প্রকাশের উদ্দেশ্যে আমি একটা কবিতা পাঠিয়েছিলাম এক পত্রিকায়। কবিতাটির পরিবর্তন করে আমার অনুমোদন ছাড়াই সেই পত্রিকার মাননীয় সম্পাদক আমাকে না জানিয়ে কবিতাটি ওনার পত্রিকায় প্রকাশ করেছিলেন। এই কবিতা ও ঘটনা প্রসঙ্গে আমার প্রতিক্রিয়া এবং ভাবনা আমি এখানে আলোচনা করবো।


মূল কবিতা – আমি পাঠিয়েছিলাম ......


একুশে ফেব্রুয়ারির শপথ ...


মায়ের আদর সুধা, প্রেয়সির প্রেম, ভাই বোনেদের ভালবাসা,
মধুর হয়েছে আরো মন মাঝে যবে বাজিয়েছে বাঁশী মাতৃভাষা।
প্রাণে জ্বেলে স্বপ্ন শিখা জাগায়েছে বহু আশা
মনোরমা মধুরিমা মোর প্রিয় বাংলা ভাষা।
প্রভাতে আসিয়া আলো ছুয়েছে হৃদয়, বিলের শাপলা সুখে হাসে,
লিখেছি কবিতা কত এই ভাষাতেই শিশিরের সুরে দূর্বা ঘাসে।


শিখবো বিদেশী ভাষা ভুলিয়া মায়েকে? না না না, হবে না কোন মতে -
উঠেছে হৃদয় দুলে সংঘাত বিক্ষুদ্ধ কাল বোশেখির প্রলয়েতে।
পাখি ফুলেদের মত বাঙালির বেশে
আসিয়াছি কতবার এই বাংলা দেশে।
যদি দিতে হয় প্রাণ তবে দেবো আজ ভুলিবো না তবু স্বপ্ন দেখা,
ইতিহাসের পাতায় রেখে যাবো এঁকে মাতৃভাষা তরে রক্ত রেখা।



সম্পাদক নিজের ইচ্ছামত পরিবর্তন করে এভাবে কবিতাটি প্রকাশ করেছেন আমার মতামত না নিয়েই right adjusted করে।  এখানে  right adjusted দেখানোর অসুবিধা হয়েছে বলে  left adjusted হয়ে আছে - right adjusted কল্পনা করে নিতে হবে  ......


একুশে ফেব্রুয়ারির শপথ


মায়ের আদর সুধা, প্রেয়সির প্রেম,
ভাই-বোনের ভালোবাসা,
মধুর  আরো, মন মাঝে যখন
বাজায় বাঁশী আমার মাতৃভাষা।
প্রাণে জ্বলে, স্বপ্নশিখা জাগায় শত আশা
মনোরমা মাধুরিমা মোর প্রিয় বাংলাভাষা।
প্রভাত আলোয় ছুঁয়েছে হৃদয়,
বিলের শাপলাও সুখে হাসে,
লিখছি কবিতা কত এই ভাষাতেই
শিশিরের সুরে দূর্বাঘাসে।


শিখবো বিদেশী ভাষা ভুলে নিজের মা'কে?
হবে না তা কোন মতে -
উঠেছে হৃদয় দুলে সংঘাতে
বিক্ষুদ্ধ কাল-বোশেখির প্রলয়েতে।
ফুল-পাখিদের মত বাঙালির বেশে
এসেছে কতবার এই বাংলাদেশে।
যদি দিতে হয় তবে দেবো প্রাণ
ভুলবো না তবু স্বপ্ন দেখা,
ইতিহাসের পাতায় রেখে যাবো এঁকে
মাতৃভাষার তরে রক্ত রেখা।


ক) যখন আমি পরিবর্তন করা কবিতাটি দেখলাম, তখন স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন জাগলো আমার মনে – মূল কবিতাটি পরিবর্তনের কোন প্রয়োজন ছিল কি? মনে হয় না। তবে কেন পরিবর্তন করা হলো। মনেই হলো না এই পরিবর্তনের ফলে কবিতাটির কোন মানোন্নয়ন হয়েছে। বরং মনে হলো পরিবর্তনের ফলে যে ভাবধারা ও চেতনা নিয়ে আমি কবিতাটি লিখেছিলাম তার বিকৃতি ঘটানো হয়েছে।


