আয় খুকু আয়



শ্রাবণের মন্থর সন্ধ্যাবেলায়
বৃদ্ধ জীবন বাজে ঢিমে তেতালায়।
মন চলে যায় ছেড়ে আসা
সাতটি দশক পিছনে ,
কলংকিত কোনো এক
অভিশপ্ত শ্রাবণের দিনে ।


ক্ষমতালোভী দুটো উকিলে যেদিন
নিষ্ঠুর স্বার্থের তরবারির পৈশাচিক আঘাতে
দেশটা কেটে করল টুকরো টুকরো
সেদিন আমার হাতেই নিহত
আমার ভাইয়ের রক্তে
গঙ্গা - পদ্মার জল হল লাল ।
চিরকালের জন্যে হারিয়ে গেল
আমার ছোট্টবেলার বড়ো আদরের
ছোট্ট খুকু ।


একই উঠোনে রাম জ্যাঠার ছেলের সাথে
রহিম চাচার মেয়ে যুগে যুগে একসাথে
খেলাধুলো করে বড়ো হয়েছিল,
গড়ে উঠেছিল আত্মীয়তার এক গভীরতর বন্ধন,
নিষ্ঠুর রাজনীতি
উঠোনের মাঝে কেটে দিল দাগ
হলাম পরস্পরের কাছে পরিচয়ে বিদেশী ।


আয় খুকু আয়
সব বিধিনিষেধের বেড়া ভেঙে ছুটে আয়
তোর দাদাই কোল পেতে এখনো দাঁড়িয়ে ।
আয় আমরা একটিবার
সময়ের ঘড়িটাকে উল্টোদিকে ঘোরাই ।
চল্ আবার ফিরে যাই
ফেলে আসা সেই শৈশবে,
তোকে কোলে নিয়ে ঘুরে বেড়াই নদীর বাঁধে,
ডিঙা ভাসাই ।
জানিস খুকু, খুব ইচ্ছে করে
হাতুড়ি মেরে গুঁড়িয়ে দিই
ওই কাঁটা তারের বেড়া,
চেঁচিয়ে বলি " আমি মানিনা তোমাদের এই সীমানা "।


অসহায় চোখে তাকিয়ে দেখি,
রাজনীতির বাধ্যবাধকতা কেমন করে
মানবিকতার হৃদপিন্ড ছিঁড়ে খায়।
অশীতিপর অশক্ত হাতদুটো কাঁপে,
নিস্ফল আক্রোশে মানচিত্রের বই
ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করি।