মায় মারা গেছে বছর খানিক হলো,
মানুষ মরিলে রাখিত কবর কোলো।
দুই যুগ দেখা মানুষ মরিল ক্যাফে,
দুই চার পায় পারায় মাটিরে ক্ষ্যাপে।
মানুষ মরিলে ভাবিনি ওমনি! করে,
যেই বিদায়টি! চিরদিন হয় পরে।
মায় একদিন বলিল চাহিয়া পানে,
মানুষ মরিলে থাকেরে ঐ আস মানে।
মায় মরা পর চেয়ে থাকি ওথা টান
মেঘ ডাকা ওই নীল নীল আসমান।
ময় বলছিল বাপু মানুষ মরেনি,
হেথায় রয়েছে স্বর্গ নরক হেনে।


সেই থেকে ভাবি মানুষ মরেনি ওরা,
সবাইতো থাকে আসমানে মেশা জোড়া।
মায় মারা যাবে কখনি ভাবেনি মন,
অভিভাবিকারে আমারে জীবন ক্ষণ।
এই কথা মোর পরান বাঁধিতে সনে,
সব কথা ফাঁক আড়ালে লুকাই পানে।


মায় কেনো গেছে বাপের বাড়ির দেশে,
নানা ভাই এসে জোড় করে নিয়ে গেছে।
মরার পরেও জীবন পায় কী নব,
ভাবছি মনের পর্বত দিয়ে তব।


মনে মনে ভাবি মায় বুঝি ফিরে আবে,
মন হয় যেন কভু তার দিন কবে।
মাসের এরই মাস কেটে যায় ক্ষণ,
মায়ের মুখের ডাক শুনিনি এখন।
ঘরে থাকি বসে মায় নেই জানি তার,
ডাকে নাই কেহ টেবিলের পাশ টার।


মায় বুঝি গেছে নানার দেশেই চলে,
সেই কথা ভাবি ফিরে আসিবেই বলে।
গোরস্থানেই দেখি মায়ে শুয়ে থাকে,
কবর মাটির বিশ্বাস নুয়ে বাঁকে।


মায় বুঝি আবে আমার কাছের তটে,
আসমান কাঁপি চিতকার দেই ফুটে,
কেয়ামত বলি হৃদয় কাঁদিয়া কাঁটে ।
হঠাত থামিল মায় বুঝি ডাক শুনে,
এই যে গলায় আগেরি মতন মোনে।


মায়ের কাপড় তোয়াল নোলক রাখা
গোসলির রাখা আগ ঠিক হেথা থাকা।
তাহলে কী মার গোসল ফুরেনি তার,
আসেনা কা মায় ডাকিব শুধায় যার।
কতোদিন তার শুনিনি সেইবা ডাক,
কতোদিন তাকে বলিনিও নির্বাক।


আজ মনে হলো মায় গেছে কভু মরে,
কোথায় গগন কোথায় লগন ছিরে।
আজ যতো ডাকি পাই নাকো আমি তারে,
মায় গেছে বুঝি জগতে একাকি করে।
যাবার বেলায় এই ছেলে কই রবে,
ওকথা বলেনি কানেই কখনো তবে।
মায়ের দুঃখ আমি বুঝিতাম ভাই,
মায় মোর কথা কেনো কভু বুঝে নাই।