কয়েকটি উদাহরণ -


১ম - “মধুর হয়েছে আরো মন মাঝে যবে বাজিয়েছে বাঁশী মাতৃভাষা।” লাইনটি হয়ে গেল “মধুর  আরো, মন মাঝে যখন /বাজায় বাঁশী আমার মাতৃভাষা।” এখানে এই পরিবর্তনের কোন প্রয়োজন ছিল কি?
২য় – “প্রাণে জ্বেলে স্বপ্ন শিখা জাগায়েছে বহু আশা” আর “প্রাণে জ্বলে, স্বপ্নশিখা জাগায় শত আশা” – এই পরিবর্তনে আমার কথার ভাব ও অর্থই পরিবর্তন করে দেয়া হয়েছে।
৩য় – আমি লিখেছি “মধুরিমা” – সেখানে তা পরিবর্তন করে লেখা হয়েছে “মাধুরিমা” –  জেনেশুনেই “মধুরিমা” শব্দটি আমি ব্যবহার করেছি। মধুরিমা মানে ইংরেজিতে sweetness; loveliness; pleasantness – বাংলা “মধুর”-এর বিশেষ্যপদ – মধুরিমা। “মাধুরিমা” – বলে কোন শব্দই নেই (আমার জানা নেই) ... বা থাকলেও যে উদ্দেশ্যে মধুরিমা ব্যবহৃত তা থেকে তার অর্থ আলাদা। অথচ না জেনে বা বুঝে সম্পাদক এই শব্দটি ইচ্ছামত পরিবর্তন করে দিয়েছেন।
৪র্থ – আমি লিখেছি “প্রভাতে আসিয়া আলো ছুয়েছে হৃদয়, বিলের শাপলা সুখে হাসে,” এর মানে প্রভাতের আলো এসে বিলের শাপলার হৃদয় ছুয়েছে এবং শাপলা সুখে হেসেছে। কিন্তু পরিবর্তন করে লেখা হয়েছে “প্রভাত আলোয় ছুঁয়েছে হৃদয়,/বিলের শাপলাও সুখে হাসে,” – আমার লেখার অর্থটাও পরিবর্তন করা হয়েছে এখানে। এখানে শাপলার ব্যবহার রূপক – “বিলের শাপলা” বিল বলতে বাংলাদেশে আর শাপলা বলতে মানুষ  – প্রভাতের আলো এসে যখন বাংলাদেশের মানুষের হৃদয় স্পর্শ করেছে তখন সবাই সুখের হাসি হেসেছে – সম্পাদক বুঝতে পারেন নি এই লাইনের এই রূপক অর্থ। তাই তার পরিবর্তনটিও ঠিকমত হয়নি। “শাপলাও সুখে হাসে”-এর পরিবর্তে “শাপলা সুখে হাসে” রাখলেও অর্থ মোটামুটি ঠিক থাকতো।
৫ম – “শিখবো বিদেশী ভাষা ভুলিয়া মায়েকে? না না না, হবে না কোন মতে –” পরিবর্তন করে লেখা হয়েছে “শিখবো বিদেশী ভাষা ভুলে নিজের মা'কে?/হবে না তা কোন মতে –” “না না না, হবে না কোন মতে” এর মাধ্যমে বিশেষ আবেগ প্রকাশ করা হয়েছিল। সম্পাদক সেখানে এই আবেগ একেবারেই বাইরে ছুড়ে ফেলে দিয়েছেন।
৬ষ্ঠ– “উঠেছে হৃদয় দুলে সংঘাত বিক্ষুদ্ধ কাল বোশেখির প্রলয়েতে” কে পরিবর্তন করে “উঠেছে হৃদয় দুলে সংঘাতে / বিক্ষুদ্ধ কাল-বোশেখির প্রলয়েতে” করে দিয়েছেন। এখানে হৃদয় সংঘাতে দুলে ওঠেনি – হৃদয় দুলে উঠেছে  “সংঘাত বিক্ষুদ্ধ কাল বোশেখির" যে প্রলয় সেই প্রলয়েতে। এই কথাটাও প্রিয় সম্পাদক বুঝতে পেরেছেন বলে মনে হয় নি। পারলে এভাবে পরিবর্তন করতেন না। যেভাবে পড়তে হবে - উঠেছে হৃদয় দুলে/ সংঘাত বিক্ষুদ্ধ/ কাল বোশেখির/ প্রলয়েতে
৭ম – “পাখি ফুলেদের মত বাঙালির বেশে/আসিয়াছি কতবার এই বাংলা দেশে।” – ওনার হাতে হয়ে গিয়েছে “ফুল-পাখিদের মত বাঙালির বেশে/ এসেছে কতবার এই বাংলাদেশে।” “আসিয়াছি” হয়ে গেল “এসেছে”। এখানে আসিয়াছি – মানে আমি এসেছি। অন্যদিকে এসেছে বলতে গেলে লেখার ভাব ও অর্থ দুটোই পাল্টে দেয়া হলো।


