সহসা ওমর যেন কিছুটা সম্বিত ফিরে পায়
লজ্জিত হয় নিজের ভগ্নীর এ হেন অবস্থায়।
দাড়িয়ে সে বলে আমিনাকে, পড় শুনি কোরান
সুরা তাহার চোদ্দটি আয়াতে গলে ওমরের প্রাণ।


জীবনে সে শোনে নাই এমন মধুর বাণী, মধুর ভাষায়
স্বর্গীয় আলোর ছটা যেন বিমোহিত হৃদয়কে হাসায়।
যে দম্ভে এসেছিল ওমর মনে নিয়ে ক্রোধের আগুন
সব তার নিভে যেন হলো নিস্তব্ধ, শীতল তার খুন।


দেহ তার কাঁপে থরথর যেন আর নেই নিয়ন্ত্রন
বলে, নিয়ে চলো আমাকে, করি এ ইসলাম গ্রহণ।
আমিনা, সাদ, খাবাব ও ওমর - এই চারজন
মোহাম্মদের সাক্ষাতে আরকামের গৃহে করে গমন।


দ্বারে দন্ডায়মান হামজাহ ঘরে যায় ওমরকে সাথে
ঘরে গেলে নবীজি নেয় ওমরের হাত নিজ হাতে।
দয়া ও মধুর পরশে ছুঁয়ে নবীজি বলে, ও ওমর!
হবে না ক্ষান্ত তুমি না এলে গজব তোমার ওপর?


হতবাক ওমর কাঁপে থরথর যেন নিয়ন্ত্রন হারা
উচ্চারণ করে: নেই অন্য উপাস্য এক আল্লাহ ছাড়া,
মোহাম্মদ নিশ্চয়ই আল্লাহর রসুল - সংবাদ দাতা -
মুহুর্তে ইসলামের দুশমন হলো মুসলমানের ভ্রাতা।
(চলবে...)
--------------------------------------
** 'ঐশী আলোর ছটা' কাব্যগ্রন্থের জন্যে