হে বিশ্বের,মানুষেরা হুঁশিয়ার হও--
           তোমরা কি ভুলেগেছো মরণের কথা
সৃষ্টিকর্তাকে ভুলে কেন সৃষ্টিকে চাও ?
               ভেবনা কভু সৃষ্টিকর্তার কথা বৃথা ।


এটাই ঠিক এক সৃষ্টিকর্তা রয়েছে,
            মোদের সবার ধরায় পরীক্ষা নিচ্ছে;
আসমান হতে সব দৃশ্যই দেখছে,
        মোদের তরে জীবিকা,অক্সিজেন দিচ্ছে;
একে একে মানুষেরা ধরণী ছাড়ছে,
           শূন্য হাতেই আরেকটা জগতে যাচ্ছে;


মোরাও যাবো অস্থায়ী পৃথিবীটা ছেড়ে--
              এসোনা তাঁরই উপাসনা করি সদা;
সময় যায় সারাক্ষণ বেকার বেড়ে--
            সত্যিকারে সৃষ্টিকর্তা যার নাম খোদা ।


#
1)-------- কবি পরিচিতি-------
নাম-- মুহসিন শেখ। জন্ম-- 2001 সালে ডিসেম্বর মাসে 11 তারিখে মঙ্গলবার। বর্তমান ধোষা চন্দ্রনেশ্বর এন. সি. হাই স্কুলের দ‌শম শ্রেণীর ছাত্র। স্কুল জীবন থেকেই লেখালিখি শুরু বিভিন্ন পত্র-প্রত্রিকাতে। শিক্ষাগত যোগ্যতা-- ব্রেসিক কম্পিউটার  ও পেশায়-- ছাত্র ও শখ-- কবিতা-গান-গজল-গল্প লেখা,গাওয়া,আবৃত্তি করা ও সাহিত্যচর্চা ও ছবি আঁকা ও খেলাধুলা ।  পিতা-- আবু কালাম শেখ ও মাতা-- ফাতেমা বিবি শেখ। বর্তমান ঠিকানা ও জন্মস্থান-- ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার জয়নগর থানার তিলপী গ্রামে। (কলকাতা)


2)--কবিতার নাম- আমি বাংলা বলছি
----কবির নাম- মুহসিন শেখ


3)--------কবিতা -------
আমি আজ বহুকাল ধৈর্য ধরে রয়েছি
কিন্তু আর নয়, ধৈর্যের বাঁধন ছিঁড়েছি।
অন্যায় সয়ে সয়ে আমি আজ মহাক্লান্ত
তাই আজ আমি আমারে করব মহাশান্ত!


ভেঙে দেব যত ভন্ড নেতাদের মান
কেড়ে নেব শয়তান রূপে তাদের প্রাণ!
যারা ক্রমশ গরীবের রক্ত শোষণ করছে
যারা আমার বুকের বৃক্ষগুলি কেটে ফেলছে
আমি তাদের সবাইকে ধরব এক'ই সাথে
আর যপাযপ খুন করব নিজের হাতে!
অন্যায় সয়ে সয়ে আমি আজ মহাক্লান্ত
তাই আজ আমি আমারে করব মহাশান্ত!


বিষাক্ত বিষ দ্বারা মারব সেই ডাক্তারদের
যারা অন্যায় ভাবে মারছে কত গরীবদের!
যারা টাকার নেশাতে মত্ত আজীবন ভোর
এখনো যাদের কাটেনি সেই নেশার ঘোর
আমি তাদেরকে টাকার চিতায় পুড়িয়ে মারব
আর ভয়ংকর অট্টহাসি হেসে হেসে দেখব!
অন্যায় সয়ে সয়ে আমি আজ মহাক্লান্ত
তাই আজ আমি আমারে করব মহাশান্ত!


পরমানবিক বোমা ছুড়ে মারব সেই পুলিশদের
যারা ঘুষের বদলে'ই খালাস্ দেয় মাস্তানদের।
যারা আর আসে না একশো ডায়াল করলে
যারা ছুটেছুটে আসে রে ঘুষের খবর শুনলে
আমি তাদের ঘুশিয়ে ঘুশিয়ে ফাঁসিতে ঝোলাব
আর পুরো বিশ্বের ইতিহাসের পাতায় ছাপাব!
