কার্তিক দা



তোকে এখনও ভুলিনি , কার্তিকদা
মনে পড়ে সেই ছোটোবেলার কথা -
সারাদিনে ছোট্ট গোপালের
তেমন কিছু পেটে পড়েনি।
গোটা পৃথিবী তার খিদেতে জ্বলত
প্রতিদিন বিকেলে ।
রাজকিশোরের দোকানে তুই সিঙাড়া ভাজতিস,
ছোট্ট কুচকুচে কালো রোগা ছেলেটা
আপাদমস্তক লোলুপতা নিয়ে
দাঁড়িয়ে থাকত তোর দরজায় ।
এদিক ওদিক একবার দেখে
গরমাগরম সিঙাড়ার তরকারি
ছোটো ছোটো হাতে গুঁজে
তুই ভাগিয়ে দিতিস
পেছন দরজা দিয়ে ।
তোকে আমার তখন ঈশ্বর বলে মনে হত।
জানিস তখন রোজ স্বপ্ন দেখতাম
একদিন বড়ো হয়ে তোর মতো সিঙাড়া ভাজব ,
অনেক ছোটো ছোটো গোপালের হাতে ভরে দেব।
চেয়ে  দ্যাখ কার্তিকদা -
আজ আমি হাতে পায়ে বেশ বেড়ে গেছি ।
ট্রেনের জানালা দিয়ে
আজ যখন কোনো ছোট্ট গোপাল
হাত বাড়ায় খিদের তাড়নায়
নিজেকে গুটিয়ে নিই ঘৃণায়
ওদের ছোঁয়া থেকে ।
ওদের মা-বাপদের দোষ দিই মনে মনে ।
স্টেশনের পাশে কাউকে সিঙাড়া ভাজতে দেখলে
আজও হয়তো কখনো  তোর ছবি ভেসে ওঠে মনে ।
কার্তিকদা -
আজকে তুই কোথায় জানি না
তবে তোর মতো আর আমার
বড়ো হয়ে ওঠা হলো না ।