মাঝ রাতে পৃথিবী যখন নিঃস্ব হয়ে
আঁধারের গহ্বরে তলিয়ে যায়
যখন দু’চোখের পাতাকে একত্রিত করার চেষ্টা করি
তখন কেবলই মনে হয় আমার চারিদিকে
এক অজানা অচেনা দুঃস্বপ্ন এসে ভীড় করছে,
কত গুলো ক্ষুধার্ত মুখ অসহায় মানুষের আত্মা
আমার চোখের সামনে ঝাপসা হয়ে ধরা দিচ্ছে
চিৎকার আর আর্তনাদ শুনতে পাচ্ছি কর্ণকুহরে
এসে প্রবেশ করছে আমার ঘুমের ঘরে
আর বলছে আমরা ক্ষুদার্থ আমরা অবিভাবক শূন্য
আমাদের ঘর গাছ তলায়
অথবা কোনো ট্রেন স্টেশনের খোলা জায়গায় !
বড় বড় দালান কোঠার
এই বৈচিত্র্যময় পৃথিবীর চারপাশে
দারিদ্র্য পীড়িত ক্ষুধার্ত মানুষের অন্তীম কষ্টের হাহাকার !
নেই কেউ অসহায় ওই মুখ গুলোর দিকে
দয়াপূর্বক এক পলক তাকাবার !
তাদের কেউ অন্নহীনতায়, আবার কেউ বস্ত্রহীনতায়,
কেউ পিতৃহীনতায় অযত্নে অনাদরে বড় হচ্ছে
চোখে মুখে ও বুকে হাজার কষ্ট লালন করে !
রাস্তার ধারে বস্তিতে আছে বেঁচে নেই তারা স্বস্তিতে
আবার কেউবা জরাজীর্ন পোশাকে রুদে পুড়ে,
বৃষ্টিতে ভিজে,আছে অযত্নে-অনাদরে !
দিনের পর দিন,মাসের পর মাস, বছরের পর বছর
অতি কষ্টে বেঁচে থাকার নির্মম জীবন যুদ্ধে
খেয়ে না খেয়ে দিনাতিপাত করছে।
কেউ কেউ আবার জন্মসূত্রে পরিচয়হীনতায় ভোগছে,
কেউ অভাবের যাতনায়, অর্থের লোভে,  
বাধ্য হয়ে ভুল পথে পরিচালিত হয়ে
অন্ধকার জগতে প্রবেশ করছে,
পরিণামে সন্ত্রাসী,খুনী আসামী হয়ে
ফেরারী মন নিয়ে এক বুক কষ্ট নিয়ে
অপ্রত্যাশিত আর অনিশ্চয়তার মাঝে বেঁচে আছে।
বেঁচে থাকে বাঁচতে হবে বলে জীবনের তাগিদে,
বেঁচে থাকে সময়ের প্রয়োজনে অনন্ত দুঃখকে সঙ্গী করে।


রচনাকাল ০৭/০৬/২০১৭ ইং
ব্রুকলিন,নিউ ইয়র্ক ৷
----------------------------------------------