আমি একটি কলম খুব সাধারণ বস্তু,অধিগম্য,
আমার ব্যবহার-ই বুদ্ধিমত্তার পরিচয়  
আমি নির্দয় আঁচড়ে চূর্ণ বিচূর্ণ করে দিতে পারি
কাঁচের হৃদয় নিমিষেই,
আমি ভেঙ্গে দিতে পারি অজস্র শতাব্দীর মোহিত
কপোত কপোতীর সংসার
আমার আঘাতে বিবর্ণ হতে পারে হৃৎপিণ্ডের
রক্তস্নাত কাঙ্খিত ভালোবাসার রঙ।
  
আমি অস্পষ্ট অভিমানী রঙগুলো মেখে দিতে পারি
জীবনের বেদাগ ক্যানভাসের বুকে,  
আমি ভালোবাসার নিখুঁত গাঁথুনির  কারুকাজগুলো
এঁকে দিতে পারি সময়ের গালিচায়।
আমি উদ্ভুত মোহ-মুগ্ধতায় আবর্তিত করতে পারি  
নিমজ্জিত ভাবনার অথৈ সাগর
আমি খাদের অতলান্ত থেকে সৃষ্টি করে দিতে পারি  
পৃথিবীতে আদি অকৃত্রিম ইতিহাস।  


এই বুকের আকাশ থেকে উড়াতে পারি নভোযান
নেপচুন, প্লুটো, আর মঙ্গল গ্রহে
আমার ব্যবহার তোমার অস্তিত্বের অঙ্গীকার
আমি স্বর্গ ও নরকের পাহারাদার
আমার ভালোবাসায় তুমি হতে পারো বিশ্বজয়ী
ঘৃণায় নিঃশব্দে প্রস্থান অথৈ সাগরে
আমি পৃথিবীর বিধান আর সভ্যতার চাবিকাঠি
আমার বুকের প্রান্ত বেয়ে নেমেছে ঈশ্বর ধরণীতে
আমি গলার মালা, ফাঁসিকাষ্ঠের দড়ি।
___________________
রচনাকাল: আঁধার সন্ধ্যা ৯.৪৫ মিনিট
১১ মার্চ বৃহস্পতিবার ২০২১ খ্রিষ্টাব্দ
২৬-ই ফাল্গুন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ
গ্রিসের রাজধানী এথেন্স থেকে
© Copyright সংরক্ষিত ®