যেদিন তুমি এলে প্রথম পৃথিবীতে মোর কন্যা
হৃদয়ে সেদিন বয়ে গেল যেন বাধ ভাঙা এক বন্যা।
ছুঁয়েছি তোমার ছোট্ট, নরম পায়ের কখানা আঙুল
হৃদয়-বাগানে ফুটল তাতে শত হরষের ফুল।


সময়ের কাঁটা দ্রুত ঘুরে গেল - যাবে তুমি স্কুলে
সারাটা রাস্তা তোমার মুঠো ধরা ছিল মোর আঙুলে।
স্কুলে রেখে যেই বলিলাম - থাকো মা তবে আসি
প্রথম দিনের উত্তেজনা কোথা গেল যেন ভাসি।


বলিলে তুমি- যেয়ো না আব্বু, যেয়ো না আমাকে ছেড়ে -
যেন স্কুল তোমাকেই নেবে মোর কাছ থেকে কেড়ে।
কহিলাম - মাগো, ভয় নেই কিছু সব হয়ে যাবে ঠিক
শুধু শিখে নাও আমাকে ছাড়াই জয় করা দশ-দিক।


হয়তো একদিন উদ্গ্রীব হবে আমাকেই ছেড়ে যেতে
নিজ সংসারে সুখের স্বর্গ গড়ার স্বপনে মেতে।
তবু জানি মাগো আসিবে যখন সেদিন বিদায়-সময়
অশ্রুজলে আমারই মত তোমারও ভাসিবে হৃদয়।


হয়ত বলিবে - প্রাণের আব্বু, আমায় কি যেতে হবে
আমারে ছাড়িয়া আজ থেকে ঘরে কেমন করিয়া রবে?
বলিব - মাগো দুঃখ করো না, এটাই জগতে নিয়ম
তোমারে দেখিতে অচিরে যাবো না, ভাবো কেন নির্মম?


জানি তোমারও সময়ের ঘড়ি খুব দ্রুত যাবে হেঁটে  
শ্বশুর, শাশুড়ী, স্বামী, সন্তান নিয়ে সুখে দিন কেটে।
হয়ত একদিন খবর পাবে আমি শেষ বিছানায়
আবার তোমাকে দেখিতে যাবো সে ক্ষমতা আর নাই।


হয়ত সেদিন আসিবে তুমি, বসিবে সে বিছানায়
শক্ত হাতে হাতটি ধরিয়া নয়ন ভাসাবে বেদনায়।
হয়ত আমার হৃদয় কাঁদিবে - মৃত্যুকে করে জয়
তোমার সাথে ধরনীতে থাকি আরও কিছুটা সময়।


হয়ত তুমি কাঁদিবে আবার - আমায় যেয়ো না ছেড়ে
বলিব - মাগো, জগতের নিয়ম সকলকে নেয় কেড়ে।
আমার এখন সময় এসেছে আমাকে যেতেই হবে
তবু জেনে রাখো যতদিন থাকো আব্বু সাথেই রবে।


তোমার তুলনা কোনদিনই মা হবে না পুত্রের সাথে
নির্ভয়ে এই জীবন রাখা যায় মা তোমার হাতে।
চাই না তুমি হও বাঙলার অসহায় এক ললনা
যাদের সাথে এ নিঠুর সমাজ করে চিরদিন ছলনা।


তোমার জীবনে আসিবে যখন মোক্ষম সে সময়
পঞ্চপদী রান্নায় শুধু করো না তা অপচয়।
উন্মুক্ত এই পৃথিবী - ভেবো না সীমানা তার
রান্না ঘরের উঠোন পেরিয়ে যেখানে খিড়কী দ্বার।


শুধু নয় মাগো কল্পনাতে - ছূটবে সবল তনুতে
দেখবে কী আছে আকাশে পাতালে সকলকিছুর অনুতে।
হয়েও স্বামীর অর্ধাঙ্গিনী রবে কেন মাগো নিঃস্ব?
আদায় করো শক্ত হাতে তার অর্ধেক বিশ্ব।