একটি কবিতা রচিত হয় নির্দিষ্ট বক্তব্যের পারিপাশ্বির্ক সমকালীন আর্থসামাজিক অবস্থা, বক্তব্যে কবির নিজের অবচেতন স্মৃতি , বাস্তবতা, কল্পনা আর একগুচ্ছ বাঁধনহারা আবেগ নিয়ে ।
     চলচ্চিত্র তৈরী হয় সেই বক্তব্যকে দৃশ্যপটে রূপান্তরিত করে । যার মধ্যে থাকে ক্যামেরার সুনির্দিষ্ট অর্থবহ চলন । সম্পর্কিত শব্দের অর্থবহ প্রকাশ এবং অভিনয় যা পরিপ্রেক্ষিতের দৃশ্যকল্পের সেই বক্তব্যকে দর্শকদের কাছে গ্রহণযোগ্য ও বাস্তবসম্মত করে তোলে ।
কিন্তু কবিতাকে যখন চলচ্চিত্রে পরিণত করা হয় তখন
চলচ্চিত্র তার নির্মানের সাধারণ নিয়ম মেনে চলতে অস্বীকার করে । সেই সময় কবির আবেগ ও বক্তব্যের স্বতন্ত্রতা রক্ষা করা পরিচালকের কাছে সবচেয়ে কঠিন হয়ে যায় ।
প্রতিচ্ছবি, শব্দ, দৃশ্য বিন্যাস, স্থির চলন অনেক সময় সিনেমাকে ধীর করে দেয় । আমরা রুশ চিত্র পরিচালক ' ANDRAY TARKOVSKI ' পরিচালিত সিনেমা যেমন 'MIRROR ' বা 'IVAN'S CHILDHOOD' তা দেখতে পাই । ইরানের বিখ্যাত পরিচালক ' ABBAS KIAROSTAMI 'তার কাব্যিক চলচ্চিত্রের জন্য ভীষণ জনপ্রিয় । কবিতা থেকে চলচ্চিত্র নির্মাণ প্রথম হয়েছিলো উনিশ শতকের মধ্যভাগে ফ্রেঞ্চ পরিচালকদের দ্বারা পরবর্তী সময়ে GERMINE DULAC , LAURENCE FERILINGHETTI, ALLEN GINSBERG কাব্যিক চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছিলেন ।। LAURENCE FERILINGHETTI র 'SMOTHERS BROTHERS ' একটি বিরল কাব্যিক চলচ্চিত্র ।


      1991 সালে বিখ্যাত নারীবাদী পরিচালক SANDRA LAHIRE পরীক্ষামূলক ভাবে 'CUT ' নামক একটি কাব্যিক চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন যা SYLVIA PLATH র বিখ্যাত কবিতা ' LADY LAZARUS 'থেকে অনুপ্রাণিত । তার সিনেমার মূল বিষয় ছিলো রূপকের ব্যবহার যা তার চলচ্চিত্র দর্শনকে বিশ্বব্যাপী হতে সাহায্য করে ।।


     কবিতার সিনেমাটিক প্রকাশে চিত্রপরিচালক সর্বদা শব্দের অর্থবহ উপস্থাপনা করে, আমরা যদি টারকোভস্কির Mirror চলচ্চিত্র দেখি সেখানে কোনো অভিনেতা ছাড়া শুধুমাত্র একটি ফাঁকা ঘরে ক্যামেরা চলন এবং শব্দের দ্বারা বিরল দৃশ্যকল্প সৃষ্টি করেছিলেন ।
Andray Tarkovsky তার Poetry imagery জন্য বিখ্যাত । তাকেই Slow cinema র জনক বলা হয় ।


    একাধিক ভারতীয় পরিচালক আছেন যারা কবিতাকে অনন্য দক্ষতায় চলচ্চিত্রে পরিণত করেছেন , তাদের মধ্যে অন্যতম ' মৃগাঙ্গ শেখর গাঙ্গুলী ' যিনি তার 'মেঘ বলেছে' চলচ্চিত্র জন্য বিখ্যাত হয়ে আছেন । তার উল্লেখযোগ্য কাজ হল ' ইতি অপু' । ' নন্দন সাকসেনা ' এই কাব্যিক চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য বিখ্যাত ।।


    কবিতা ও চলচ্চিত্র দুটি ভিন্ন শিল্প হলেও উদ্দেশ্য কিন্তু প্রায় এক বাস্তবকে মানুষের সামনে তুলে ধরা । সমকালীন সমাজ, শাসন, শোষণ , পরিবর্তিত আবেগ,
অধিকার এ সবই কবিতা ও চলচ্চিত্রের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
তাই কবিতায় মানুষের অবচেতন অবস্থা, বিচ্ছিন্ন বক্তব্যকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর সবচেয়ে উপযোগী মাধ্যম চলচ্চিত্র ।। বর্তমানে ডিজিটাল যুগে এই প্রয়াস যে আরো বৃহত্তর আকার নেবে তা বুঝতে বাকি থাকেনা ।।


আশাকরি এই আলোচনা আপনাদের ভালো লেগেছে ।
কমেন্ট করে জানাতে পারেন আপনাদের বক্তব্য । ধন্যবাদ ।।
*************************************