অন্যায় সয়ে সয়ে আমি আজ মহাক্লান্ত
তাই আজ আমি আমারে করব মহাশান্ত!


যত অপরাধী রয়েছো আমার পৃষ্ঠে সাবধান
আমি আজ রাখব না কারো কোন ব্যবধান!
আমি বাংলা বলছি--আমি বাংলা বলছি--
আমি তোমাদের পাপের কারণে জ্বলছি!
তাই আজকে'ই আমি ধ্বংস হয়ে যাব পৃথিবীতে
তলিয়ে যাব এক সাগর হতে মহা-সাগরেতে....
আর সঙ্গে নেব'ই তোমাদের সকলকে একসাথে
যদি না থামাও তোমাদের অপরাধ নিজহতে....


4)----লাইন সংখ্যা- 36


5)----মোবাইল নাম্বার- 8167677221/9800387702




************সোনার পুতুল***********


সকাল থেকেই আবহাওয়া টা আজ কেমন যেন শান্ত। মোড়ের মাথায় তেমন কোন লোকজনের ভিড়ভাট্টা নেই। তবে প্রতিদিনের মতোই নিতাই কাকার চায়ের দোকানে কিছু লোকের আড্ডা জমেছে। এই লোকগুলি রোজই কোন না কোন বিষয় নিয়ে আড্ডা দিয়েই থাকে। কখনো ভূমিকম্প, কখনো জলসংকট আবার কখনো কখনো কোন খেলার খবর বা ভোটের খবর নিয়ে। তবে আজ এদের আড্ডার বিষয়বস্তু হলো 'করোনা ভাইরাস'। যেভাবে দিনদিন করোনা ভাইরাস পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের কোনায় কোনায় ছড়িয়ে পড়ছে তাতে এ বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়াটাই স্বাভাবিক।
     সে যাই হোক নিতাই কাকা আজ দোকান খুলেছে অনেকক্ষণ। এর মধ্যেই তার বেশ বেচাকেনা হয়েছে। সবে তিনি মুখ ফুটে কিছু একটা বলতে যাচ্ছেন, অমনি হঠাৎ দোকানের সামনে দিয়ে একটি তেরো-চৌদ্দ বছরের ছেলে সাইকেলে করে একগোছা খবরের কাগজ নিয়ে এদিকে আসছে আর বলছে,- 'এইতো তাজা খবর! তাজা খবর! এ শহরের নামকরা ধনী বিজয় চৌধুরীর বাড়ি থেকে সোনার পুতুল চুরি। এইতো তাজা খবর! তাজা খবর!'
     নিতাই কাকা দোকানের ভিতর থেকে একটু গলা উঁচু করে চেঁচিয়ে বললো,- 'এই ছেলে দাঁড়াও-দাঁড়াও। এদিকে এসে একটা কাগজ দিয়ে যাও তো।'
     একথা বলতে ছেলেটি দোকানে এসে একটা খবরের কাগজ দিয়ে এবং তার দাম নিয়ে চলে গেল। এরপর দোকানের সমস্ত লোক উঁকিঝুঁকি মেরে খবরের কাগজ টি পড়ার চেষ্টা করতে লাগলো। দেখল খবরের কাগজের প্রথম পাতায় একেবারে প্রথম বারই ওই খবরটি ছাপা হয়েছে। রঙিন কালিতে মোটা করে লেখা আছে, এ শহরের নামকরা ধনী বিজয় চৌধুরীর বাড়ি থেকে সোনার পুতুল চুরি। নিচে বিস্তারিত দেওয়া আছে, এই সোনার পুতুল চোরকে যে ধরে দিতে পারবে তাকে নগদ পঞ্চাশ হাজার টাকা পুরস্কৃত করা হবে। এই খবরটি শুনে চায়ের দোকানের সমস্ত লোক অবাক! কিছু লোক বলতে লাগলো,- 'সত্যিই এ তো দেখছি বাম্পার অফার! চোরকে ধরে দিতে পারলেই পঞ্চাশ হাজার। যদি ওই চোরটিকে একবার হাতের নাগালে পেতাম, তাহলে একেবারে পঞ্চাশ হাজার। সত্যি দারুন অফার!'
