প্রাণের টুকরো ছেলে তার
মস্ত বড় অফিসার।
বাড়ি গাড়ির নাই অভাব
মেজাজে শৌখিন স্বভাব।


বেলায় বেলায় পাতে চাই মটন আর চিলিফিশ
সদ্য ইংরাজি জানা ছোকরা বলে, বাবু সেলফিস।
চার তালা ফ্ল্যাটে চশমিশ বউ,আর এলশ্যেশিয়ান থাকে তাই
বৃদ্ধা মায়ের বৃদ্ধাশ্রম ছাড়া থাকার জায়গা নাই।


ছেলেবেলায় অসুখ হলে মা জেগে থাকত সারাটি রাত
নিজে না খেয়েও ছেলের মুখে তুলে দিত ভাত।
পড়ার খরচে মা লোকের বাড়ি বাড়ি মেজেছে বাসন
ছোট্ট অপরাধে ছেলেকে করত স্নেহের শাসন।
মাথায় হাত বুলিয়ে শোনাতো গল্প, দেখাতো চাঁদ
আদরে সোহাগে করত আশীর্বাদ।
বৃষ্টি হলে ছাঁদ ফুটো ঘরে ছেলেকে মা জড়িয়ে রাখত বুকে
ছেলে কাঁদলে মা কাঁদত, ছেলের হাসিতেই মা থাকত সুখে।


ছেলে আজ ভুলেছে সেসব দিন
সে বোঝেনি কোনোদিনও শোধ হয়না মায়ের ঋণ।
মায়ের সাধ ছিল, ছেলে তাকে করাবে তীর্থদর্শন
সে সব আর হয়নি, তাই বৃদ্ধাশ্রমই আজ বৃন্দাবন।
ছেলে আসার আশা বুকে বিঁধে, মা গুনে দিন, করে প্রার্থনা
রোজ কেঁদে কেঁদে বলে, ছেলে ভুলেছে মায়ের ঠিকানা।


বেশ আগের লিখা...