বন্ধু এবং আমার বাড়ি, দুই হলেও এক দুয়ারি
আমি মহান স্রষ্টা পূজি, বন্ধু ইঁদুর পূজারী।


হঠাৎ ভাবি সেদিন
বন্ধু আমার নরক যাবে স্রষ্টা পূজাবিহীন।
সেসব কথা ভেবে রাতে উঠল কেঁদে মন
সকাল হলে শিক্ষা দেব স্রষ্টা পূজা কেমন।


সকাল বেলায় পায়ে পায়ে যখন আমি দ্বারে
বন্ধু দেখি প্রাতঃপূজা সেই মাত্র সারে।
স্নিগ্ধ সকাল, শান্ত মনে, বন্ধু দেখে হাসে
কাছেই একটা মোড়া টেনে বন্ধু বসে পাশে।


বন্ধু বলে, "একটু ভাবো, বুঝবে তুমি ঠিক
বিড়াল এবং সাপকে তুমি দেবেই জানি ধিক।
যত্নে পাওয়া প্রভুর খাবার, কীই বা আছে অভাব
ইঁদুর পেলেই তাও বিড়ালের জাপ্টে খাওয়া স্বভাব।
কষ্টে গড়া ঘরটাতে যার সর্প এসে ঢুকে
তার গলাতেই ইদুর কেমন মরে ধুকে ধুকে।
সেই তুলনায় ইঁদুর কত নিরীহ তাই ভাবো
তার মত আর পূজনীয় কোথায় বলো পাবো?  
জানি তোমার হয়তো আছে একটুখানি ক্ষোভ
সব ইঁদুরের ক্ষুধার চেয়ে বেশী রাখার লোভ।
উঠাও যদি সেসব কথা, আমিও তবে বলি
এই জগতে খোঁজে না কে বেশী পাওয়ার গলি?"


হঠাৎ মাথা ঘুলিয়ে ওঠে, বুকের ভেতর চাপ
ভাবছি আমি, কোনটি নিজে, বিড়াল নাকি সাপ?
বন্ধু কিসে নরক যাবে সেই কথা না তুলে
বলি বন্ধু, অনেক বেলা, গিয়েছিই তা ভুলে।
বাড়ির পথে হাঁটতে হাঁটতে মনের মাঝে ভাবি
বন্ধুর কাছে কীই বা অর্জন কীই বা আমার দাবি?
নিত্য যে জন দেখেও আমায়, পায়নি খুঁজে ভালো
তারে দেখায় কেমন করে স্রষ্টা পূজার আলো?