     নিতাই কাকা একটু হেসে বলল,- 'তা বলেছো মন্দ নয়। কিন্তু ওই সোনার পুতুল চোরকে কি ধরা এত সহজ? ওরা যাতা চোর নয়। পুরো কলকাতার নামকরা চোর। তাছাড়া ওরা যদি কোনো ছোটখাটো চোর হতো, তাহলে কি আর বিজয় চৌধুরীর বাড়ি থেকে সোনার পুতুল চুরি করতে পারত? বিজয় চৌধুরীর বাড়ি যে কত বড় তা তোমরা নিজের চোখে না দেখলে হয়তো বিশ্বাসই করবে না। যেমন সুন্দর তেমন দামি। বাড়িটির চারধারে রয়েছে বিদেশ থেকে আনা বিভিন্ন রকমের সুন্দর সুন্দর রঙিন গাছ। সামনে ফুলের বাগান। তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে কয়েকটি আরামদায়ক মারুতি। ঠিক তার পরেই রয়েছে একটি বিশাল গেট। গেটের সামনে পাহারা দিচ্ছে দুজন গেটম্যান। একবার আমি আমার এক দূর সম্পর্কের মামার বাড়ি যাওয়ার সময় দেখেছিলাম। সে কি আর ভোলা যায়! সে যাক গে বেলা অনেক হয়েছে। আমার আমার একটু মেয়ের বাড়ি যেতে হবে। মেয়েটা ক'দিন ধরে জ্বরে ভুগছে। একবার না দেখে আসলে হয়? আমি এখন দোকান বন্ধ করব। তোমরাও এবার আড্ডা বন্ধ করে বাড়ি যাও।'
     এই বলে দোকান বন্ধ করে নিতাই কাকা বাড়ি চলে গেলেন। ওদিকে নিতাই কাকার একমাত্র ছেলে বিদ্যুৎ সোনার পুতুল চুরির খবর শুনে অনেক আগেই চলে গিয়েছে বিজয় চৌধুরীর বাড়িতে। বিদ্যুৎ এই সবেমাত্র এম. এ. পাশ করে বসেছে। এখনো নিজের পায়ে সে দাঁড়াতে পারেনি। দেখতে যেমন সুন্দর তেমনি তার গুন। গায়ের রং ফর্সা, মাথার চুলগুলো হালকা বাদামী রঙের। হাইট এ পাঁচ ফুট ছয় ইঞ্চি। তবে সে হালকা পাতলা ছেলে হলে কি হবে তার কাছে গায়ের জোরে কিংবা বুদ্ধির জোরে অত সহজে কেউ পারেনা। ওর ছেলেবেলা থেকেই একটাই স্বপ্ন সে একজন গোয়েন্দা হবে। তাই এখন থেকেই তার প্রস্তুতি নিয়ে চলেছে।
     বিদ্যুৎ এখন বিজয় চৌধুরী বাড়িতে। সে প্রথমে গিয়ে বিজয় চৌধুরীর সাথে কথা বলে নিল। তারপর বলল,- 'আপনি আমাকে কিছু প্রশ্নের উত্তর দিন। নিউজপেপারে দেখলাম চুরিটা নাকি গতকাল রাত বারোটার সময় হয়েছে। আপনি কিভাবে জানলেন যে চুরি টা রাত বারোটার সময় হয়েছে?'
     বিজয় চৌধুরী একটু চাপা স্বরে বললেন,- 'আসলে গতকাল আমার মেয়ের জন্মদিন ছিল। তাই আমার মেয়ে রীতা আমার কাছে ক'দিন আগে আবদার করে বলেছিল, আমি যেন ওর জন্মদিনে একটি পার্টির আয়োজন করি। তাই আমি ওর কথা মতো একটি পার্টির আয়োজন করি। আর ওই সোনার পুতুলটি কিনেছিলাম পার্টিতে ওকে উপহার দেবে বলে। কিন্তু সব পন্ডব হয়ে গেল। রাত যখন বারোটা বাজল, ঠিক তখনই একটা ঘটনা ঘটলো। যেটা দেখে আমার গায়ের রক্ত হিম হয়ে গেল ও গায়ের পশম কাটা দিয়ে উঠল। দেখলাম আমার বাড়িতে একটা খুন হয়েছে।
     'কি খুন? কার খুন? সেটা তো আপনি খবরের কাগজে লেখেননি'- বললো খুব উত্তেজিত আর সাথে বিদ্যুৎ।
     - 'আমার চাকর ভোলানাথের খুন। তাই খবরটি আমি গোপন করেছি।'
     - 'তারপর, তারপর?'