খ) এরপর প্রশ্ন, কেন আমাকে না জানিয়ে এবং আমার বিনা সম্মতিতে এর প্রকাশ? সময়ের অভাবে আমার সাথে যথাযথ ভাবে ও যথা সময়ে যোগাযোগ করা সম্ভব নয় – এই ধরণের উত্তর কিছুতেই যুক্তিযুক্ত হতে পারে না। কবিতাটি পরিবর্তন করে সম্পাদক কবিতাটিকে যে ভাবে ও বোধে কবিতাটি লেখা তা ঠিকমত না বুঝেই একেবারেই উলট-পালট করে দেবার সময় পাবেন অথচ যোগাযোগের সময় পাবেন না তা কি ঠিক হতে পারে? কপি-পেস্ট করে ইমেইলে এক লাইন লিখে মতামত চাইতে অনেক সময় লাগে না – যদি যোগাযোগের সদিচ্ছা থাকে। মনে হয় সম্পাদক নিজের আত্ম-অহমিকা ও ক্ষমতাকেই প্রাধান্য দিয়েছেন এক্ষেত্রে – তাই যোগাযোগের প্রয়োজন মনে করেননি। এটা যে কতটা  অ-সম্পাদকীয় কাজ তা বলার অপেক্ষা রাখে না।  তাই প্রকাশিত কবিতাটি দেখে আমি স্বাভাবিক কারণেই  অতি ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিলাম এবং এখনো ক্ষুব্ধ আছি। সম্পাদক  হলেই কি একজনের লেখা নিজের ইচ্ছামত পরিবর্তন করে প্রকাশ করা যায় যায়? তাহলে লেখকের স্বকীয়ত্ব ও স্বাধীনতা থাকলো কোথায়? আমার মনে হয় -  


১। কবিতাটি সম্পাদকের কাছে ভাল না লাগলে প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত তিনি নিতে পারেন।
২। কবিতাটির ফরম্যাট (যেমন একটি লাইন ঠিকমত ভেঙ্গে দুটি লাইনে রেখে), ও বানান ভুল পরিবর্তন করে প্রকাশ করা যেতে পারে লেখকের সাথে আলোচনা না করে বা সম্মতি না নিয়েও। এতে বরং লেখক খুশীই হবেন ভুলগুলো সংশোধিত হলো দেখে। বানান ভুলের ক্ষেত্রে সাবধান থাকতে হবে যেন বানান ঠিক করতে গিয়ে যেন সঠিক বানানের ভুল বানান করা না হয়। (যেমন – মধুরিমা হয়ে গিয়েছে মাধুরিমা – এখানে মধুরিমা ঠিক আর তা পালটে ভুল শব্দ মাধুরিমা করা হয়েছে।
৩। তবে কবিতার শব্দ, ভাষা বা অন্য কোন ধরণের বিন্যাস বা পরিবর্তন করার দরকার হলে সম্পাদকের নিজের ইচ্ছামত তা করা মানেই সম্পাদকীয় রীতি-নীতির লঙ্ঘন। এই পরিবর্তন যে কবিতাটিকে কবিতা লেখকের মনে ভাব ও হৃদয়ের প্রকাশকে বিকৃত হতে পারে যে সচেতনা যদি সম্পাদকের না থাকলো তবে তার সম্পাদক হওয়ার যোগ্যতা আছে বলে মনে করা যাবে কি? একজন যোগ্য ও বিজ্ঞ সম্পাদক এক্ষেত্রে কবিতাটি প্রকাশ না করার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন – অথবা কবিতার লেখককে সাজেশন হিসাবে জানাতে পারেন কী কী পরিবর্তন করলে কবিতাটি গ্রহনযোগ্য হতে পারে। তখন যদি লেখক সম্মতি দেন তবেই কবিতা প্রকাশিত হতে পারে। অন্যথায় লেখককে না জানিয়ে ইচ্ছামত পরিবর্তন করে কবিতা প্রকাশ করা অনৈতিক কাজ ছাড়া আর কিছু নয়।
৪। যোগাযোগের সময় নেই বা অনেক ব্যস্ত ইত্যাদি যুক্তি দেখান যে সম্পাদক – তার পক্ষে সম্পাদনার কাজ না করাই  ভালো। একজন সম্পাদক শুধু যে একজন সম্পাদক তাই নয় – তিনি একজন অনুপ্রেরণা প্রদানকারি। কিন্তু ইচ্ছামত কবিতা পরিবর্তন করে লেখকের সম্মতি ছাড়া কবিতা (বা লেখা) প্রকাশ করলে যে লেখককে কতখানি ব্যথিত ও হতাশ করে তোলা হয় ও পরিনামে লেখক কী পরিমানে নিরুৎসাহিত হন, সেই বেদনাবোধ ও সংবেদনশীলতা যদি সম্পাদকের মধ্যে না থাকে তবে তাকে যোগ্য সম্পাদক বলা যায় কি? আমার মতে যোগাযোগের সময় না থাকলে সম্পাদক না হওয়াই ভালো অথবা কবিতাটি প্রকাশ না করাই ভালো।


