আমি যখন ক্লাস ফাইভে পড়ি তখন লিখেছিলাম জীবনের প্রথম কবিতা। স্কুল ম্যাগাজিনের জন্য। আজও মনে পড়ে সেই ছোট একটি কবিতাকে; বাংলার স্যার কবিতাটি দেখে খুব প্রশংসা করেছিলেন আর এটাই ছিল আমার জীবনের প্রথম নোবেল! পরেরদিন আরেকটি কবিতা লিখে নিয়ে গিয়েছিলাম, স্যারকে দেখাবো বলে কিন্তু দেখাতে পারিনি। লজ্জায়! তখন কবিতা দেখাতে খুব লজ্জা লাগত ,আর সেই জন্যেই তখন আমার কবিতাগুলো থাকতো নিঃসঙ্গতার সঙ্গী হয়ে ডায়েরির মলাটের ভেতর বন্দি হয়ে!
             এভাবেই বড় হচ্ছিলাম আমি আর আমার কবিতা, হঠাৎ একদিন পেলাম নেটের দুনিয়া।কবিতাগুলোকে ছেড়ে দিলাম ওয়েবের আকাশে। পাঠক পেলাম আর তার সাথে পেলাম আরেকটি জিনিস---কবিতা চোর!
             প্রথম প্রথম খুব দুঃখ পেলাম এই চোরদের দেখে ,পরে বুঝলাম এরা তাৎক্ষণিক আজ আছে কাল আবার হারিয়ে যাবে কিন্তু আমি চিরন্তন আমার কবিত্ব চিরন্তন!
            দয়াকরে চোরের ভয়ে নিজের লেখা বন্ধ করবেন না ওরা আজ আছে কাল নেই ,কিন্তু আপনি চিরন্তন আপনার কবিত্ব চিরন্তন। ওদের জন্য নিজেকে হারিয়ে যেতে দিবেন না কারণ আপনার লেখা খুব জরুরি, আপনার জন্য, বাংলা সাহিত্যের জন্য, আমাদের জন্য! চোরের ভয়ে নিজের কবিতাকে লুকিয়ে রাখা কখনোই বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারেনা। এদেরকে ভয় পাবার কিছু নেই আবার এদের চুরি করা কবিতা গুলো দেখে দুঃখ পাওয়ারও কিছু নেই। রবীন্দ্রনাথ  ঠাকুরেরও কবিতা  চুরি হয়েছে,আপনি কজন রবীন্দ্র কবিতা চোরকে মনে রেখেছেন ?শুধু মনে রেখেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও তাঁর কবিতাকে!এবার ভাবুন, রবীন্দ্রনাথ  ঠাকুর যদি লেখা বন্ধ করে দিতেন চোরের ভয়ে অথবা নিজেকে লুকিয়ে রাখতেন তাহলে আমরা কী বিশ্বকবিকে পেতাম?
তাই লিখতে থাকুন,লেখাটা খুব জরুরি!


আর এই দেখুন আমার ''কিছু কথা''(http://www.bangla-kobita.com/milets/some-word/) কবিতাটি ফেসবুকে 20 জনেরেও বেশী সংখ্যক চোর নিজের নামে প্রকাশ করে চালিয়ে দিয়েছে! এটাতে আমি ভয় পেয়ে লেখা বন্ধ করে দেবো না নতুন লেখার শক্তি হিসেবে নিয়ে আরো ভালো ভালো লেখা লিখতে থাকবো, কোনটা বেশি জরুরি আমার জন্য???