     - 'তারপর সমস্ত পার্টিতে হইচই বেঁধে গেল। যে যার মত বাড়ি ফিরল। আমি অবশেষে থানায় ফোন করতে পুলিশ এসে মৃতদেহ কে নিয়ে চলে গেল। কিন্তু একটা জিনিস আমি কিছুতেই বুঝতে পারছি না, ভোলানাথ কেন খুন হল? সে তো সাদাসিধে মানুষ! তার সাথে কি কারো শত্রুতা থাকতে পারে নাকি? কিন্তু কয়েক মিনিট পর এ ব্যাপারটা আমার কাছে জলের মতো সহজ হয়ে গেল। নিজের রুমে ফিরে গিয়ে দেখলাম আলমারি খোলা। তারমধ্যে থাকা জিনিসপত্র সব ওলট পালট হয়ে আছে। আর আমি যে সোনার পুতুল টি রেখেছিলাম সেটি নেই।'
     বিদ্যুৎ গালে হাত দিয়ে বলল,- 'এর মানে এটাই দাঁড়ায় যে গতকাল রাতে সবাই যখন পার্টিতে ব্যস্ত ছিল, ঠিক সেই সময় চোর আপনার ঘরে ঢুকে আলমারি খুলে সোনার পুতুলটি চুরি করে পালিয়ে যাচ্ছিল, ঠিক সেই মুহুর্তে ভোলানাথ তাকে দেখতে পায় এবং সঙ্গে সঙ্গে ভোলানাথকে খুন করা হয়। কি তাইতো?'
     - 'একদমই তাই।'
     - ' তা ভোলানাথের ডেড বডি চেকআপ করিয়েছেন?
     - ' হ্যাঁ রিপোর্টে দেখা গেছে ভোলানাথের সারা দেহে কোন আঘাতের চিহ্ন নেই। কেবল এক জায়গায় আঘাতের চিহ্ন আছে। তার মাথার ডান দিকে। সম্ভবত কোন শক্ত জিনিস দিয়ে তাকে আঘাত করা হয়েছে। ডাক্তাররা মনে করছেন হয়তো তাকে হাতের কনুই দিয়ে ঘুষি মারা হয়েছে। যার ফলে সে তৎক্ষণাৎ ছটফট করতে করতে মারা যায়।'
     - 'কিন্তু কোন মানুষের মাথায় যে কোন রকম আঘাত লাগলেই সে মারা যাবে এমনতো কথা নয়?'
     বিজয় চৌধুরী এক গ্রাস সিগারেটের ধোঁয়া ছেড়ে বললেন,- 'কিছুদিন পূর্বে ভোলানাথের একটা অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছিল যার ফলে ওর মাথায় প্রচুর পরিমাণে চোট হয়। ডাক্তারবাবু বলেছিল ভোলানাথের মাথার ডান দিকটা যদি কখনো এরপর কোনভাবে আঘাত লাগে, তাহলে সে সাথে সাথে ছটফট করতে করতে মারা যাবে। আর ঠিক সেই ভাবেই ভোলানাথ খুন হল! না এটা আমি কিছুতেই বুঝতে পারছি না বিদ্যুৎ!'
     এবার বিদ্যুৎ একটু মাথা চুলকে বলল,- 'তারমানে যে ভোলানাথকে খুন করেছে সে জানতো ভোলানাথের এক্সিডেন্টের কথা। তা না হলে সে কিভাবে ভোলেনাথকে তার দুর্বলতার জায়গার উপর আঘাত করে তাকে হত্যা করল? আচ্ছা আপনি আমাকে আরেকটি প্রশ্নের উত্তর দিন। আপনার ঘরে যে একটি সোনার পুতুল আছে, এটি কে কে জানতো আর ভোলানাথের অ্যাক্সিডেন্টের ব্যাপারটা কে কে জানত?'
