কাজী নজরুল ইসলাম আধুনিক কবি।রবীন্দ্রনাথের
সরবাত্মক প্রভাব তখন বাংলা সাহিত্যে দীপ্যমান।
নজরুল সে যুগের কবি হয়েও এক ব্যতিক্রমী বৃত্তে পরিভ্রমন করেছেন।তাঁর কাব্যের ভাব যেমন দীপ্ত, ভাষা ও তেমনই
                                       মসৃণ,তেজোদ্দীপ্ত।নজরুল বিদ্রোহী কবি হিসেবে
অনন্য খ্যাতির অধিকারী।তাঁর বিদ্রোহ বাণী
অগ্নিঝরা,তার উপমা রুপক ব্যবহারও ভাবের অনুসারী।
ভাবানুযায়ী ভাষা ব্যবহার করে বাংলা কবিতাকে    তিনি
বলিষ্ঠ প্রকাশে ও প্রত্যয়ী উচ্চারণে অনন্যতা দিয়েছেন।
নজরুল ছিলেন শব্দ কুশলী কবি।যথাশব্দ ব্যবহার আধু
নিক কবিতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।নজরুল ইসলাম তাঁর
কবিতায় উপযুক্ত শব্দ ব্যবহারে অরথকে করেছেন
ব্যঞ্জিত,ভাবকে করেছেন মূরত।বাংলা কবিতায় শব্দ
ব্যবহারের অনন্যতা অনেকেই দেখিয়েছেন।শব্দই কবি-
তার প্রাণ,এই শব্দ ব্যবহারের দক্ষতার উপর কবির
শ্রেষ্টত্ত বহুলাংশেব নিরভরশীল।নজরুল ইসলাম তাঁর
কাব্যে প্রচূর তেজোদ্দীপ্ত তৎসম শব্দ ব্যবহার করেছেন
বিদ্রোহী ভাবকে বলিষ্ঠতা দেয়ার জন্য।নজরুল ইসলামের শ্রেষ্ঠ কাব্য 'অগ্নিবীণা'অবলম্বন করে তাঁর
শব্দ ব্যবহারের সাফল্য আলোচনা করতে পারি।
কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত ও মোহিতলাল মজুমদার তাঁদের কাব্যে তৎসম শব্দের পাশে আরবি শব্দেরও
ব্যবহার করেছেন অবলীলায়।নজরুল তাঁদেরই উত্তর
সূরি।নজরুলের কবিতায় প্রচূর আরবি ফারসি শব্দ
ব্যবহৃত হয়েছে।বিষয় গৌ্রবকে মহিমা দেবার জন্যই তিনি আরবি ফারসি শব্দ ব্যবহার করেছেন
অসংকোচে।তাঁর শব্দ ব্যবহার এতই নিপুণ যে অন্য
কোন অগ্রজ বা অনুজ কবির কাব্যে এমন ধবনি ময়
সুষম ব্যবহার লক্ষ্য করা যায় না।এই বক্তব্যের সমরথন পাওয়া যায় তাঁর রচিত 'খেয়াপারের তরনী,মহররম,কামাল পাশা,ফাথেহাই আয়াজদহম'
ইত্যাদি কবিতায় এবং তাঁর রচিত ইসলামি গানে।
নজরুল কাব্যে শব্দ ব্যবহার যথাযথ এবং অনিবারয
।তিনি যেখানে যে শব্দ ব্যবহার করেছেন সেখানে অন্যকোন শব্দ কল্পনাও করা যায় না।শব্দ ব্যবহারে তিনি যে সাফল্য লাভ করেছেন তা ঈরষণীয়।তাঁর
ব্যবহৃত শব্দ ভাবকে দীপনা দিয়েছে।অগ্নিবীণা'কাব্যে
র প্রলয়োল্লাস,রক্তাম্বরধারিণী মা,বিদ্রোহী ইত্যাদি
কবিতায় তৎসম শব্দের প্রাধান্য লক্ষ্য করা যায়।
কারণ এ কবিতা সমুহে পুরানের ব্যবহার বেশি।
অপরদিকে খেয়াপারের তরণী,মহররম,আনোয়ার
পাশা,কামাল পাশা কবিতায় আরবি ফারসি শব্দের
সুষম ব্যবহার আমাদেরকে বিস্মিত করে।শব্দ ব্যব
হারে নজরুলের পরিমিতবোধ লক্ষ্য করার মত।
     বল বীর
বল উন্নত মম শির।
শির নেহারি আমারি নতশির ওই শিখর হিমাদ্রির।
বল বীর
বল মহাবিশশের মহাকাশ ফাড়ি
চন্দ্র সূরয গ্রহ তারা ছাড়ি
ভ্যূলোক দ্যূলোক গোলক ভেদিয়া
খোদার আসন আরশ ছেদিয়া
উঠিয়াছি চির বিস্ময় আমি বিশব বিধাত্রীর।
কবি অপরদিকে তাঁর কবিতার ভাব অনুযায়ী আরবি
ফারসি শব্দের চমৎকার প্রয়োগ নিশ্চিত করেছেন
'আনোয়ারপাশা' ও কামালপাশা' কবিতায়।যেমনঃ-
আনোয়ার আনোয়ার
দিলওয়ার তুমি জোর তলোয়ার হানো
নাস্তা ও নাবুদ কর মার যত জানোয়ার।
আনোয়ার আফসোস
বখতেরই সব দোষ
রক্তেরও নাই ভাই আর সে তাপ জোশ।
কামালপাশা'কবিতায়------
খুব কিয়া ভাই খুব কিয়া
কেল্লাফতে হো গিয়া
পরোয়া নেহি জানে দো ভাই যো গিয়া।
এমন ধবনি সাম্য ও উদ্দীপনা সঞ্চারী অনুভবই নজ-
লের কবিতাকে মহিমা দিয়েছে।একটিও বাংলা শব্দ
ব্যবহার না করে ধবনি সাম্য স্থাপন করে বাংলা কবি
তায় এমন সুষম বিদেশী শব্দের ব্যবহার আর নেই।