আলোচনা বিভাগে প্রিয় কবি রহমান মুজিব ট্রায়োলেট কবিতা নিয়ে আলোচনা করেছেন। প্রিয় কবিকে ধন্যবাদ এমন একটি সুন্দর বিষয়কে তুলে ধরার জন্য।


তবে আমার কাছে ব্যাপারটি কঠিন মনে হলো। আট লাইনের কবিতা হলেও  অন্তমিল ও প্রাসংগিকতা রেখে বিশেষ বিশেষ লাইনে রিপিটেশন রেখে কবিতা লেখা খুব জটিল মনে হলো। ভাবলাম এভাবে কবিতা লেখা কোন সহজ ভাবে  হতে পারে কি না। তাই একটু ভাবনাচিন্তা করলাম লেখার পদ্ধতি নিয়ে। আমার এই ভাবনা-চিন্তার ফসল নীচের আলোচনা।


আমার মত যারা ভাবছেন আপনিও ট্রায়োলেট লিখতে চান কিন্তু অতকিছু হিসাব রাখা জটিল মনে হচ্ছে, তাদের জন্য সুখবর - আমার বিশ্লেষণে আসলে ট্রায়োলেট লেখার মধ্যে একটা চালাকি লুকিয়ে আছে বলে মনে হলো। প্রকৃতপক্ষে ট্রায়োলেটকে আমি দেখতে পাচ্ছি পাঁচ লাইনের কবিতা হিসাবে।


লাইন ১   ক
লাইন ২  খ
লাইন ৩  ক
লাইন ৪   ক
লাইন ৫  খ


অন্তমিল হবে ক খ ক ক খ।


সংগতি রেখে এরকম ফরম্যাটে আপনি একটা কবিতা লিখতে পারলেই এই কবিতাটিকে সহজে ট্রায়োলেটের রূপ দিতে পারবেন নিম্নভাবে -


এর পরে লাইনগুলি  এই ক্রম অনুসারে  সাজান
লাইন ১
লাইন ২
লাইন ৩


লাইন ১ (রিপিট)
লাইন ৪
লাইন ৫


লাইন ১ (রিপিট)
লাইন ২ (রিপিট)


অর্থাৎ লাইনগুলি হবে   ১২৩ ১৪৫ ১২


এবার মাঝের স্পেসগুলি মুছে ফেলুন। দেখুনতো কী সুন্দর একটি ট্রায়োলেট আপনিও লিখে ফেলেছেন।


একটা উদাহরণ দিচ্ছে আমি নিজে লিখে।


১ম ধাপ ---
পাঁচ লাইনের একটা কবিতা লিখুন - অন্তমিল হতে হবে ক খ ক ক খ

কী আছে তোমার মনে
না বোঝা কথা!  
আছে বিস্মৃত স্মরণে!
ভাসিয়া হাল্কা পবনে
উড়ে যায় মনের ব্যথা।


দ্বিতীয় ধাপ -- এই ভাবে সাজান
লাইন ১
লাইন ২
লাইন ৩


লাইন ১ (রিপিট)
লাইন ৪
লাইন ৫


লাইন  ১ (রিপিট)
লাইন ২ (রিপিট)

তাহলে পাচ্ছি


কী আছে তোমার মনে
না বোঝা কথা!  
আছে বিস্মৃত স্মরণে!  


কী আছে তোমার মনে
ভাসিয়া হাল্কা পবনে
উড়ে যায় মনের ব্যথা।


কী আছে তোমার মনে
না বোঝা কথা।


এবার একত্র করুন লাইনগুলিকে এবং পড়ুন বেশ কয়েকবার ও যতি চিহ্ন ঠিক মত দিন (যদি প্রয়োজন হয়) আবেগ অনুসারে। নতুবা যেমন আছে তেমন রেখে দিতে পারেন। আমি নিম্নভাবে একত্র করলাম।


কী আছে তোমার মনে
না বোঝা কথা!  
আছে বিস্মৃত স্মরণে!  
কী আছে তোমার মনে
ভাসিয়া হাল্কা পবনে
উড়ে যায় মনের ব্যথা।
কী আছে তোমার মনে
না বোঝা কথা?


ব্যাস, একটি ট্রায়োলেট লেখা হয়ে গেল।


এবার আপনারও চেষ্টা করে দেখুন উপরের পদ্ধিত মেনে ট্রায়োলেট লিখতে। দেখবেন আর কঠিন মনে হবে না ট্রায়োলেট লেখা।


*****************************************
অতিরিক্ত আলোচনা ও বিশ্লেষণ


আমরা যদি প্রিয় কবি রহমান মুজিবের উদ্ধৃত প্রথম চৌধুরীর ট্রায়োলেটটি  


তোমাদের চড়া কথা শুনে     ক
হয় যদি কাটিতে কলম         খ
লেখা হবে যথা লেখে ঘুণে     ক
তোমাদের চড়া কথা শুনে ।    ক
তার চেয়ে ভাল শত গুণে      ক
দেয়া চির লেখায় অলম        খ
তোমাদের চড়া কথা শুনে      ক
হয় যদি কাটিতে কলম ।       খ


বিশ্লেষণ করি তবে দেখতে পাই এটিও আসলে পাঁচ লাইনের একটি কবিতা ক খ ক ক খ এই মিল মেনে -


তোমাদের চড়া কথা শুনে    ক
হয় যদি কাটিতে কলম       খ
লেখা হবে যথা লেখে ঘুণে   ক
তার চেয়ে ভাল শত গুণে    ক
দেয়া চির লেখায়  অলম     খ


এর থেকে এবার (১ ২ ৩   ১ ৪ ৫  ১ ২) সাজাই


তোমাদের চড়া কথা শুনে
হয় যদি কাটিতে কলম
লেখা হবে যথা লেখে ঘুণে


তোমাদের চড়া কথা শুনে
তার চেয়ে ভাল শত গুণে
দেয়া চির লেখায়  অলম


তোমাদের চড়া কথা শুনে
হয় যদি কাটিতে কলম


এবং সব শেষে  (স্পেস তুলে দিয়ে ও যতিচিহ্ন ঠিক করে)


তোমাদের চড়া কথা শুনে     ক
হয় যদি কাটিতে কলম         খ
লেখা হবে যথা লেখে ঘুণে     ক
তোমাদের চড়া কথা শুনে ।    ক
তার চেয়ে ভাল শত গুণে      ক
দেয়া চির লেখায় অলম        খ
তোমাদের চড়া কথা শুনে      ক
হয় যদি কাটিতে কলম ।       খ


*****************************************