তখনও এই কবিতা ওয়েবে যোগ দেই নি, নিয়মিত কাগজ,কলমে চলতো লেখা,প্রথমে রাফ,তারপর ফ্রেশ,আবার ফ্রেশ।ওঃকি ঝক্কি, সবচেয়ে বেশী কষ্ট হত ছন্দ কবিতার ক্ষেত্রে। আমার আবার কলমের বাতিক ছিল,সুন্দর স্মুদ লেখা না হলে আমার মন ভরতো না।তখন বেশী গদ্য কবিতাই চলতো আর গল্প ও প্রবন্ধ।
সেই সময়ে একাদেমী প্রাঙ্গণে খুব যাতায়াত ছিল,এবং বড় কবিদের মুখোমুখি হয়েছি কতবার। আমাদের গ্রুপে মাত্র একজনই ছিল দারুণ ছন্দ কবিতা লিখত,এবং পাতার পর পাতা লিখতে পারতো। সেই সময় আমি প্রথম প্রেরণা পাই ছন্দ কবিতা লেখার এবং সচেষ্ট হই। যদিও রবীন্দ্র,নজরুলের পর খুব কম কবি ছন্দ মাত্রা প্রয়োগ কর লিখতেন, অনেকে বললেন এটা পুরোনো ধাঁচ--এখন নতুন ধাঁচে গদ্য স্টাইলে কবিতা লেখা হল আধুনিক ধরণ। যদিও ছন্দ কবিতায়ও নতুনত্ব এল,অনেকে যেমন শঙ্খ ঘোষ,জয় গোস্বামী,তসলিমা প্রমুখ কবিরা আনলেন ছন্দ ও গদ্য সহযোগে এক নতুন কায়দা। বস্তুত এ কবিতাগুলি আবৃত্তির ক্ষেত্রে যথাযোগ্য বরনীয় হল,আসলে দিনে দিনে কবিতাও আধুনিক হয়ে চলেছে নানা আঙ্গিক,গঠনে। যদিও জীবনানন্দ,রবীন্দ্রনাথ প্রমুখ কবিরাও দুর্দান্ত গদ্য কবিতা উপহার দিয়ে গেছেন। অতএব আমি এই সমস্ত কবিতা খুব পড়তাম, এবং আমার মনে হয়েছে এই কবিরা শব্দের মধ্যে বসে খেলা করেছেন,ইচ্ছেমতন ব্যবহার করেছেন,কোথাও ঘুরিয়ে,পেচিয়ে,কোথাও সরাসরি আবার তীর্যক----অর্থাত কি অসাধারণ শব্দ ব্যবহার প্রণালী। ঠিক প্রেমিক যেমন তার প্রেয়সীকে নিয়ে মত্ত হয়ে ওঠে দুঃখ,সুখের বিচিত্র খেলায় তেমনি এই কবিরাও খেলেছেন ছন্দ ও শব্দ নিয়ে। আরও বহু কবি আছেন যারা  আধুনিক গদ্য ও ছন্দ কবিতার মেলবন্ধণ ঘটিয়েছেন নিঁখুত পর্যায়ে। এই সমস্ত কবিরা ও তাদের কবিতা ছিল আমার প্রেরণা, তখন শুধু ভাবতাম কি ভাবে এনারা কবিতার এত গভীরে পৌঁছন---এবং এত শব্দের কারিকুরি কোথা থেকে আসে,আসলে কবিতা তো নিছক কতগুলো মনের কথা নয়,তার সাথে মনন ও মেধা যুক্ত হয়ে শব্দালংকারে গড়ে ওঠে কবিতার রুপ। তখন থেকে আমার ছন্দ কবিতা শুরু।যদিও ছন্দের সাথে গদ্য কথার মেলবন্ধণটা এখনও আসে না সঠিক পদ্ধতি,আরও অনুশীলণ প্রয়োজন,আরও বড় কবিদের কবিতা শোনা এবং পাঠ করা গভীর দৃষ্টি ভঙ্গীর সাথে তবেই হয়তো লেখা হতে পারে একটি সার্থক উচ্চ মানের কবিতা...লেখা অভ্যাস করা ভাল যদি তা পরবর্তী পর্যায়ে মেধাবৃত্তির উন্নতি ঘটায় কিন্তু যদি তা অন্যকে আঘাত করার কাজে সতত ব্যবহৃত হতে থাকে তবে তা চিন্তার বিষয় । আমি আজও সেই পর্যায়ে নিতে পারিনি আমার কবিতাকে অনেক খামতি রয়েছে,আরও গভীর পর্যবেক্ষণ ও অনুশীলন দ্বারা চেষ্টা করে যেতে হবে নিরন্তর গন্তব্যে পৌঁছতে গেলে। অবশেষে সব পাঠক বন্ধুদের জানাই নমস্কার...।