আকাশের মেঘগুলো আজ বড় বন্য,
বাতাস মানছে না কোন ব্যাকারণ,
পাখিরা স্বরলিপি গুটিয়ে ঘরে,
সমুদ্র ভুলে গেছে সকল ছন্দরীতি,
চোখ দুটো স্হির হতে ব্যর্থ ধুলোর মাত্রাহীনতায়।
যেখানে নদী শুকিয়ে শুষ্কতা
সেখানেও হয়ত জল দানা বেঁধেছে আজ।
আমি আভিধানিক মতে জেগে আছি।


শুনেছি শোকের আয়ু নাকি ছোট।
হয়ত তাই, প্রায়ই তোমায় ভুলে যাই।
অথবা ভুলে যেতে চাই বলে।
খুব ব্যস্তায় কাটছে দিন বটে।
ঠিক মনে পরছে না-
কবে কফির চুমুকে আড্ডা জুড়েছি সব ভুলে।
সিগারেটের প্যাকেটটা খালি হতে সময় নেয় এখন।
বয়সটাও কিছুটা শাসন করে।
যেন একটা অদৃশ্য খাঁচা তৈরী হচ্ছে চারদিকে।
যে খাঁচা আমি ভাঙতে সামর্থ্য নই।
আসলে- ছিলাম কই কোনদিন।
যে খাঁচায় জন্ম উৎসব,
সে খাঁচায় চলে যাবার প্রতিক্ষা।
বিশ্বাস করো, আমি প্রতিদিন বেঁচে থাকি।
কিন্তু একটা জীবন বাঁচতে চেয়ে ছিলাম।


তুমি কি একবার আসবে আমায় দেখতে.?
কোন এক শুন্যতা খুঁজে।
যখন মনে হবে না- অসময়ে যন্ত্রণা ভালো লাগছে না।


দরজা খুলে ঘরে ঢুকি প্রতিদিন।
যে ঘরে কারো অপেক্ষার প্রহর জমে না।
অভিমানে আলাপন ঘটে না।
খাবার টেবিলে শুন্য ফুলদানিটি চেয়ে রয়,
খাবার সেরে আলো নিভিয়ে দেই।
বসার ঘরে টিভি আপন মনে জোগাচ্ছে বিনোদন।
নেয়া হয়ে ওঠে না কখনও।


দরজার উপরে চাইমটির দিকে চোখ দুটোর আকুল আগ্রহ।
কান দুটো চঞ্চল- বাজলো বুঝি।
নিজের অজানতে বহুবার খুঁজেছি,
বারান্দা, শোবার ঘর, বান্না ঘর হয়ে বসার ঘর।
ভেবেছি, বিস্ময় করে যদি কিছু হয়।


দেয়ালে ভাগ করা ঘরগুলোর শূন্যতা আমার জীবনের স্বরলিপি।
সেই শূন্যতা আমাকে ভাসায়।
তোমার কোন ছবি কখনও ঝোলানো হয়নি দেয়ালেতে।
অদৃশ্যতায় তোমাকে খুঁজি।
কেননা আমি শুন্যতাকে বুঝি।
এটুকুই জীবনের দোলন, বেঁচে থাকার কম্পন।


উপহার ভেবে যত্নে গুছিয়ে চলা স্বর্গ,
উপকরন ভেবে তুচ্ছ হয়েছে অকপটে।
এক জীবনে এক বাসরে বোধ হলো আমার।
তবুও নোংরা জলে সাঁতার কাটছি অভিমান টেনে।
কোন একদিন সুযোগ পেলে দায় চুকাবো তোমায় বলে।


আসবে নাকি একবার দেখতে আমায়,
কোন একদিন অভিমান ভুলে।
যখন মনে হবে- স্বপ্ন ছিল, কোন এক ছায়া তলে।


তুমি বলতে-
'শুধু দায়িত্ব হলেই চলে না। প্রেম লাগে। যেটা তোমার মাঝে নেই।'


আমি বলি-
'ভালো বন্ধু হতে পারি। সম্পর্কের সকল রূপে সামর্থ্য নেই।'


খুব ভাবি-
তবে কি বন্ধু সঙ্গি হবে না?


বেসুরো সময়ে লোকালয়ে ছুটেছে তীব্র ঘূর্ণীবলয়।
আকাশের মেঘ ফুরে বেড়িয়ে আসছে ঘর্ষনের শিখা।
আমার ভেতর সময়-অসময়ের শুন্যতায় ঘুর্নিপাক।
কামনায়, তোমার ছুটি পাবার সুখ তোমার অনন্ত হোক।
আর আমি.? কবিতায় বেঁচে থাকি।
জীবনের কবিতা কেইবা পড়ে বলো।


স্বপ্ন ছিল শত বছরে যৌবন রঙ সাঁতার কাটবো।
আজকাল চাঁদের দিকে তাকালেও চোখ ঝলসায়।
উপেক্ষার কোন অভিমান অবশিষ্ট নেই।
কিছুটা আক্ষেপ আলিঙ্গনে ফেলে আশা সময়।
দেখে চলি ক্রমশ বেঁকে যাওয়া দুটি পথ-
ছুটে যায় বিকল্প পথে।
ছুটি পায়নি মনের কাছে।


★ আগষ্ট, ২০২০