প্রচ্ছদ শুধু ঝকঝকে হলে  বা সম্পাদকের ইচ্ছামত লেখার লাইন পালটে দিয়ে লেখকদের সম্মতি না নিয়ে লেখা প্রকাশ করলে একটি পত্রিকা সুন্দর হয় না। পত্রিকায় যারা লেখেন তাদের অন্তরের স্নিগ্ধতা কতখানি মিশে আছে পত্রিকাটির সাথে তার উপরও একটি পত্রিকার সৌন্দর্য্য ও সফলতা নির্ভর করে। একজন সম্পাদকের পরিশ্রম তখন স্বার্থক হয় যখন যাদের লেখা পত্রিকায় বের হয় তারা সবাই খুশি ও সুখী হয় তাদের লেখা ঠিকঠাক ভাবে প্রকাশিত হয়েছে দেখতে পেয়ে। কারো লেখার লাইন বাদ গেলে বা সম্পূর্ণ লেখা উলট-পালট করে লেখকের সম্মতি ছাড়া লেখা প্রকাশ করা হলে তাতে লেখকের প্রচেষ্টাকে যথাযথ মর্যাদা দেয়া হয় না। আর যে সম্পাদক লেখকদের লেখাকে যথাযথ মর্যাদা দিতে জানেন না, দেন না বা দিতে পারেন না, সে সম্পাদক নিজে নিজেকে যত উঁচুই ভাবুক না কেন আসলে তিনি কি অত উঁচুতে দাঁড়িয়ে?  


গ) আরেকটি বিষয় - অনেক কষ্ট করে কবিতাটি অক্ষর বৃত্তে লেখার প্রয়াস করেছি ...


একুশে ফেব্রুয়ারির শপথ ...


মায়ের আদর সুধা,/ প্রেয়সির প্রেম,/ ভাই বোনেদের/ ভালবাসা,   ৮/৬/৬/৪  (অথবা ১৪ + ১০)
মধুর হয়েছে আরো/ মন মাঝে যবে /বাজিয়েছে বাঁশী /মাতৃভাষা।  ৮/৬/৬/৪ (অথবা ১৪ + ১০)
প্রাণে জ্বেলে স্বপ্ন শিখা /জাগায়েছে বহু/ আশা   ৮/৬ /২   (অথবা ৮+৮)
মনোরমা মধুরিমা/ মোর প্রিয় বাংলা /ভাষা।     ৮/৬ /২ (অথবা ৮+৮)
প্রভাতে আসিয়া আলো/ ছুয়েছে হৃদয়,/ বিলের শাপলা /সুখে হাসে, ৮/৬/৬/৪ (অথবা ১৪ + ১০)
লিখেছি কবিতা কত/ এই ভাষাতেই /শিশিরের সুরে/ দূর্বা ঘাসে।  ৮/৬/৬/৪ (অথবা ১৪ + ১০)


