শাক্যজননী


মণীষ


পুনর্জন্মে কখনো বিশ্বাস করিনি
তবু তোকে দেখলে কেন জানি না
মনের পর্দায় ভেসে ওঠে
লুম্বিনী নগরীর ব্যাথা ।


আসন্ন প্রসব বেদনাস্নাত নীলাভ তোর মুখে
সেদিন দেখেছি মানবতার  এক অপরূপ সৌন্দর্য ।


জন্ম দিতে হবে যুগপুরুষের
মুক্তি দিতে হবে মানুষকে।


জীবনের সকল যন্ত্রণার কথা
হৃদয়ের গভীরে ধারণ করে
তিল তিল করে তোর শরীরের
সব নির্যাস নিঃশেষিত করে
এক পূর্ণিমার রাতে দিয়েছিলি
আমাদের অমৃত উপহার ।


কি পরম মমতায় যুগের সন্ধিক্ষণে  
মহামানবের হলো আবির্ভাব ।


তারপরে তুই ছেড়েছিলি দেহ।
শিশুর বেড়েওঠা মাসীর আদরে ।
কালক্রমে সেই শিশু হয়ে ওঠে
মানবতার শ্রেষ্ঠ  শিক্ষক ।


দেখেছি
জীবনকে ভালোবেসে
মানুষকে ভালোবেসে  
পৃথিবীর পথে পথে
রাজার কুমার ফেরে
ভিখারীর বেশে ।


প্রকৃতির নিয়মে গড়িয়েছে সময়ের চাকা
কেটেছে আড়াই হাজার বছর পৃথিবীর বুকে ।


মানুষ হয়তো  আজ
ভুলতে বসেছে  তার শিক্ষা ।
তোকেও  হয়তো ভুলে গেছে সবাই
কিন্তু আজও তোর আত্মবলিদানের
কথা যখন  মনে পড়ে
চোখের পাতা নীরবে হয়ে ওঠে ভারী ।