কইরে আমার সোনার বালক কই চঞ্চল মুখ,
কইরে আমার উঠুন মারাট ফসল ঝরার সুখ।
কইরে মায়ের মাটির পাতিল কই রাঁধিত সালুন।
চুলার পাশের টগবি আচার ছিক্কা টানা ঝলন ।


আয়রে আমার মায়ের বাড়ির কাঠের ঢেকির শ্বলা,
ধান ভাঙানোর গোড়ায় মাথার ক্ষত ধরিতই তলা।
কইরে মাটির চুলার পাশের কইরে হাঁতার ছালা,
কইরে মায়ের অগ্নী জলায় ধুমটে ঘোলায় খলা।


কইরে আমার কাঠাল গাছের পাখপাখালির মেলা,
কইরে মায়ের খোরাক দুপুর মুটকি চালের গোলা।
কইরে আমার মাটির হাজের চিতল পিঠার গুড়ি,
আয়রে আমার আউশ ধানের ভান্ড চিড়ার মুড়ি।
কইরে আমার সন্ধ্যার বাতি হেরিকেন নিভু জ্বলা,
কইরে আমার মাথার ছাতার রাত্রির পথ চলা।


কইরে কোথায় গরুর জোয়াল কইরে মাথার ঢোঙা,
কইরে আমার গুড় নারিকেল শেষের খাবার মাঙা।
আয়রে মায়ের কুলার ঝারনি আয়রে জালের সুতা,
আয়রে মায়ের দুধের গাভীর দুপুর গড়লে গুতা।


কইরে আমার গরুর গাড়ির দুই চাক্কার ডাক,
কইরে আমার মায়ের পালকি ও বঁধুর অনুরাগ।
কইগেলো মোর ডালের জাতার কইতে রইল পরে,
আয়রে কাকুর হুক্কা টানার রইল কইতে ঘরে।
সাপুড়ের ওই বেলকি বাজির কইরে যাইল দূর,
নাইরে এখন শিশুর মুখের সন্দেশ মধু জুড়।