     - ' সোনার পুতুল ও ভোলানাথ অ্যাক্সিডেন্টের ব্যাপারটা আমার বাড়ির লোক ছাড়া আর কেউই জানত না।'
     এবার বিদ্যুৎ একটু হেসে বলল,- 'এর মানে এটাই বোঝাচ্ছে, যে ব্যক্তি আপনার সোনার পুতুল চুরি করেছে এবং ভোলেনাথকে খুন করেছে সে আপনার বাড়ির কোন লোক। মানে আপনি তাহলে এতদিন দুধ কলা দিয়ে কালসাপ পুষেছিলেন।'
     - 'হ্যাঁ, ঠিকই বলেছ বিদ্যুৎ মানুষ চিনতে আমি ভুল করেছি!'
     - 'তাহলে এখন আমাদের একটাই কাজ আসল চোরকে খুঁজে বের করা। আচ্ছা আপনারা এ বাড়িতে সব মিলিয়ে কে কে থাকেন?'
     - ' আমি, আমার স্ত্রী প্রতিমা চৌধুরী, আমার মেয়ে রীতা, আমার ম্যানেজার অনিমেষ বাবু, দুজন ড্রাইভার, একজন রাধুনী ও একজন মালি এবং সবশেষে ভোলানাথ। অর্থাৎ সব মিলিয়ে নয়জন।'
     এরপর বিদ্যুৎ চেয়ার থেকে উঠে দাড়িয়ে বলল,- 'আমি আজ আসি, আগামীকাল আবার আসবো আমার কয়েকজন সহকর্মী বন্ধুকে নিয়ে। আমরা একবার আপনার বাড়িটা সার্চ করে দেখতে চাই।'
     এইবলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেল বিদ্যুৎ।
     কথামতো পরদিন সকাল হতেই বিদ্যুৎ তার দুই সহকর্মী বন্ধুকে নিয়ে হাজির হল বিজয় চৌধুরীর বাড়িতে। তারপর সার্চ করা হলো পুরো বাড়ি কিন্তু কিছুই পাওয়া গেল না। বিদ্যুৎ এবার একটু ভেবে বলল,- 'বাড়িতে সার্চ করে কিছু পাওয়া যায়নি মনে, পুতুলটি চুরি করার পর অন্য কারোর মাধ্যমে অন্য কোন স্থানে ট্রান্সফার করা হয়েছে। এবার আমি নিশ্চিত যে, এই বাড়ীর কেউ এ'কাজ করেছে। কিন্তু কে এইকাজ করেছে এটাই আমাদের খুঁজে বের করা এখনকার কাজ। বিজয় চৌধুরী একবার আপনার বাড়িতে যারা যারা থাকেন তাদের সবাইকে একবার ডাকুন তো। তাদেরকে কিছু জিজ্ঞেস করতে চাই।'
     সবাইকে নিচে আসতে বলা হলো এবং সাথে সাথে সবাই নিচে নেমে এলো। বিদ্যুৎ সবাইকে শান্ত ভাবে জিজ্ঞেস করল,- 'ভোলানাথ যখন খুন হয় তখন আপনারা কোথায় ছিলেন?'
     সবাই উত্তর দিল তারা নাকি সে রাতে পার্টিতে ব্যস্ত ছিল।
     তারপর সবাই চলে গেলে বিদ্যুৎ বলল,- 'এখন আমরা আসি বিকেলে আবার একবার আসবো ওদেরকে একটা পরীক্ষা নিতে হবে।'
     এ কথা বলে বিদ্যুৎ ও তার সহকর্মী বন্ধুরা চলে গেল।
     রীতিমতো বিদ্যুৎ আমার বিকেলে উপস্থিত হয়েছে বিজয় চৌধুরীর বাড়িতে। বিদ্যুৎ এবার বিজায় চৌধুরীকে লক্ষ্য করে বললো,- 'এখন ওদের কে একটা পরীক্ষা নিতে হবে। আর সেটা আপনাকেই নিতে হবে।'
     'কি পরীক্ষা' -বললেন বিজয় চৌধুরী।
     - 'তাহলে মন দিয়ে শোনো, আপনি প্রথমেই আপনার বাড়ির সবাইকে ডাকবেন। ডেকে খুব আনন্দের সাথে বলবেন, আমার চুরি হয়ে যাওয়া সোনার পুতুল খুঁজে পাওয়া গিয়েছে। একজন চোরকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। কিন্তু এখনো আসল চোরকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ জানিয়েছে যে তারা নাকি খুব তাড়াতাড়ি আসল চোরকে ধরে ফেলবে। আর একথা বলতেই আসল চোর কে তা বোঝা যাবে।'
     'কিন্তু কি করে?' -বললেন বিজয় চৌধুরী।
     - 'সে সময় মত বুঝতে পারবেন।'
     - 'তাহলে এখন কি করতে হবে আমায়?'
