ভালোবাসার আকাশে উড়াউড়ি তো
সেদিনই
স্তব্ধ করে দিয়েছিলাম,
যেদিন হাতের অমূল্য রক্ত দিয়ে লাল
শোকের চাদর
বুকে জড়িয়েছিলাম।
নিশাচর চাঁদের মতো রজনী জাগা ঠিক
তখনি
পরিত্যাগ করেছিলাম,
যখনি আমার পবিত্র রক্ত তুমি কলঙ্কের
সাগরে
ভাসিয়ে দিয়েছিলে।
মায়ের গর্ভে অনাগত সন্তানের অস্তিত্ব
অনুভব করার মতো অনুভব করেছিলাম
তোমার ভালোবাসা আমার অন্তরজুডে।
অবশেষে গর্ভপাতের চরম শিকার হলো একটি
স্বপ্ন,
ডিম্বানুর সাথে শুক্রাণুর বিপর্যয়ের কারণে
নষ্ট হলো
সেই স্বপ্নের বাস্তবায়ন।
প্রেমমাখা বুকে লুকিয়েছিল জীবনমুখী
বিচিত্র স্বপ্নের বীজ,
একটি ভূলের সংযোজন সেই বীজে
পোকামাকড়ের বাসা বেঁধেছিল।
বুকের গভীরে তবুও আরেকটি ভালোবাসা
ধারণ করেছিলাম,
যদি আরেকটিবার জীবন্ত একটি স্বপ্নের জন্ম
দিতে পারি
এই আশায়.....
কিন্তু না ! সেই স্বপ্নের পূর্ণকরণও হয় নি,
কীভাবে যেন শুধু আমার বেলায় সর্বনাশের
গল্প রচিত হয়। এরপর অগণিত মুহুর্ত ঘিরে
লিখেছি না দেখা বৃষ্টির গান,
কখনো বা আবেগতাড়িত হয়ে
কাল্পনিক ভালোবাসার জলে ডুবেছি।
উড়তে উড়তে হঠাৎ একদিন আশ্রয় পেলাম
এক নীড়ের বুকে,
জীবনের শেষবেলা পর্যন্ত সেই নীড়ের বুক
আগলে রাখার স্বপ্নও দেখেছিলাম।
তাকে নিয়ে আমার জীবনগ্রন্থে কবিতার
রাজ্য সাজিয়েছিলাম,
সেও পুড়িয়ে ছারখার করে দিয়েছিল আমার
সাধনার কাব্যকারখানা.
প্রকৃতির কোনো নীলিমায় আমি অসহায়ের
ঠাঁই মেলে নি, সমুদয় প্রণয়িনী আমায় দূর দূর
করে বিতাড়িত করেছিল
তাদের নগ্ন মনুষত্ব দিয়ে.
আমি বন্ধী হলাম আলোহীন এক
জগতমাঝারে,
যেখানে বসবাস করছে মহাশূন্যের অদ্ভুত
বিশালতা।
মহাশূন্যের মাঝে বেঁচে থেকেও
আজো আমি স্বপ্ন দেখি,
জীবনতরী দিয়ে পার হচ্ছি বিরাট স্বপ্নের
পারাবার।