শিখবো বিদেশী ভাষা/ ভুলিয়া মায়েকে?/ না না না, হবে না /কোন মতে -  ৮/৬/৬/৪ (অথবা ১৪ + ১০)
উঠেছে হৃদয় দুলে/ সংঘাত বিক্ষুদ্ধ/ কাল বোশেখির/ প্রলয়েতে।  ৮/৬/৬/৪ (অথবা ১৪ + ১০)
পাখি ফুলেদের মত /বাঙালির বেশে    ৮/৬
আসিয়াছি কতবার/ এই বাংলা দেশে।   ৮/৬
যদি দিতে হয় প্রাণ/ তবে দেবো আজ/ ভুলিবো না তবু/ স্বপ্ন দেখা,  ৮/৬/৬/৪ (অথবা ১৪ + ১০)
ইতিহাসের পাতায়/ রেখে যাবো এঁকে/ মাতৃভাষা তরে /রক্ত রেখা।  ৮/৬/৬/৪ (অথবা ১৪ + ১০)


এ কেমন সম্পাদনা যে এই বিন্যাস একজন সম্পাদক তার সম্পাদকীয় ক্ষমতা দিয়ে অনুধাবনই করতে পারলেন না? আমি কবিতাটি লিখতে গিয়ে অনেক শ্রম করে একটি বিশেষরূপে কবিতাটিকে সাজিয়েছি,  আর প্রিয় সম্পাদক এই কবিতাটিকে ভেঙে ডান দিকে এডজাস্ট (Right adjusted) করে এমন করেছেন যে আমার সৃষ্টির আসল ফরমটাই নষ্ট করে দিয়েছেন। ফলে কবিতাটি আর আমার লেখা বলে মনেই হলো না আমার কাছে। একজন সম্পাদক যদি বুঝতে না পারেন কবিতাটি কোন ফরমে লেখা তবে সে কি অবাক হবার ও ক্ষুব্ধ হবার কথা নয়? আমার মনে হয়েছে ঘটনাটি যেন ঠিক একজন বিজ্ঞ শিক্ষিত ডাক্তার আর  অবিজ্ঞ হাতুড়ে ডাক্তারের সাথে তুলনা করা যেতে পারে -  হাতুড়ে ডাক্তার ভিতরটাকে ঠিকমত বুঝতে না পেরে ঔষধ দেয়, আর বিজ্ঞ শিক্ষিত ডাক্তার খুব সহজে ভিতরটা বুঝতে পারেন। সম্পাদক হলেই অধিকার জন্মে না একজন কবি বা লেখকের লেখা সম্পাদকের ইচ্ছামত ভেঙ্গেচুরে ভিন্ন রূপে বিনা সম্মতিতে প্রকাশ করার!


যাহোক, মনে হয় প্রিয় সম্পাদক অত চিন্তাভাবনা করার সময় পাননি নিজের ব্যস্ততা বা অন্য কারণে।  উনি হয়ত ভেবেছিলেন একটি কবিতা যেন তেন ভাবে তার পত্রিকায় প্রকাশ করে দিলেই তিনি লেখকের একটি বিশেষ উপকার করবেন। কবিতা প্রকাশিত হয়েছে – সেই আনন্দে মহা সুখী হয়ে লেখক নেচে উঠবেন ও সম্পাদকের কাজের প্রসংশায় পঞ্চমুখ হয়ে উঠবেন এবং অশেষ কৃতজ্ঞতা জানাবেন। কিন্তু হায়, প্রকাশিত কবিতাটির চেহারা দেখে আমি খুব ক্ষুব্ধ হয়েছি। এ ভাবে কবিতার পরিবর্তন করলে একজন লেখকের ক্ষুব্ধ হবার কথাই বটে!  এমনভাবে কবিতা প্রকাশ করা থেকে প্রকাশ না করাই ভালো। এমন যার সম্পাদনা – তার হাতে কবিতা তুলে না দেয়াই শ্রেয় মনে হয়  – আমি অবশ্য আর তার সম্পাদনায় আমার কবিতা প্রকাশিত হোক তা চাইবো না - হাতুড়ে ডাক্তারের মত কবিতার কী করে বসবেন কে জানে! আপনি নিজের আঁকা একটি ছবি পাঠালেন কোন পত্রিকায় প্রকাশ করতে। পত্রিকার সম্পাদক আপনার ছবির উপর এখানে-ওখানে দুই চারবার তুলি বুলিয়ে লাল-সবুজ-নীল বা হলুদ রংয়ের অভাব রয়েছে মনে করে আপনাকে না জানিয়ে তুলির টানে এখানে-সেখানে আপনার ছবি পরিবর্তন করে ছাপিয়ে দিলো। ছবিটা কি আর আপনার থাকলো – ছবিটি দেখে আপনার প্রতিক্রিয়া কেমন হবে? কবিতার ক্ষেত্রেও ঠিক তেমনি – কবিতা কবির ভালোবাসার এক বিশেষ সৃষ্টি – সেই সৃষ্টিকে লেখকের মতামত না নিয়ে পরিবর্তন করা কি কোন চেতনাসম্পন্ন সম্পাদকের পক্ষে নৈতিক কাজ হয়? কবিতার মান উন্নয়নে যদি কোন সাজেশন থাকে তবে তা লেখকে জানানো প্রয়োজন অবশ্যই – লেখক যদি রাজি না হয় এবং  প্রকাশকও যদি মনে করেন কবিতাটি গ্রহনযোগ্য নয় তবে প্রকাশ না করাই যথাযথ পদক্ষেপ। এই পদক্ষেপ দুজনের জন্যই মঙ্গল – ভুল বোঝাবুঝির কিছু নেই সেখানে।