     - 'এখন আপনি সবাইকে ডেকে আপনার অভিনয় শুরু করে দিন।'
     - 'ঠিক আছে এখনই ওদের সবাইকে ডাকছি।'
     এইবলে বিজয় চৌধুরী সবাইকে ডেকে বিদ্যুতের কথামতো নাটক শুরু করে দিলেন। এরপর বিজয় চৌধুরী তার অভিনয় শেষ করে বিদ্যুতকে নিয়ে একটি রুমে চলে গেলেন। সেখানে গিয়ে বিজয় চৌধুরী খুব উত্তোলিত সাথে বললেন,-  'বিদ্যুৎ এবার কিভাবে বুঝবে যে কে চোর?'
     - ' বিদ্যুৎ একটু মুচকি হেসে বলল,- 'ওদের মধ্যে যে চোর সে এবার পাগলের মত ফোন করতে থাকবে তার গোপন ডেরায়। যেখানে বা  যার কাছে সে রেখেছে সেই সোনার পুতুলটি। কিন্তু কোনমতেই সে কারোর সাথে ফোনে যোগাযোগ করতে পারবে না।'
     - 'কিন্তু কেন পারবে না ফোনে যোগাযোগ করতে? ওদের সবার কাছে তো মোবাইল আছে।'
     - 'মোবাইল ফোন থাকলে বা কি হবে? একমাত্র আপনার সিম কার্ড ছাড়া এ বাড়িতে প্রত্যেকটি ফোনের সিম কার্ড বন্ধ করে দিয়ে এসেছি আমি। অবশেষে কোনভাবেই ফোন না করতে পেরে কোনো জরুরী দরকারে বাড়ি যাওয়ার জন্য ছলনা করে এখনি সে এবাড়ি থেকে বেরিয়ে যাবে। আর ঠিক সেই সময় তার পিছু পিছু আমরা ফলো করতে থাকব যতক্ষণ না সে তার গোপন ডেরায় পৌঁছায়। আর হ্যাঁ, একটা কথা বলে রাখি আসল চোর যখন আপনার বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসবে, তখন কোন ভাবেই আপনি রেগে গিয়ে তাকে ধরার চেষ্টা করবেন না। কারণ ওকে হয়তো বা আপনি ধরলেন, কিন্তু আপনার সোনার পুতুল যার কাছে রয়েছে সে নিশ্চয়ই চুপ করে থাকবে না। বন্ধুত্বের মায়া ছেড়ে লোভের নেশায় পালিয়ে যাবে দূর বহুদূর। অতএব আপনি আপনার সোনার পুতুল টি কখনোই ফিরে পাবেন না। অর্থাৎ খুব সাবধান!'
