আজকাল একটা ব্যাপার সম্পর্কে পাঠকদের দৃষ্টি আকর্ষণ না করে পারছি না--বাজারদরের চাহিদানুযায়ী সাহিত্য সৃষ্টি। সকলেই প্রায় ময়দানে নেমে পড়েছেন সাহিত্যকে বাজারের পণ্য করে তবেই ছাড়বেন,কোনভাবে কি সম্ভব ? তাহলে আর পর্ণোগ্রাফির সাথে সাহিত্যের তফাৎ থাকল কোথায়? একশ্রেণীর প্রকাশকের ব্যবসাভিত্তিক মুনাফালোভের ফলে তৈরী করতে হবে বাজারী সাহিত্য ? কোনদিন,কোনকালে শোনা গেছে ?না হয়েছে? অধ্যাবসায়,শ্রম,অধ্যায়ন,মেধা এসব কি ঠুনকো ভন্ডামী?


কয়েকছত্র বাজারী কথা সকলেই লিখে দিতে পারে কিন্তু আসল সাহিত্য যা দেশ,কাল,পাত্রের নিরিখে গঠনমূলক শিক্ষায় মানুষকে শিক্ষিত করে উদ্দিপীত করে মানুষের অন্তর,সে সাহিত্য ক জন পারে হঠাৎ সৃষ্টি করতে? আমাদের মনে রাখতে হবে সাহিত্য কথার অর্থ কি ? কিংবা সাহিত্য সমাজে কোন্ কাজে প্রয়োজন? কেবল কি মুখরোচক পরিবেশনা বা অর্থহীন কোন কথা?----


মোটেই তা নয় , সাহিত্য হল এমন অবলম্বণ যা মানুষের মর্মবোধকে জাগরিত করে সুষ্ট কাজে,দৃপ্ত করে চেতনা ও সুন্দর করে অন্তর। বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় সাহিত্যেও শুরু হয়েছেএ ধরণের ব্যবসাভিত্তিক লেনদেন ও বাজারী মদত,সাধারণত ব্যবসায়িক পত্র পত্রিকা গড়ে ওঠে বাজারের চলতি অবস্থার সাথে সামঞ্জস্য রেখে কিন্তু সাহিত্য পত্র বা পত্রিকা মূলত লেখক ও কবির মেধা ও সৃজনশীলতাকে প্রশ্রয় দিয়ে থাকে।যদিও আজকাল বহু পত্র পত্রিকায় ছেয়ে গেছে,সকলেই প্রকাশক ও কবি-যার কারণ সঠিক মূল্যায়ণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে আসল সাহিত্য ও মেধা। আমরা লেখার মান নিয়ে যতটা না ভাবি ততটা ভাবি কোন পত্র বা পত্রিকায় আমার ছাই পাশ যে কোন লেখা ছাপা হওয়া খুব জরুরী অন্তত পক্ষে সকলকে ডেকে দেখানো যেতে পারে আমি লেখক, হচ্ছেও তাই,প্রকাশকরা ছাপছেনও।


এবং এ ধরণের লেখকের অন্ত নেই,সে যে কোন মূল্যে লেখা ছাপতেই হবে,দেখাতেই হবে।অথচ পড়ে দেখবেন সে প্রবন্ধ বা কবিতার না আছে মাথা না আছে মুন্ড ,ভর্তুকি দিয়ে আবোল তাবোল লেখা ছাপানোর কোন প্রয়োজন আছে কি ? আর ব্যবসা সে তো সাহিত্যের চরম শত্রু। সে লুকিয়ে দু' চারদিন চলতে পারে বেশীদিন নয়, অবশেষে বলি সাহিত্য ও সাহিত্যের কচকচি দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রজাতির,দুটিকে একত্রে সহাবস্থাণ করাবেন না এবং সুষ্ট ও নির্ভেজাল সাহিত্য সৃষ্টিতে সহযোগিতা করুন।সকল শিল্পের জন্যই পৃথক স্থাণের ব্যবস্থা রয়েছে প্রার্থীরা ইচ্ছেমতন বেঁছে নিতে পারেন। পাঠকরা বুঝবেন হয়তো আমি কি বলতে চেয়েছি।এবং এ ব্যাপারে আপনাদের বিস্তারিত মতামত আশা করছি ।