পরিশেষে, আমার এই আলোচনা বিশেষ কারো প্রতি মন্দ  কোন ভাবনা নিয়ে লেখা নয় - এ কারণে সম্পাদকের নাম বা পত্রিকার নাম  উল্লেখ করা হয়নি আলোচনাটিতে। আসরের নিয়ম মেনেই কবি ও কবিতা বিষয়ক অভিজ্ঞতার বিশ্লেষণ করে আমার দৃষ্টিতে একজন সম্পাদকের সম্পাদনার বেশ কিছু ভ্রান্তি, অসংবেদনশীল ও অনৈতিক পদক্ষেপ এই আলোচনায় তুলে ধরেছি মাত্র। ইনি খোলা মনের মানুষ হলে কোন ভাবনা নেই – বুঝতে চেষ্টা করবেন আমার কথাগুলো এবং শুধরে নেবেন ভবিষতে যেন ইচ্ছামত কবিতা বা লেখা পরিবর্তন করে কবি বা লেখকের বিনা সম্মতিতে কবিতা প্রকাশ করে সম্পাদনার ও আপনার নিজের মূল্য কমিয়ে না ফেলেন। তবু বলা যায় না। যে সম্পাদকের সম্পাদনা নিয়ে আমার এই অভিজ্ঞতা তিনিও এই আসরের একজন মহামান্য সদস্য এবং তিনিও একজন মানুষ। পারবেন কি তিনি ব্যক্তিস্বার্থের উর্ধে উঠে এই আলোচনা সহজভাবে গ্রহণ করতে? ঠিক জানি না। প্রিয় এই সম্পাদক ও তার ঘনিষ্টদের কাছে এই লেখা তাদের স্বার্থগত ব্যক্তিগত ভাবনায় গ্রহনযোগ্য নাও হতে পারে। তাই তারা যুক্তি খুঁজতে পারেন কীভাবে এটিকে ব্যান করা যেতে পারে।  ইতিমধ্যে এই আসর সম্পর্কে আমার ধারণার অনেক পরিবর্তন হয়েছে। মনে হয়েছে যে এই আসরটি ধীরে ধীরে বানিজ্যিক হয়ে উঠছে এবং মুষ্টিমেয় কয়েকজন লোকের খেয়ালখুশীমত আসরটি চলছে। আমার এই ধারণাটি ঠিক নয় – আশাকরছি তেমনই প্রমানিত হোক। কিন্তু দেখা গেল এই লেখাটিও বিনা কারণে বা মিছেমিছি এক বা একাধিক কারণ সাজিয়ে ব্যান করা হল। আর তেমন হলে এই আসর সম্পর্কে আমার ধারণা যে সত্য সে বিষয়ে সন্দেহ রইবে না। দেখা যাক কী ঘটে!


মন্তব্যের ঘর বন্ধ রেখে আমার অভিজ্ঞতার এই আলোচনা পোস্ট করছি যেন কেউ কারো প্রতি বা পক্ষে-বিপক্ষে কাঁদা ছোড়াছুড়ি  না করেন। অন্যের একই রকম অভিজ্ঞতা থাকলে বা এ ধরণের আলোচনা নতুন ভাবে প্রকাশ করা ভাল হবে বলে মনে করছি।  


সবাইকে ধন্যবাদ একটি কবিতা প্রকাশের ব্যাপারে আমার অভিজ্ঞতা ও আলোচনা পড়ার জন্য। ভালো থাকবেন সবাই। শুভকামনা  সবাইকে।