     এই বলে বিজয় চৌধুরী এবং বিদ্যুৎ সময়ের অপেক্ষা করতে লাগলেন। বলতে না বলতেই কয়েক মিনিট পর চোর এসে হাজির। চোর এসে প্রথমেই বিজয় চৌধুরী কে বলে যে আমার একটা জরুরী দরকার আছে। এখনই আমায় বাড়ি যেতে হবে। বিজয় চৌধুরী তাকে এক কথায় বলে দিলেন ঠিক আছে যাও। এতো সহজেই চোর ধরা পড়বে তা বিজয় চৌধুরী কখনোই কল্পনাও করেননি। আর এ তো দেখছি চোর একেবারে বিজয় চৌধুরীর সব থেকে কাছের লোক  তার ম্যানেজার অনিমেষ বাবু। সে শুধু চোর তা নয়। চোর এবং খুনি। প্রথমে চোরকে দেখে বিজয় চৌধুরী খুব খুশি হল। কিন্তু পরক্ষনেই তিনি রেগে আগুন হয়ে গেলেন। তার চোখ দুটি রক্তের মত লাল হয়ে উঠলো। তবুও তিনি মাথা ঠাণ্ডা করে ধৈর্য ধরে বসে রইলেন। তারপর অনিমেষ বাবু রুম থেকে বেরিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়লেন গাড়ি নিয়ে। এদিকে সঙ্গে সঙ্গে বিজয় চৌধুরী, তার স্ত্রী প্রতিমা চৌধুরী ও তার মেয়ে রীতা এবং বিদ্যুৎ গাড়ি নিয়ে অনিমেষ বাবুকে ফলো করতে শুরু করলেন। মারুতির পিছনের সিটে বসে আছে প্রতিমা দেবী ও রীতা। গাড়ি চালাচ্ছে বিদ্যুৎ এবং বিজয় চৌধুরী তার পাশের সিটে। দেখতে দেখতে গাড়ির গতি বেড়ে চলেছে কিন্তু রাস্তা শেষ হচ্ছে না। তারা এখন প্রায় এক ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালাচ্ছে। তবুও অনিমেষ বাবুর গাড়ি থামছে না। এভাবে আরও পনেরো মিনিট চালানোর পর দেখা গেল শহর ছাড়িয়ে কোন এক গ্রামে ঢুকে পড়েছে। তারা আর কিছুক্ষণ যেতেই বিদ্যুৎ বলল,- 'সামনে বিপদ ঘনিয়ে আসছে। এ তো দেখছি একেবারে মাটির সিঙ্গেল রাস্তা। এই রাস্তায় আমরা গেলে অনিমেষ বাবু বুঝতে পারবেন যে আমরা তাকে ফলো করছি।'
     এই বলে সজোরে ব্রেক কষে গাড়ি কয়েক সেকেন্ডের জন্য থামালো বিদ্যুৎ। তারপর আবার গাড়ি স্টার্ট দিয়ে চালাতে শুরু করলো। কিন্তু অনিমেষ  বাবুর গাড়ি এখন দেখা যাচ্ছে না। তবুও নিঃসন্দেহে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছে বিদ্যুৎ। কারণ একটাই তো  রাস্তা গুলিয়ে যাওয়ার কোনো সন্দেহ নেই। সুতরাং নির্ভর গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছে তারা। হঠাৎ তাদের সামনে একটা বিপদ দেখতে পেয়ে গাড়ি থামানো হলো। দেখা গেল সেই সিঙ্গেল নাস্তা আর সিঙ্গেল নেই। দুটি ভাগ হয়ে গিয়েছে। মানে দুই দিকে দুটি রাস্তা চলে গেছে। তাহলে তারা এখন কোন দিকে যাবে? ডান দিকে না বাম দিকে? তারা যে এখন বুঝতেই পারছে না অনিমেষ বাবুর গাড়ি কোন রাস্তায় গিয়েছে। হঠাৎ বিদ্যুৎ গাড়ি থেকে নেমে দুইদিকের রাস্তা দুটোই ভাল করে দেখল, সেখানে গাড়ির চাকার কোন ছাপ আছে কিনা। ভাগ্যক্রমে দেখা গেল গাড়ির চাকার স্পষ্ট ছাপ আছে একদিকে। কিন্তু একি? এতো দেখছি দুই দিকের রাস্তাতে একই রকম চাকার ছাপ রয়েছে। বিজয় চৌধুরী এবার তৎক্ষণাৎ গিয়ে তার গাড়ির টায়ারের ডিজাইন দেখে এসে দুটোই রাস্তাতেই মেলাতে লাগলেন। অবশেষে দেখা যায় বাম দিকের রাস্তার সঙ্গে বিজয় চৌধুরীর গাড়ির চাকার ছাপ পুরোপুরিভাবে মিলে যাচ্ছে। এবার বিজয় চৌধুরী বললেন,- 'আমি নিশ্চিত বিদ্যুৎ তুমি বাম দিকের রাস্তা ধরে এগিয়ে চলো। চিন্তার কোন কারণ নেই অনিমেষ বাবু এই রাস্তায় গিয়েছে। কারণ গত সপ্তাহে আমি আমার সব গাড়ির টায়ার বদলেছি। আর সব গাড়ির টায়ার গুলোই একই ডিজাইনের। আর অনিমেষ বাবু যে গাড়িটা চালিয়ে যাচ্ছে সেটা আমার গাড়ি। সুতরাং অনিমেষ বাবু এই রাস্তায় গিয়েছে।'
