অতি হিংস্র, ভয়ানক এক বাঘ আসিয়াছে বনে
হায়েনারে আজ দিয়াছে সনদ ছিঁড়ে খেতে জনে জনে।
পশুরাজ দেয় পশু-সৈনিকে মসনদ জেরুজালেম
সেখানে বসিয়া আজ থেকে পশু মানুষেরে দেবে তালেম।


নেকড়ে-হায়েনা আরব সীমানা করিয়াছে অবরোধ
রুক্ষ মরুর শ্রমিকে দিয়াছে ভোগ বিলাসের বোধ।
পাইয়াছে তারা সতেজ ঘাস আর পুষ্টিতে ভরা ছোলা
খেয়ে তা হয়েছে খোদার বান্দা খোদ-খাসী বম্ভোলা।
যা কিছু বুদ্ধি মগজে ছিল ফুড়িয়া উঠেছে শিং
বহুদলে ভাগ হইয়া তারা নাচিছে ধিন তা ধিন।
আরব-ভুমি ভাগ করিয়াছে বহু ছোট ছোট দেশে
একে অপরে কাফের বলিছে শিয়া ও সুন্নি বেশে।
শান্তি-ধর্ম ইসলামে আজ সন্ত্রাসী মুসলিম
ভাই ও ভাইয়ের সম্পর্ক আজ গরল বিষ ও নিম।
কাফের আখ্যায় শিয়া মসজিদ রক্তের বানে ভাসে
রক্ত হাতে কাবার রক্ষক বিজয়ের হাসি হাসে।
নির্বোধেরা বুঝেও বোঝে না বাঘ-হায়েনার খেলা
একে অপরের ঘরেতে আগুন লাগিয়ে কাটায় বেলা।
বাঘ হায়েনা শান্তির দূত শান্তির বাণী ছড়ায়
বিশ্ববাসীকে ভূত তাড়ানোর অগ্নি-মন্ত্র পড়ায়।
অশান্তিতে বিশ্ব পোড়ে আগুন-বারুদ ধোঁয়াই
মানুষ মরে কুকুরের মত - কুমিরে অশ্রু খোয়ায়।


বাঘ হায়েনার মারণ-অস্ত্র উচ্চমূল্যে বেচে
ছাগল-সর্দার কিনে খুশী হয়, গান গায় নেচে নেচে।
ছাগলে ভাবে কার চেয়ে হলো কার বল কত বেশী
বাঘ হায়েনারে সাথে নিয়ে নিজ ভায়েরে দেখায় পেশী।
বাঘ হায়েনা কখনো হয় না কোন ছাগলের সাথী
দু'দিন সোহাগ, তারপর দেয় গোদা পায়ে তারে লাথি।
যখন যাহারে ইচ্ছা করে দু'দিনের তরে বাঁচায়
সময় হলেই নিজের স্বার্থে খাসী ধরে করে জবাই।


বাঘ দেয় তার প্রাণের বন্ধু হায়েনারে উপহার
অখুশী ছাগল কয়দিন দেয় জোরে জোরে চিৎকার।
লোক দেখানো ছাগল সভা, নিন্দা ও আলোচনা
পিছনে তদ্বীর কে হবে আগে বাঘের আপনজনা।
প্রয়োজনে দেয় দেশের সম্পদ বাঘ হায়েনার ঘরে
স্বদেশবাসী ও অতিথি হাজী নীরবে যোগান করে।


ঠিক বেঠিকের বেড়ায় আজিকে বিভেদের মহাঘুঁন
আরব আফ্রিকায় আবার এসেছে হামান ও ফেরাউন।
কে জানে মূসা কবে জন্মাবে আবার মরুর দেশে
ফেরাউন ঘরে লালিত হবে পালিত পুত্র বেশে।
সঙ্গে লইয়া সত্য ইমানে শক্ত মুসলমান
নীল দরিয়াই নামিলে সলিল দেখাইবে সম্মান
দু'দিকে দাঁড়িয়ে মাঝখানে দেবে পার হয়ে যাওয়া পথ
সত্যের পারে নিরাপদে যাবে ইমানদার ও সৎ
বাঘ-দজ্জাল, হামান ফেরাউন করিবে পিছনে তাড়া
সলিলে ডুবিয়া চিরতরে হবে ধরনীর বুক ছাড়া।


নিপাত যাবে বাঘ, হায়েনা মিথ্যা ও বর্বর
শান্তি-সূর্য পূর্বে উঠিবে আলোময় তারপর।
------------------------------------------------


* কবিতাটি ইসলাম ধর্মের কিছু ইতিহাস, স্থান, দল ও রীতির উল্লেখে বিশ্বরাজনীতির খেলায় শান্তির নামে যে ইসলাম ধর্মবিরোধি ধবংসাত্মক কর্মকান্ড আর সেখানে মুসলিম দেশের নির্বোধ, জনপ্রতিনিধিত্বহীন, অত্যাচারি ও বকধার্মিক শাসকগন কিভাবে ইন্ধন যোগাচ্ছে রূপকে সেটা আলোকিত করার প্রচেষ্টা। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার জন্যে এর সুসমাধানের বিকল্প নেই। কিন্তু তথাকথিত শান্তির দূতরা কি এটির সুসামাধান সত্যিই করতে চায়, না জিইয়ে রেখে ব্যাবসা সফল হতে চায় সেই প্রশ্নে লেখা। আশা করি অন্য ধর্মাবলম্বী কবিবন্ধুগন অন্যভাবে নেবেন না।