কবি তুমি তাকে বড্ডো ভালোবেসেছিলে,
তাই তোমার চোখ সমুদ্র,
সমুদ্রের জলে ভাসে বুক,
সমুদ্রের স্রোত ভেঙ্গে ভেঙ্গে,
পৃথিবীটাকে পিছনে ফেলে পাতালের পথে;
শ্রান্ত পায়ে তোমার অক্লান্ত পথ চলা;
মৃতদের রাজ‍্য হ'ল তোমার গন্তব্য ।


সেই যে যখন-ই ঘটল সে চরম সর্বনাশা;
তোমার কাছে ভেসে এলো শুধু একটি মাত্র আর্তি:
'ওগো,আর দু দন্ড সবুর সইল না তোমার !'


তারপর , তারপর এই তিন-তিনটি বছর
আর কোন কথাই তোমার কানে পৌঁছায় নি,
সে আর্তনাদে কবি-
তোমার কানে হয়েছে বধির,
চোখ হয়েছে অন্ধ,
দেহ হয়েছে হিম;
তাই থ্রেশীয় রমনীদের যাতনা হয়েছে ব‍্যর্থ,
সময় গিয়েছে থেমে,
চোখে হয়েছে অন্ধ,
কিম্বা চোখে একটিমাত্র প্রতিচ্ছবি হয়েছে স্থির-
ইউরিডিস্ ,
ইউরিডিস্ - তোমার প্রেম ।


কেবল তোমার বীণা হয়েছে মুখর,
অরণ‍্য- পর্বতে তোমার বীণার সুর ছুঁয়ে গিয়েছে
বৃক্ষ শিলা সহ সমস্ত পশু পাখির হৃদয়,
শুধু ছুঁয়ে যায় নাই, থ্রেশীয় রমণীদের মন,
তাই -
শ্রান্ত পায়ে তোমার অক্লান্ত পথ চলা
থ্রেশীয় রমনীর অসহ্য বোধ হ'ল,
তাদের মনে হ'ল এ চরম উপেক্ষা;
অপমানে, ক্রোধে,লালসায় তার হয়ে উঠল উন্মাদ;
তার যৌথ নিষ্ঠুর আক্রমণে
হত‍্যা করল কবি তোমাকে;
তোমার শোকে শোকার্ত হ'ল অরণ‍্য-পর্বত ।


কিন্তু হায় !
হে থ্রেশীয় রমণীর দল
তোমার কেউই কি লক্ষ ক'রলে না!
কবি কোন প্রতিরোধের চেষ্টায় করল না,
লক্ষ ক'রলে না,
কবির ঠোঁটের​ স্মিত হাস‍্য ।
তোমার কেউই জানলে না
সেই সর্বনাশে-
কবির কান হয়েছিল বধির,
চোখ হয়েছিল অন্ধ,
দেহ হয়েছিল হিম ।
তাই
তোমাদের কোন কথাই কবির কানে পৌঁছায় নি,
তোমাদের কোন চাউনি কবির চোখে পড়েনি,
তোমাদের কোন স্পর্শ কবিকে ছুঁয়ে যায় নি।


তবুও হে কবি,
সব কিছু সাঙ্গ হ'লে পরে,
মৃতদের রাজ‍্যের সীমারেখায় পৌঁছে,
মৃত হওয়ার আগে ,
অন্ততঃ আবারও একটি বার পিছন ফিরে তাকাতে;
স্মিত হাস‍্য থ্রেশীয় রমণীর উদ্দেশ  বলতে,
বলতে- ধন‍্যবাদ ।।