    সবশেষে ওই রাস্তা ধরেই আবার চলতে লাগলো বিদ্যুৎ। এক সময় একটা বড় ফাঁকা মাঠ পরল। সেখানে চোখে পরলো অনিমেষ বাবুর গাড়ি। এমন সময় দেখা গেল আরও একটি মারুতি অনিমেষ বাবুর গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে আছে। ওই গাড়ি দুটির সামনেই রয়েছে একটি ছোট জঙ্গল। এছাড়া চারিদিকে কোথাও কিছু নেই। এরপর তারা গাড়ি থেকে নেমে ওই ছোট জঙ্গলের ভেতরে ঢুকে দেখল একটি ছোট্ট দুতালা লাল রঙের বাড়ি তাল গাছের মতো দাঁড়িয়ে আছে। তারপর আস্তে আস্তে তারা সকলেই একের পর এক সেই বাড়িটির ভেতরে প্রবেশ করল এবং দেখল সেখানে কেউ নেই। তারপর হঠাৎ রীতা একটি সুরঙ্গ রাস্তা দেখতে পেল ওই বাড়ির এক কোনে। আস্তে আস্তে সবাই নিঃশব্দে সুরঙ্গর ভিতরে ঢুকে গেল ঠিক। তারপর দেখা গেল একটা রুমের মধ্যে অনিমেষ বাবু এবং আরো দুজন লোক সোনার পুতুল টি নিয়ে কি যেন আলোচনা করছে। আলোচনা শেষে সোনার পুতুলটি সেই দুই ব্যক্তি অনিমেষ বাবুর হাতে তুলে দিল। তারপর অনিমেষ বাবু যেই দরজা খুলে বাইরে আসল। সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুত ছুটে গিয়ে এক ধাক্কায় অনিমেষ বাবু কে মাটিতে ফেলে দিল আর সোনার পুতুলটি কেড়ে নিল। ওদিকে বিজয় চৌধুরী দরজাটা টেনে ধরে রইলেন যাতে না রুমের ভিতরে থাকা দুই ব্যক্তি বাইরে আসতে পারে। ওদিকে অনিমেষ বাবু তৎক্ষণাৎ একটি পিস্তল নিয়ে রীতার মাথায় ঠেকিয়া বললেন,- 'বিদ্যুৎ এখুনি সোনার পুতুলটি আমাকে দিয়ে দাও নাহলে রীতার মাথার খুলি উড়িয়া দেব।'
     সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ সোনার পুতুলটি ফিরিয়ে দিতে গিয়ে অনিমেষ বাবুকে এক লাথি মেরে পিস্তলটা সরিয়ে দিল রীতার মাথা থেকে। তারপর রীতা ভয়ে বিদ্যুৎকে জড়িয়ে ধরলো এবং বিদ্যুৎ সোনার পুতুলটি নিয়ে প্রতিমা চৌধুরীর হাতে দিয়ে পিস্তলটি নিয়ে অনিমেষ বাবুর দিকে উঁচিয়ে ধরে বলল,- 'খবরদার আর  এক পা নোরলে এই বন্দুক দিয়ে আপনার বুক ঝাঁঝরা করে দেব!'
     ওদিকে দরজার বাইরে থেকে কোনো ছিটকি নেই তাই বিজয় চৌধুরী দরজাটি শক্ত করো আটকে রইলেন। যেতে ভিতরের লোকগুলি বাইরে আসতে না পারে। হঠাৎ রুমের ভিতর থাকা এক ব্যাক্তি একটি পিস্তল নিয়ে সবে প্রতিমা চৌধুরীর দিকে তাগ করে গুলি করতে যাবে, অমনি একদল পুলিশ এসে বললেন,- 'স্টপ! স্টপ! স্টপ! পিস্তল ফেলো নাহলে এখুনি মাথার খুলি উড়িয়ে দেব!'
     এ'কথা বলতে সে পিস্তল ফেলে দিলো এবং পুলিশ তাদের তিন জনকে গ্রেফতার করল। আর বিজয় চৌধুরী বিদ্যুতের হাতটি এবং রীতার হাতটি ধরে এক করে দিয়ে বলল আমার মেয়ের জন্য এতদিন যাকে আমি খুঁজেছি তুমিই সে।